কলকাতায় দেয়াল সজ্জাকে ফিফা’র স্বীকৃতি

কলকাতায় দেয়াল সজ্জাকে ফিফা’র স্বীকৃতি

ফন্ট সাইজ:

বিশ্ব ফুটবলে ভারতের র‌্যাঙ্কিং নিচের দিকে হলেও ফুটবল নিয়ে ভারতে উন্মাদনা চিরকালীন। বিশেষ করে ফুটবল-প্রেমী বাঙালির কাছে বিশ্বকাপ মানেই অভূত-পূর্ব উন্মাদনার সময়। রাতজেগে খেলা দেখার পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় ফুটবল নিয়ে রাস্তার দু’পাশের বাড়ির দেয়াল সেজে উঠেছে নানা রঙের পতাকা ও বিশ্বকাপের ফুটবল তারকাদের ছবিতে। এলাকায় ঝোলানো হয়েছে, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের পতাকা।

এমনই একটি পাড়া উত্তর কলকাতার ফড়িয়াপুকুর এলাকা। এলাকার কিছু ফুটবল- প্রেমীর উদ্যোগে সেজে উঠেছে এলাকার দেয়াল। বিভিন্ন দল আর ফুটবলারের রঙে। আর সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা। এই প্রথম ভারতের কোনো ছবি শেয়ার করেছে ফিফা। ফড়িয়াপুকুরের জনা পনেরো কিশোর-যুবক যেভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে নিজস্ব ভাবনায় দেয়াল রাঙানোর কাজ করেছেন, তা দেখে মুগ্ধ ফিফাও। একটি গ্রাফিতির ছবি প্রকাশ করে তারা লিখেছে, ‘সরকারিভাবে ভারতে বিশ্বকাপ-পর্ব শুরু হয়েছে’।

এই শহরের ফিফা’র স্বীকৃতি পাওয়ায় কলকাতার ফুটবল- প্রেমীরা আবেগে ভাসছেন। প্রতি চার বছরে এই সময়টায় যেন নাগরিকত্ব বদলে ফেলে উৎসাহী মানুষ। কেউ ব্রাজিল, কেউ আর্জেন্টিনা। কেউবা পর্তুগালের সমর্থক হিসেবে গলা ফাটান। দেখা যায় জার্মানি-স্পেন-ইংল্যান্ড-ফ্রান্স অনুরাগীদেরও।

বিশ্বকাপের সময় পাড়াকে নিজেদের প্রিয় দলের রংয়ে রাঙিয়ে তোলাটাও নতুন কিছু নয় বাঙালির কাছে। আর পাড়া সাজানোর এহেন রেওয়াজ শুরু হলো কীভাবে? ফড়িয়াপুকুরের পাড়া সাজানোর ক্ষেত্রে রাজ কাহার জানিয়েছেন, ‘২০১০ সালে বিশ্বকাপের এক স্পন্সরের তরফে কলকাতায় পাড়া সাজানো নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। তখন থেকেই বিশ্বকাপে এগুলো করছি। গতবার পর্যন্ত সেই প্রতিযোগিতা হয়েছিল। এবার তেমন কিছু হয়নি। তবে আমরা রেওয়াজ বন্ধ করি নি।’
রাজ আরও বলেন, ‘ফিফা পোস্ট করার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি। দারুণ লাগছে। এটাও তো একপ্রকার স্বীকৃতি আমাদের কাজের। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। পাড়ার সবাই খুশি ফিফা’র পোস্ট দেখে।’

তবে নিজেদের শিল্পকে আর পাঁচটা পাড়ার সঙ্গে মেলাতে নারাজ ফড়িয়াপুকুরের ফুটবল- প্রেমীরা। তাদের বক্তব্য পাড়ার দেয়ালে আঁকা প্রতিটা ছবির নেপথ্যে বিশেষ ভাবনা রয়েছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনান্দো, লিওনেল মেসি আর নেইমারের ছবি প্রতিবার ঠাঁই পায় একই দেয়ালে। কারণ তারা মনে করেন, এই তিন নক্ষত্র ফুটবল গ্রহে চিরন্তন। তাই রোনান্দো-মেসি-নেইমারের ছবি আমরা প্রতিবার একই দেয়ালে আঁকি। আমরা মনে করি, ওদের বিকল্প নেই। তাই কিলিয়ান এমবাপ্পে-লামিন ইয়ামাল উঠে এলেও ওই তিনজনকে স্বতন্ত্র রাখি। জানি, পরের বিশ্বকাপে ওদের আর খেলতে দেখা যাবে না। কিন্তু ওই দেয়ালে রোনান্দো-মেসি- নেইমারের ছবি থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন