বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান এবং এ খাতে বহুজাতিক বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।
আগামী ২৯শে জুন বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চেম্বার আদালতের এ আদেশের ফলে সরকার ঘোষিত অফশোর বিডিং রাউন্ড ও বিদেশি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া আপাতত চলতে পারবে।
এর আগে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিকে সুযোগ দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন এবং কিছু নির্দেশনা দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ছাড়া গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা কঠিন। হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকলে সরকারের চলমান উদ্যোগ ব্যাহত হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪শে মে সরকার ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’ ঘোষণা করে। এর আওতায় বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লক ১৫টি গভীর সমুদ্র ও ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (IOC) কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়। সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সংশোধিত উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (PSC), কর-সুবিধা ও অন্যান্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও করেছে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, দেশে গ্যাস উৎপাদন ক্রমাগত কমছে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রাঞ্চলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উত্তোলনের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করাই সরকারের লক্ষ্য। এ অবস্থায় চেম্বার আদালতের সর্বশেষ আদেশে অফশোর অনুসন্ধান কার্যক্রমে বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণের পথে আপাতত কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। তবে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আগামী ২৯শে জুনের শুনানির পর।
