হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার স্বামী ও ভাসুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহলুল সুনাম গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মমিনের ছেলে আব্দুল মন্নানের সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে রিফা আক্তার (২৫)-এর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও সম্প্রতি স্বামী আব্দুল মন্নান এক অন্য নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। নির্যাতিতার পরিবার জানায়, একপর্যায়ে ইমু অ্যাপে ওই নারীর সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি রিফার নজরে আসে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর প্রায়ই পারিবারিক কলহ চলতে থাকে। ঘটনার জের ধরে গত ১৪ই জুন গভীর রাতে স্বামী তার দুই ভাইসহ কয়েকজন মিলে রিফাকে ঘরের ভেতর আটকে রাখে।
পরে তার হাত-পা বেঁধে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে রিফার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর কিছুটা সুস্থ হলে তিনি গত ২২শে জুন শায়েস্তাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত সোমবার রাতে অভিযুক্ত স্বামী ও তার ভাই ওয়াহিদকে গ্রেপ্তার করে। পরে মঙ্গলবার বিকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নারী নির্যাতনের এমন নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। শায়েস্তাগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলায় অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
