মনোরেল প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করল চসিক

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরে মনোরেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে করা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাতিল করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। মিসরভিত্তিক দুটি আন্তর্জাতিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে চুক্তি করা ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদিত প্রতিনিধি নন—এমন তথ্য পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বুধবার চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মনোরেল প্রকল্প-সংক্রান্ত সব সমঝোতা ও চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়।

চসিক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরে মনোরেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১ জুন কাউসার আলম চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। তিনি নিজেকে মিসরের শীর্ষ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওরাসকম কনস্ট্রাকশন এবং দ্য আরব কন্ট্রাক্টরসের অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কাছেও চিঠি পাঠানো হয়।

তবে গত ২২ জুন ঢাকাস্থ মিসর দূতাবাস বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানায়, কাউসার আলম চৌধুরীর সঙ্গে উল্লিখিত কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বমূলক বা চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক নেই। তিনি প্রতিষ্ঠান দু’টির পক্ষে আলোচনা, চুক্তি স্বাক্ষর কিংবা কোনো প্রকল্প প্রচারেরও অনুমোদনপ্রাপ্ত নন।
দূতাবাসের ওই তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চসিকের কাছে পৌঁছালে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট সব চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন।

চসিকের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে যিনি পরিচয় দিয়েছিলেন, তার পরিচয় ও ক্ষমতা সম্পর্কে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পূর্বে স্বাক্ষরিত এমওইউ ও সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র বাতিল করা হলো। এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অনুলিপি বিডা, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা বিবেচনায় শুধুমাত্র সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সমঝোতা স্মারক করা হয়েছিল। এতে সিটি করপোরেশনের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি। নতুন তথ্য পাওয়ার পর চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব নিয়ে আসে। প্রাথমিক পর্যায়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হলেও চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে সরকারি অনুমোদন ও যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় থাকে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Andalib

১ ঘন্টা আগে

সরকারের যারা যাচাই-বাছাই না করেই এমন সমঝোতা চুক্তি সই করেছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

মন্তব্য করুন