খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও রামগড় উপজেলায় পৃথক গোলাগুলির ঘটনায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)’র ২ সদস্য নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় একটি একে-৪৭ রাইফেলসহ একজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল সকালে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফ সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ববিন ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে মংসানু মারমা নামে একজনকে একটি একে-৪৭ রাইফেলসহ আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর সময় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ অবস্থায় আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হলে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং একে-৪৭সহ একজনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, একইদিন দুপুরের দিকে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুড়োগড়া এলাকায় আরেকটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সুজন চাকমা নামে একজন নিহত হন। স্থানীয়দের ধারণা, এলাকায় সক্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফ -জেএসএসের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। তবে এ ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপ। সংগঠনটির সংগঠক অংগ্য মারমা এক বিবৃতিতে দাবি করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এজন্য নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার বলেন, পৃথক ঘটনায় গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। দুই ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
