বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এমপি মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। অতি অল্প সময়ে তিনি সুস্থ হয়ে সংসদে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানতে চেয়েছেন পটুয়াখালী-২ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের করা প্রশ্নের জবাবে স্পিকার এ তথ্য দেন। মঙ্গলবার অধিবেশনে শফিকুল ইসলাম পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সরকারদলীয় দুই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি ও মামলা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে তাদের বর্তমান অবস্থান এবং বিভিন্ন গুজব ও আলোচিত কিছু বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদকে জানানো দরকার বলে মন্তব্য করেন। তখন স্পিকার বলেন, এগুলো কোনো পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় নয়।
গুজব প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, কে কী বলেছে, কার সম্পর্কে কী বোঝায়, এসব নিয়ে জাতীয় সংসদের সময় নষ্ট করা যায় না। আর যেসব বিষয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, সেসব বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে। কারও সংসদ সদস্যপদ নিয়ে সাংবিধানিক বা আইনি কোনো সিদ্ধান্ত হলে সংসদকে যথাসময়ে তা অবহিত করা হবে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংসদের সময় ব্যয় না করার এবং পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের ক্ষেত্রে চলমান ও সংসদ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এর আগে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, মির্জা আব্বাস দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংসদের অভিজ্ঞ সদস্য। তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা, শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং কবে তিনি সংসদে যোগ দিতে পারবেন এ বিষয়ে সংসদকে অবহিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যয়ের বক্তব্য এবং সর্বশেষ শরীফ ওসমান হাদির বিচার সংক্রান্ত যে আলোচনা ও গুজব ছড়িয়েছে, সে বিষয়েও সংসদকে অবহিত করা প্রয়োজন। আমি এই তিনটি বিষয় সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য উত্থাপন করছি। এ সময় চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, আদালতে বিচারাধীন বিষয় ও গুজব নিয়ে সংসদে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। পয়েন্ট অব অর্ডারের নামে সংসদের মূল্যবান সময় যাতে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে ব্যয় না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
