ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ছাত্রদলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আংশিক কমিটি ঘোষণার পর পরই সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে পদবঞ্চনার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একাংশের নেতাকর্মীরা, অন্যদিকে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। গত সোমবার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ও সাধারণ সম্পাদক তানজিদুল হাসান কায়েস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে রেজাউল ইসলাম রাজকে সভাপতি এবং সোহেল মাতুব্বরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার একদিন পর গত মঙ্গলবার বিকালে সালথা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম অভিযোগ করেন, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে মনগড়া একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, একাধিক মামলা মোকাবিলা করা এবং দলের দুর্দিনে পাশে থাকা অনেক নেতাকর্মীর নাম নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি। এমনকি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তার নিজের নামও কমিটির কোনো পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্বের প্রতি কমিটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানান। এদিকে, নতুন কমিটি ঘোষণার পর উপজেলা ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মী ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমকে কোনো পদে না রাখায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি অংশও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন একই সময়ে সালথা বাজার এলাকায় নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেন। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের দাবি, জেলা নেতৃত্ব যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়েই নতুন কমিটি গঠন করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর কোনো সংগঠনের কমিটি গঠন হলে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
তবে সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রেখে মতপার্থক্য নিরসন করা নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। উপজেলা ছাত্রদলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এখন কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্ব বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং পদবঞ্চিতদের অভিযোগের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা, সেদিকেই নজর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের। এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু বলেন, ছাত্রদলের কমিটি সবসময় সমসাময়িক যোগ্য ছেলেদের নিয়েই করা হয়। এখানে ও তার ব্যত্যয় হয়নি।
