দীর্ঘ ১৩ বছর পর খেলোয়াড়ি জীবনের স্মৃতিঘেরা শহরে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। গতকাল দুপুর ২টার ফ্লাইটে জিম্বাবুয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছে দেশের ক্রিকেটারদের শেষ বহর। ১২ সদস্যের এই শক্তিশালী বহরে অন্যান্য কোচিং স্টাফদের সঙ্গে রয়েছেন দেশের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল। খেলোয়াড় হিসেবে জিম্বাবুয়ের মাটিতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অভিষেক হয়েছিল তার।
কাকতালীয়ভাবে খেলোয়াড় হিসেবে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটিও ছিল সেই মাঠেই। এবার চিরচেনা আঙিনায় নতুন ভূমিকায় ফিরছেন তিনি। এবার দায়িত্ব ব্যাটারদের পথ দেখানোর। দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলের সঙ্গে এমন সফরে যেতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি। ঢাকা ছাড়ার আগে আশরাফুল বলেন, ‘১৩ বছর পর আবার বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়ে সফরে যাচ্ছি। গত ৭ মাস ধরে দেশের মাটিতে দলের সঙ্গে কাজ করেছি। সব হোম সিরিজ শেষে এবার প্রথমবারের মতো কোচ হিসেবে বিদেশ সফরে যাচ্ছি। যেখান থেকে অনেক স্মৃতি তৈরি হয়েছে, সেখানেই আবার নতুন এক দায়িত্ব নিয়ে ফেরা।’
৪ বছর পর জিম্বাবুয়েতে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ১টি টেস্টের সঙ্গে থাকছে ৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। আগামী ২৮শে জুন একমাত্র টেস্ট ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে দু’দলের মাঠের লড়াই। তবে এই সফরের পুরো টি-টোয়েন্টি সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক বুলাওয়েতে। যে শহর থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন আশরাফুল। গতকাল শেষ ধাপে ঢাকা ত্যাগ করা ক্রিকেটারদের বহরে ছিলেন তাওহীদ হৃদয়, অমিত হাসান ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। মূলত পাকিস্তান সফরের টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া ৩ ক্রিকেটারকে ছাড়াই জিম্বাবুয়ে মিশনের পরিকল্পনা সাজিয়েছে নির্বাচক প্যানেল। এই সিরিজে খেলোয়াড়দের কাজের চাপ কমাতে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে। দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও গতি তারকা নাহিদ রানাকে ছাড়াই জিম্বাবুয়ে জয়ের মিশন শুরু করতে হচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে। তবে টেস্ট স্কোয়াডে ফিরেছেন হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদ। এদিকে ঘরোয়া লীগে ভালো পারফর্ম করে নতুন করে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ রবিউল হক। জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে লাল বলের লড়াইয়ে জয় পেতে দারুণ আশাবাদী অধিনায়ক শান্ত।
আসন্ন টেস্ট সিরিজে সফরকারীদের শক্তিশালী ব্যাটিং বিভাগের মূল ভরসা দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহীম। পাকিস্তান সিরিজে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখানো অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার এবারও জিম্বাবুয়েতে ব্যাট হাতে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছেন। এছাড়া ব্যাটিং অর্ডারে শক্তি জোগাবেন মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক সৌরভ ও তানজিদ হাসান তামিম। স্পিন আক্রমণে তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। দীর্ঘদিন পর ইনজুরি কাটিয়ে টেস্ট স্কোয়াডে গতি তারকা ইবাদত হোসেন চৌধুরীর ফেরাটা দলের পেস বোলিং বিভাগকে করবে আরও শক্তিশালী।
তরুণ ব্যাটার হৃদয় ও অমিত মিডল অর্ডারে শান্তর আস্থার প্রতিদান দিতে মরিয়া। গতকাল দুপুরে দেশ ছাড়ার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ক্রিকেটাররা ছিলেন বেশ চনমনে ও আত্মবিশ্বাসী। সাবেক তারকা আশরাফুলের অধীনে দলের তরুণ ব্যাটাররা আফ্রিকার বিরূপ কন্ডিশনে নিজেদের দারুণভাবে মানিয়ে নেবেন বলে বিশ্বাস টিম ম্যানেজমেন্টের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে প্রথম ভাগে ১৫ সাদস্য দুই দিন আগেই জিম্বাবুয়ে পৌঁছেছে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করে দ্বিতীয় ধাপে দলের সঙ্গে যোগ দিতে জিম্বাবুয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ দল। দুপুর ২টার ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তাওহীদ হৃদয়-অমিত হাসানরা। ১২ সদস্যের বহর রয়েছে এই ফ্লাইটে।
