হাতের স্পর্শে উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

হাতের স্পর্শে উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

ফন্ট সাইজ:

খুলনার কয়রা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন মাদারবাড়িয়া হতে রোনবাগ অভিমুখে একটি সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা। শুধু তাই নয় প্রাইমকোড ছাড়াই সড়কটিতে পিচ ঢালাই দেয়ার সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন কাজ ফেলে চলে গেছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর মাদারবাড়ী সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার সড়ক এবং হড্ডা-বেদকাশী সড়ক পাকাকরণের (কার্পেটিং) কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স।

সড়ক দুটি নির্মাণে প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। ২০২৪ সালের ৩রা এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ১৪ই নভেম্বর প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার কথা। তবে মেয়াদের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে প্রকল্পটি রিপেকেজিং হয়ে হড্ডা-বেদকাশী সড়ক বাদ দিয়ে উত্তর মাদারবাড়ী সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য সময় বাড়ানো হয় এবং বরাদ্দ কমানো হয়। তবে অফিসে গিয়েও বর্ধিত সময় ও বরাদ্দের তথ্য পাওয়া যায়নি। সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৫০০ মিটারের মতো রাস্তায় পিচের ঢালাই দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে চারটি স্থানে পিচ উঠানো দেখা যায়। গাইডওয়ালের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেখানে আব্দুর রহমান সরদার, আল আমিনসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সড়ক নির্মাণে পাথরের মিশ্রণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে না।

দায়সারা প্রাইম কোড দিয়ে পিচ ঢালাই দেয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গেলে সংশ্লিষ্টরা কোনো সদুত্তর না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পিচ ঢালাইয়ের সময় এলজিইডি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ সময় তাদের কাজের স্থানে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ তদারককারী (সাব-ঠিকাদার) হাসান শেখ বলেন, ঠিকমতো প্রাইম কোড করা হয়েছিল, তবে বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ধুয়ে গেছে। আমরা ১৮ মাইল এলাকার বাবলু ভাইয়ের প্লান্ট থেকে মিশ্রণ এনে কাজ করছি। যেসব স্থানে ত্রুটি হয়েছে সেগুলো সমাধান করে দেয়া হবে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব বলেন, রাস্তার ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি, বিটুমিনের রাস্তা জমাট বাঁধতে কিছুদিন সময় লাগে।

কিছু অংশে প্রাইমকোড করা হয়েছিল। সেখানে পরিমাণে কম দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ত্রুটিপূর্ণ স্থানে পুনরায় প্রাইমকোড করে ঢালাই দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ তদারককারী (সাব-ঠিকাদার) হাসান শেখ বলেন, যেসব স্থানে ত্রুটি হয়েছে সেগুলো সমাধান করে দেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন