জাপান-সুইডেন দ্বৈরথে চোখ

জাপান-সুইডেন দ্বৈরথে চোখ

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপে জমে উঠেছে ‘এফ’ গ্রুপের লড়াই। শেষ ম্যাচের আগে গ্রুপসেরা হওয়ার দৌড়ে টিকে আছে তিন দলই- নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন। দুই ম্যাচ শেষে সমান চার পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে নেদারল্যান্ডস, তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে জাপান। তিন পয়েন্ট নিয়ে সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে সুইডেনও। নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ ইতোমধ্যে বিদায় নিশ্চিত করা তিউনিসিয়া। ফলে ‘এফ’ গ্রুপের সব হিসাব যেন এসে ঠেকেছে জাপান-সুইডেন দ্বৈরথে। ডালাস স্টেডিয়ামে কাল ভোর ৫টায় শুরু হবে ম্যাচটি। একই সময়ে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস।

পয়েন্ট তালিকায় সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে জাপান ও নেদারল্যান্ডস। নকআউটে যেতে এক পয়েন্টই যথেষ্ট তাদের। জাপান ও নেদারল্যান্ডস উভয়েই যদি নিজ নিজ খেলায় জেতে তখন গোল ব্যবধানের হিসাব আসবে। যারা এগিয়ে থাকবে তারা চ্যাম্পিয়ন হবে। তবে গোল ব্যবধানও যদি সমান হয় তখন দেখা হবে কে বেশি গোল করেছে। এই মুহূর্তে জাপানের চেয়ে এক গোলে এগিয়ে রয়েছে ডাচরা। সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বিধ্বংসী জয়ে রীতিমতো উড়ছে কোচ রোনাল্ড কোমানের শিষ্যরা। মাঠে নামার আগে তিউনিসিয়াকে যেন প্রচ্ছন্ন হুমকিই দিলেন কোমান। তিনি বলেন, ‘সুইডেনের বিপক্ষে এতগুলো গোল করার পর প্রতিপক্ষ আমাদের নিয়ে ভয় পাবে। আমাদের দল গতি আর কোয়ালিটিতে ভরপুর। যখন আমরা আক্রমণে যাই বিপজ্জনক হয়ে উঠি।’

জাপান-নেদারল্যান্ডসের তুলনায় সুইডেনের জন্য সমীকরণটা একটু কঠিন। সরাসরি নকআউটে সুযোগ পেতে জিততেই হবে তাদের। আর জয়ের সঙ্গে যদি ডাচদের পয়েন্ট খোয়ানোর আশাটা কোনোভাবে পূরণ হয় সুইডেনের, তাহলে তো পোয়াবারো। গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২-এ চলে যাবে। নেদারল্যান্সের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার ধকল কাটিয়ে জাপান ম্যাচে পূর্ণ মনযোগ সুইডেন শিবিরের। ব্লু সামুরাইদের কীভাবে আটকানো যায় সেই ফন্দি আঁটছেন কোচ গ্রাহাম পটার। তিনি বলেন, জাপান খুব সংগঠিত দল। খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সমঝোতা ভালো। ফলে জায়গা ছেড়ে দিলে বিপদে পড়তে হবে। রক্ষণ সংহত রাখা জরুরি। সঙ্গে আক্রমণও শানাতে হবে।

আক্রমণভাগে সুইডেনের ভরসার নাম আলেকজান্ডার ইসাক-ভিক্টর গিয়োকেসের জুটি। তাদের নিয়ে ভয় জাপানের। ডিফেন্ডার শোগো তানিগুচি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দুই স্ট্রাইকার তারা, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের স্বস্তিতে খেলতে না দেওয়াই হবে আমাদের লক্ষ্য।’ বিশ্বকাপে এটাই দু’দলের প্রথম সাক্ষাত। এর আগে চারটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় তারা। চার ম্যাচই শেষ হয় সমতায়।

গ্রুপ ‘এফ’ সমীকরণ
নেদারল্যান্ডস: দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নেদারল্যান্ডসের। জাপানের সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে শীর্ষে ডাচরা। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জিতলে এবং জাপান পয়েন্ট হারালে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে নেদারল্যান্ডস। সুইডেন জিতলে ড্র করেও উতরে যাবে ডাচরা। আর জাপানের জয়ে হেরেও নকআউটে যাবে।
জাপান: জয় কিংবা ড্রয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত। নেদারল্যান্ডস হোঁচট খেলে জাপানের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ারও সুযোগ রয়েছে। আর হারলেও তৃতীয় স্থানধারী দলের তালিকায় ভালো অবস্থানে থাকবে এশিয়ান জায়ান্টরা।
সুইডেন: অটোমেটিক কোয়ালিফাই করতে জাপানের বিপক্ষে জয় চাই। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে নেদারল্যান্ডস পয়েন্ট খোয়ালে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে সুইডেন।

তিউনিসিয়া: দুই ম্যাচে -৮ গোল ব্যবধান থাকায় তিউনিসিয়া ছিটকে গেছে আগেই।

নকআউটে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ: শেষ ৩২ রাউন্ডে ‘এফ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দল ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের মুখোমুখি হবে। আর রানার্সআপ দল খেলবে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে। ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড রয়েছে গ্রুপটিতে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন