বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষ মুকুট পরবে কে? কানাডা-সুইজারল্যান্ড দু’দলেরই সুযোগ রয়েছে। তবে স্বাগতিকরা সুবিধাজনক স্থানে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের দরকার কেবল একটি ড্র। এক পয়েন্ট পেলেই ইতিহাস গড়বে কানাডা। প্রথমবারের মতো তারা খেলবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। শীর্ষস্থান পেতে সুইসদের জয়ই লাগবে। ড্র করলেও অবশ্য দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত। টানা ছয়টি আসরে নকআউটে খেলার গৌরব অর্জন করবে সুইসরা।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও কাতারের জন্য সমীকরণটা আবার এত সহজ নয়। সরাসরি শেষ ৩২-এর টিকিট পেতে জয়ের পাশাপাশি ভাগ্যেরও সহায়তা চাই তাদের। সিটল স্টেডিয়ামে অভাবনীয় কিছুর প্রত্যাশা নিয়ে রাত ১টায় মুখোমুখি হবে কাতার-বসনিয়া। একই সময়ে ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে শুরু হবে কানাডা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচটি । সুইসদের বিপক্ষে এর আগে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছে কানাডা। ২০০২ সালের ওই প্রীতি ম্যাচে ৩-১ গোলে জয়লাভ করে তারা।
এর আগে দুটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ছয়টি ম্যাচই হেরেছিল কানাডা। ঘরের মাঠে ইতিহাস বদলে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে দলটি। কোচ জেসি মার্শের শিষ্যরা শুরুটা ড্র দিয়ে করলেও কাতারকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রথম জয় তুলে নেয়। তবে জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে যায় মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনের ইনজুরি। পা ভেঙে আসর থেকেই ছিটকে গেছেন তিনি। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা জোনাথন ডেভিড জানান, কোনের জন্যই নকআউটে যেতে চান তারা। ডেভিড বলেন, ‘কঠিন মুহূর্ত ছিল। কিন্তু আমাদের শক্ত থাকতে হবে। তার জন্যই এটা (পরের রাউন্ডে যাওয়া) করতে হবে।’ কোচ মার্শও মনে করেন, কোনো ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কোনের পজিশনে দেখা যাবে নাথান সালিবাকে। এছাড়া প্রথমবার মাঠে নামতে পারেন অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস।
‘বি’ গ্রুপ: কার কী প্রয়োজন
কানাডা (৪ পয়েন্ট)
এক পয়েন্ট পেলেই নকআউট নিশ্চিত কানাডার। হেরে গেলেও দ্বিতীয় সাধারণত দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখবে। সেক্ষেত্রে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে বড় ব্যবধানে জিততে হবে যাতে তারা ৯ গোলের ব্যবধানের ঘাটতি পুষিয়ে কানাডাকে টপকাতে পারে।
সুইজারল্যান্ড (৪ পয়েন্ট)
জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। ড্রয়েও নকআউট নিশ্চিত সুইজারল্যান্ডের। এমনকি হারলেও দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখার সম্ভবনাই বেশি। কারণ কাতারকে তখন শুধু জিতলেই হবে না, গোল ব্যবধানেও সুইসদের ছাড়িয়ে যেতে হবে।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনা (১ পয়েন্ট)
জিতলে অন্তত তৃতীয় স্থান নিশ্চিত। দ্বিতীয় হতে হলে নিজেদের জয়ের পাশাপাশি কানাডার হার এবং বিশাল গোল ব্যবধান ঘোচাতে হবে।
কাতার (১ পয়েন্ট)
জিতলে অন্তত তৃতীয় হবে। তবে দ্বিতীয় হতে গেলে নিজেদের জয়ের পাশপাশি সুইজারল্যান্ডকে হারতে হবে এবং গোল ব্যবধানেও কাতারকে এগিয়ে থাকতে হবে।
