সত্যিকারের কালো জাদুতেই কি আটকালো ইংল্যান্ড!

সত্যিকারের কালো জাদুতেই কি আটকালো ইংল্যান্ড!

ফন্ট সাইজ:

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে চোখধাঁধানো জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে ইংল্যান্ড। পাব-রেস্তরাঁয় বসে ইংলিশ সমর্থকরা বুঁদ হয়ে ছিলেন, ঠিক পরের ম্যাচেই যেন নেমে এলো এক চরম বাস্তবতা। বস্টন স্টেডিয়ামে ঘানার ইস্পাতকঠিন রক্ষণ, শারীরিক ফুটবল আর নিখুঁত কৌশলের সামনে আটকে গেল থমাস টুখেলের শিষ্যরা। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও, মাঠের ভেতরের লড়াইকে ছাপিয়ে এখন ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় চলছে ঘানার এক ‘উইচ ডক্টর’ বা ওঝার ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন যখন অবিশ্বাস্যভাবে এক সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে বল গ্যালারিতে ওড়ালেন, তখন গ্যালারির এক ইংলিশ সমর্থক পাশে বসা ঘানাইয়ান দর্শককে রসিকতা করে বলে ওঠেন, ‘তার মানে

জাদুটা আসলেই কাজে দিয়েছে!’ রসিকতা হলেও ম্যাচের আগে বৃটিশ ট্যাবলয়েড ‘ডেইলি স্টার’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘানার কুখ্যাত ওঝা নানা কোয়াকু বোনসাম (যার নামের অর্থ ‘বুধবারের শয়তান’) দাবি করেন, কেইনকে থামাতে তিনি কালো জাদু করেছেন। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে চোটে ফেলার দাবি করা বোনসাম বলেন, ‘কেইনের বড় ক্ষতি চাই না, শুধু ততটুকুই করবো যাতে ও আমার দেশের বিরুদ্ধে গোল করতে না পারে।’ পুরো ম্যাচে ঘানার ডি-বক্সে মাত্র দু’বার বল ছোঁয়া কেইনের মিস দেখে আফ্রিকান ফুটবলের এই প্রাচীন

‘জুজু’র ভূত নতুন করে ফিরে এসেছে আলোচনায়। অতীতে আফ্রিকান ফুটবলে মাঠের ভেতর এমন নানা পাউডার বা তাবিজে বিরক্ত হয়ে খোদ ক্যাফ (ঈঅঋ) ওঝাদের মাঠে ঢোকা নিষিদ্ধ করে। তবে মাঠের বাইরের এই জাদুবিদ্যার চেয়ে মাঠের ভেতরের রণকৌশল নিয়েই বেশি চিন্তিত বৃটিশ মিডিয়া। বিবিসি স্পোর্টসের প্রধান ফুটবল লেখক ফিল ম্যাকনাল্টি তার বিশ্লেষণে এই ড্র-কে ইংল্যান্ডের জন্য একটি ‘রিয়েলিটি চেক’ হিসেবে দেখিয়েছেন। তার মতে, ক্রোয়েশিয়ার হাই-প্রেসিং ফুটবলের বিপক্ষে ইংল্যান্ড যতখানি সাবলীল ছিল, ঘানার ৫-৪-১ ফরমেশনের ‘লো ব্লক’ ডিফেন্সের সামনে ততটাই দিকভ্রান্ত দেখিয়েছে তাদের। সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনির মতে, প্রতিপক্ষ যখন ডিফেন্সে পুরো বাস পার্ক করে বসে থাকে, তখন উইং দিয়ে ক্রস বাড়াতে হয়, যা ইংল্যান্ড করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

ইংলিশ মিডিয়ার একাংশ এখন প্রশ্ন তুলছে টুখেলের দল নির্বাচন নিয়ে। চেলসির কোল পালমার কিংবা ম্যানচেস্টার সিটির ফিল ফোডেনের মতো ক্রিয়েটিভ প্লেমেকারদের

অনুপস্থিতি এই ম্যাচে বড্ড বেশি চোখে লেগেছে। ঘানার চতুর কোচ কার্লোস কুইরোজ তো ম্যাচ শেষে খোঁচা দিয়ে বলেই দিয়েছেন, ‘ইংল্যান্ডের কাছে কোনো সমাধানই জানা ছিল না।’ উল্টো ম্যাচের শেষদিকে এজরি কনসা ঘানার ফরোয়ার্ড প্রিন্স আদুকে ডি-বক্সে ফাউল করলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। যা নিয়ে কুইরোজ মন্তব্য করেন, ‘মনে হচ্ছিল ভিএআর তখন কফি খেতে গিয়েছিল!’ বিবিসির বিশ্লেষণে সাবেক ইংলিশ গোলকিপার জো হার্ট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই

পারফরম্যান্স ফ্রান্স, স্পেন বা আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বসেরা দলগুলোর মনে কোনো ভয় ধরাতে পারবে না। মাঠের খেলায় হতাশা থাকলেও মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস অবশ্য আশাবাদী। ম্যাচ শেষে হেসে কেইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সব চেষ্টা করেও কাজ হয়নি, কে জানে হয়তো কালো জাদুই কাজ করছিল! তবে ভয়ের কিছু নেই, পানামার বিপক্ষে জিতেই আমরা গ্রুপ সেরা হবো।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন