আরও একটি রেকর্ড ভাঙা-গড়ার ঐতিহাসিক রাত প্রত্যক্ষ করলো ফুটবল বিশ্ব। আর এই মহাকাব্যিক মঞ্চটা নিজের করে নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ মহাতারকার দুর্দান্ত জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে পর্তুগাল। সহজ ক’টি সুযোগ হাতছাড়া না করলে হ্যাটট্রিকও তুলে নিতে পারতেন সিআর সেভেন। তবে জোড়া গোলেও যে মাহাত্ম গড়েছেন, তা-ও বা কম কিসে! স্থানীয় সময়ে ২৩ জুনের এই ম্যাচে ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সী রোনালদো যেন শুধু মাঠেই নামেননি, নেমেছিলেন ফুটবল ইতিহাস নতুন করে লিখতে।
ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬- টানা ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন রোনালদো। তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিও ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। তবে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার সানিধ্যে ২০১০ আসরে কোনো গোল করতে পারেননি তিনি। একইসঙ্গে, মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে জোড়া গোল করার রেকর্ডও এখন পর্তুগিজ অধিনায়কের। ক্যামেরুনের রজার মিলার (৪২ বছর) পর তিনি এখন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা। এই ম্যাচে একাদশে থাকা উজবেকিস্তানের বেখরুজ কারিমভের সঙ্গে রোনালদোর বয়সের ব্যবধান ছিল ২২ বছর ১৮৩ দিন।
এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধানের রেকর্ড। সেইসঙ্গে, ডেনমার্কের মাইকেল লাউড্রপ ও মেসির পর বিশ্বের মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজ দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা হওয়ার এক অনন্য কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন রোনালদো। উজবেকিস্তান হলো ৪৯তম দেশ, যাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গোল করলেন সিআরসেভেন। এখন ২৩০ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা অবিশ্বাস্য ১৪৫! তার পেছনে ছুটতে থাকা মেসি ২০১ ম্যাচে করেছেন ১২২ গোল। এছাড়া বিশ্বকাপে ২৪টি ম্যাচ খেলা রোনালদো লোথার ম্যাথাউসকে (২৫) ছুঁয়ে ফেলার দ্বারপ্রান্তে। তবে সেদিক থেকে শীর্ষে থাকা মেসিকে (২৮) ছুঁতে বেগ পেতে হতে পারে রোনালদোর। কিংবদন্তি ইউসেবিওকে (৯) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন তিনি।
