চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে খালাস না হওয়া কন্টেইনার অপসারণ এবং বন্দর ইয়ার্ডের চাপ কমাতে ৩৭ লট পণ্য নিলামে তুলছে কাস্টমস। বুধবার দরপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ছিল। এর আগে ২রা জুন সকাল ৯টা থেকে অনলাইন দরপত্র গ্রহণ শুরু হয়েছিল। চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখা সূত্রে জানা গেছে, নিলামে বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও ভোগ্যপণ্য তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেব্রিক্স, হার্ডউড ক্র্যাফট, ভেজিটেবল কাটার, কি-রিং, মেটাল হ্যাঙ্গার, ব্রিকস, নাইফ, রাবার চিপস, ইউপিভিসি ফিটিংস, পিভিসি ওয়াটার পাইপ, সুইমিং পুল পাম্প, ফায়ার অ্যালার্ম কন্ট্রোল প্যানেল, রিলিফ গুডস, কোটেড ডুপ্লেক্স বোর্ড, বিয়ারিং, সার্জিক্যাল মাস্ক এবং চেস্ট ফ্রিজারসহ বিভিন্ন পণ্য।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, বন্দরে জমে থাকা খালাসবিহীন পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিয়মিত নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য নিলামের পাশাপাশি অনলাইন নিলামের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে, যাতে দ্রুত পণ্য বিক্রি এবং রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী পচনশীল পণ্য দ্রুত নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও অতীতে বাস্তবায়নে ধীরগতি ছিল। ফলে অনেক খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো ধ্বংস করতে হয়েছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারিয়েছে, তেমনি পণ্য ধ্বংসে অতিরিক্ত ব্যয়ও বহন করতে হয়েছে। বর্তমানে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নিলামযোগ্য পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘নিলাম কাস্টমসের একটি চলমান কার্যক্রম। এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হয়েছে।
এর মাধ্যমে খালাসবিহীন পণ্য বিক্রি করে সরকার রাজস্ব আয় করছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ৩৭ লট পণ্য অনলাইন নিলামে তোলা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, কাস্টমস আইন অনুযায়ী আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে খালাসের পর ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে তা গ্রহণ করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস না হলে কাস্টমস নোটিশ জারি করে। নোটিশ দেয়ার ১৫ দিনের মধ্যেও পণ্য গ্রহণ না করা হলে অথবা মিথ্যা ঘোষণার কারণে জব্দ হওয়া পণ্য হলে তা নিলামে তোলার বিধান রয়েছে।
