সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক–ই–ইলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে এ পর্যায়ে তিনি জামিন পাননি।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে তার পক্ষে দায়ের করা জামিন আবেদন শুনানির জন্য কার্যতালিকায় থাকলেও পরে তা কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে আবেদনটির ওপর কোনো আদেশ হয়নি এবং তৌফিক-ই-ইলাহীর কারামুক্তির সুযোগও তৈরি হয়নি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, দুটি মামলার একটিতে এফআইআর-এ তৌফিক ইলাহীর নাম ছিলো না। ঐ মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট করে ১ বছর ৭ মাস কারাগারে রাখা হয়েছে। আসামিকে এই মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েও স্বীকারোক্তি বা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবুও তাকে জামিন দেননি আদালত। এই মামলায় এফআইআরে নাম থাকা স্বত্বেও অনেকের জামিন হয়েছে। অন্য একটি মামলায় ২০২২ সালের ঘটনায় ২০২৪ সালের মামলার ৪ নম্বর আসামি ছিলেন তৌফিক এলাহী। এছাড়া ৪২ নাম্বার আসামি ছিলেন সাবেক এমপি সাবের হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য ৩০ জন এফআইআর নামীয় আসামি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। অথচ তৌফিক ইলাহীর জামিন প্রদান প্রশ্নে আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সিটিজেন। তার অসুস্থতা ও ৮২ বছর বয়স বিবেচনায় আদালত সিআরপিসি ৪৯৭ এর (১)(২) বিবেচনায় করে উচ্চ আদালত জামিন মঞ্জুর করতে পারতো। কিন্তু এটা না হওয়া খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এখন মামলাটি অন্য বেঞ্চে শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার জামিন আবেদন খারিজ হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জামিন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। হাইকোর্টে জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ পড়ায় আপাতত তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

মোঃ আতাউর রহমান
৪৯ মিনিট আগেবিদ্যুৎ খাতে এই লোকের দুর্নীতি পাহাড়সম। এই মানুষটি জামিন পেলে বুঝতে হবে বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবাজ আমলারা তদবির করে, বিচার বিভাগের দুর্নীতিবাজদের সহায়তায় জামিন পেয়েছে। সাধারণ ভাবে এই লোক জামিন পাওয়ার কথা নয়, আমৃত্যু জেলে থাকা উচিত।