গোলকিপিং ছেড়ে উইঙ্গার এখন বিশ্বকাপের নায়ক!

গোলকিপিং ছেড়ে উইঙ্গার এখন বিশ্বকাপের নায়ক!

ফন্ট সাইজ:

কলম্বিয়া দলের লুইস দিয়াজ আর হামেস রদ্রিগেজের ভিড়ে অনেকটা আড়ালে থাকেন ডেনিয়েল মুনোজ। তবে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠ কাঁপালেন ৩০ বছর বয়সী এ উইঙ্গার। কলম্বিয়ার হয়ে করেন জয়সূচক গোল। ছেলেবেলায় গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে গোল আটকাতেন মুনোজ। সেই ছেলেই বিশ্বকাপে গোল করে কলম্বিয়া সমর্থকদের কাঁদালেন আনন্দে। ‘কফি গ্রোয়ার্স’দের শেষ ষোলোয় তুললেন এই রাইটব্যাক।
ছোটবেলায় গোলরক্ষক হিসেবেই ফুটবলে হাতেখড়ি মুনোজের।

কিন্তু একসময় সিদ্ধান্ত নিলেন গোলপোস্ট ছেড়ে মাঠে নামবেন। ধীরে ধীরে রাইটব্যাক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুললেন। বেলজিয়ামের জেনকে ক্লাবে চার মৌসুমে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় খেলে করেন ১৯ গোল আর ২০ অ্যাসিস্ট। ম্যাচের শুরুতে একবার জালে বল পাঠান মুনোজ। অষ্টম মিনিটে ভিএআর রিভিউতে অফসাইডে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। এরপর কঙ্গোর হয়ে লড়লেন কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি। মোট আটটি সেভ দেন তিনি। যার পাঁচটিই প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জ্যামাইকার ওয়ারেন ব্যারেটের পর তিনিই প্রথম গোলরক্ষক, যিনি ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে পাঁচটি সেভ করার রেকর্ড গড়েন। কঙ্গোর দেয়াল ভাঙে ৭৬ মিনিটে। লেরমার কাছ থেকে বল পেয়ে কোয়ান্তেরো পাস বাড়ান কর্ডোবার উদ্দেশ্যে।

কর্ডোবা বলটি মুনোজের দিকে ঠেলে দিলে প্রথম স্পর্শেই বল জালে জড়ান ক্রিস্টাল প্যালেস ডিফেন্ডার। বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে গোল করে রেকর্ড গড়লেন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার ড্যানিয়েল মুনোজ। ২০১৮ সালে ইয়েরি মিনার পর প্রথম কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার হিসেবে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। সব মিলিয়ে কলম্বিয়ার চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি।
ম্যাচসেরা মুনোজ বলেন, ‘গোল করেছি বলেই আমি স্টার নই। আমরা সবাই স্টার। এই তিন পয়েন্ট আমরা সবাই মিলে অর্জন করেছি। এটা একটা পরিবার। এখানে স্টার একজনই- কলম্বিয়া।’ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়েও প্রথম গোলটি ছিল মুনোজের। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় রানার্সআপ হওয়া কলম্বিয়া দলের সদস্য তিনি। টুর্নামেন্টে দুটি গোল পেয়েছিলেন মুনোজ। জাতীয় দলে এখন পর্যন্ত ৪৬ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন তিনি। ২০২৩ সালে ক্রিস্টাল প্যালেসে আসার পর প্রিমিয়ার লীগে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। করেছেন ১১ গোল আর ১৬ অ্যাসিস্ট।

ফিফা বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আফ্রিকান দেশগুলোর বিপক্ষে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে কলম্বিয়া। এর মধ্যে চারটিতেই জয় পেয়েছে তারা। ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের বিপক্ষে পাওয়া পরাজয়টি এই ফরম্যাটে তাদের একমাত্র হার। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজের ১০ম ম্যাচটি খেলেন হামেস রদ্রিগেজ। এর মাধ্যমে তিনি কার্লোস ভালদেরামা এবং ফ্রেডি রিনকনের পাশে বসে কলম্বিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে ভাগ বসান। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে কলম্বিয়া মোট ২০টি শট নিয়েছে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ২১টি শট নেয়ার পর এটিই কোনো একক বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ শট নেয়ার রেকর্ড। এবারের বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গো এখন পর্যন্ত দুই গোল হজম করেছে। ১৯৭৪ সালে জায়ার নামে অংশ নিয়ে প্রথম দুই ম্যাচে তারা ১১ গোল হজম করেছিল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন