রাষ্ট্রদূত বললেন মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনায় আছি

ঢাবিতে বিশ্বকাপ উন্মাদনা

রাষ্ট্রদূত বললেন মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনায় আছি

ফন্ট সাইজ:

ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। আর আর্জেন্টিনার খেলা হলে তো কথাই নেই। ল্যাটিন আমেরিকার দলটির প্রতি ভালোবাসা দেখে মুুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। বলেছেন, মনে হচ্ছে আমি আর্জেন্টিনায় আছি। সোমবার রাত ১০টার দিকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল মাঠে উপস্থিত হন। সময় কাটান আর্জেন্টাইন ফ্যানদের সঙ্গে। রাত ১১টায় শুরু হওয়া আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার খেলাটি বড় পর্দায় উপভোগ করেন তিনি। এসময় মাঠ জুড়ে থাকা শত শত আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসি সমর্থকের উল্লাস-উদ্দীপনা হৃদয় ছুঁয়ে যায় তার। ম্যাচকে ঘিরে মুহসীন হল ছাত্রদলের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, আমি অনেক আর্জেন্টাইন জার্সি ও ভক্তদের দেখতে পাচ্ছি।

আমি নিজের দেশের মতো অনুভব করছি। মনে হচ্ছে, আমি আর্জেন্টিনায় আছি। এসময় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন ইনফ্লুয়েন্সার রুলি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, তোমাকে ভালোবাসি। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বেশ কয়েকজন আর্জেন্টাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সাংস্কৃতিক দূত ও অতিথি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

বিশ্বকাপকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। টিএসসি, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল, জগন্নাথ হল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, কবি জসীম-উদ্‌-দীন হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে। রাত-বিরাতে ম্যাচ হলেও দর্শকদের উপস্থিতিতে সরগরম থাকছে বেশ। হলভিত্তিকভাবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স ও পর্তুগালের সমর্থকদের ফ্যান ক্লাব গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন হল ও আবাসিক ভবনে প্রিয় দলের পতাকা টানানো হয়েছে, কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে দেয়ালচিত্র ও ব্যানার। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সমর্থকরা মিছিল ও র‍্যালি করে নিজেদের দলের প্রতি সমর্থন জানান দিচ্ছেন।

তর্ক-বিতর্ক, খুনসুটি, জার্সি পরিহিত শিক্ষার্থীদের পদচারণা এবং ম্যাচ ঘিরে রাতভর আড্ডায় পুরো ক্যাম্পাস যেন এক বৈশ্বিক ফুটবল উৎসবে পরিণত হয়েছে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার চিরাচরিত দ্বৈরথের পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও মরক্কোর সমর্থকরাও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। ফলে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে এক প্রাণবন্ত, বহুজাতিক ও মিলনমুখর সাংস্কৃতিক আবহ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন