ভারতের পুনের কাছে লোহগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের সময় ছবি তোলার মুহূর্তে পাহাড়ি খাদে পড়ে মৃত্যু হওয়া কেতন আগরওয়ালের ঘটনা এখন ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। পুলিশের দাবি, এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ, ভুক্তভোগীর বাগদত্তা ও তার প্রেমিক মিলে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কেতনকে তার বাগদত্তা ও প্রেমিক মিলে পাহাড়ের গভীর খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে পারে। ঘটনাটিকে পুলিশ “উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, কেউ কীভাবে
এতটা নির্মম হতে পারে?
কী ঘটেছিল
কেতন আগারওয়াল গত ১৮ জুন তার বাগদত্তা সিয়া গয়ালের জন্মদিন উপলক্ষে লোহগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে যান। তাদের নভেম্বর মাসে বিয়ের পরিকল্পনা ছিল।
প্রথমে সিয়া গয়াল পুলিশকে জানান, ছবি তোলার সময় কেতন পা পিছলে খাদে পড়ে যান। তিন ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে কেতনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তবে লোনাভালা গ্রামীণ পুলিশ তদন্তে অসঙ্গতি খুঁজে পায়। মোবাইল ডেটা, কল রেকর্ড এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণে সন্দেহ বাড়ে। এরপরেই পুলিশ সিয়া ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে আটক করে।
তদন্তকারীদের মতে, তারা দু’জন মিলে কেতনকে পাহাড়ের গভীর খাদে ফেলে দেয়।
বিলাসবহুল বিয়ের পরিকল্পনা
কেতন ছিলেন পুনে জেলার পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড এলাকার বিশিষ্ট নির্মাণ ব্যবসায়ী বিশাল আগারওয়ালের ছেলে। তাদের বিয়ে নভেম্বর মাসে রাজস্থানের উদয়পুরে হওয়ার কথা ছিল। পরিবার ইতিমধ্যেই জয়পুরে ১৭ কোটি রুপির একটি প্রাসাদ বুক করেছিল এবং অতিথিদের জন্য দুটি প্রাইভেট বিমানের ব্যবস্থাও করা হয়।
এক আত্মীয় বলেন, পরিবারগুলো খুব খুশি ছিল, এই ঘটনা সবাইকে গভীরভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিয়া গয়াল কেতনকে বিয়ে করতে চাননি এবং তিনি তার প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছিলেন।
তদন্ত অনুযায়ী, তিনি জন্মদিন উদযাপনের অজুহাতে কেতনকে লোহগড়ে নিয়ে যান। সুযোগ বুঝে প্রেমিকের সহায়তায় তাকে পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়।
পুনের এসএসপি সন্দীপ সিং গিল জানিয়েছেন, তদন্তে জানা গেছে দুই অভিযুক্তই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং তারা হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেছে।
ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত দু’জনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।

Mohammad Joynal Aabedien
৪৬ মিনিট আগেWe are very shocked.Allah will save us.Everyboady remain always carreful.