কুষ্টিয়া কর অঞ্চল কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় চাকরিপ্রার্থীদের হয়ে প্রক্সি দিতে গিয়ে চার যুবক আটক হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকালে অফিস সহায়ক পদে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষার সময় তাদের সন্দেহজনক আচরণ নজরে এলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে প্রবেশপত্রের ছবিতে জালিয়াতি এবং অন্য প্রার্থীর হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। আটককৃতরা হলো- চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. খালিদ বিন ওয়ালিদ (২৫), কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মো. হান্নান আলীর ছেলে মো. মুন্না ইসলাম (২৩), তারাগুনিয়া গ্রামের মো. ইলিয়াস হোসেনের ছেলে মো. সাগর হোসেন (২৪) এবং বড়গাংদিয়া গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে মো. নাজমুল হোসেন (২৮)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সময় কয়েকজন পরীক্ষার্থীর আচরণ কর্তৃপক্ষের সন্দেহের উদ্রেক করে। পরে তাদের পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করা হলে প্রবেশপত্রে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের অমিল ধরা পড়ে। আরও তদন্তে জানা যায়, তারা প্রকৃত চাকরিপ্রার্থীদের পরিবর্তে প্রক্সি হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা অন্যের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। পরে রাতেই তাদের কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানোর সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে।
এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কর অঞ্চল- কুষ্টিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ই মে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্য থেকে ছয়টি পদে মোট ১২২ জনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৭ই মে থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। গত ১৯শে জুন অফিস সহায়ক পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং মঙ্গলবার ওই পদের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হচ্ছিল। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছেন। আটক চারজনকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে কর অঞ্চল- কুষ্টিয়ার কর কমিশনার মহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
