স্কটল্যান্ডে বসবাসরত এক ব্রাজিলীয় ফুটবল সমর্থক মনে করেন, আসন্ন ম্যাচে স্কটল্যান্ড দল ব্রাজিলের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে। কারণ, তার বাবা একসময় ফুটবল কিংবদন্তি পেলে’কে ভায়াগ্রা বিজ্ঞাপনের মুখ হিসেবে কাজ করাতে রাজি করিয়েছিলেন। ২৬ বছর বয়সী ফ্লাভিয়া লিমা আট বছর আগে নানা দেশ ঘুরে বেড়ানোর পর এডিনবরায় স্থায়ী হন। তার শৈশব কেটেছে শিকাগো, নিউ ইয়র্ক এবং টেক্সাসে। তবে এই দর্শনশাস্ত্রের স্নাতক ব্রাজিলের সাও পাওলোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার সঙ্গে তার পরিবারের বিশেষ সম্পর্ক ছিল। কারণ তারা সবাই ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস অঞ্চলে বড় হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের একটি ট্যাবলয়েড দৈনিক পত্রিকা।
তার দাদা জুজু, পেলের বাবা দন্দিনহোর সঙ্গে একই ইতাজুবা শহরের একটি সেমি-প্রফেশনাল দলে খেলতেন। এই পারিবারিক সম্পর্কই পরে একটি সাহসী বিজ্ঞাপন প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত হয়। ফ্লাভিয়া বলেন, এত ছোট একটি গ্রাম থেকে আসার কারণে এসব সম্পর্ক কখনো হারিয়ে যায় না। পরে যখন আমার বাবা কাজ করছিলেন আর পেলে অবসর নিয়েছিলেন, তখনো তিনি ফুটবলের সবচেয়ে বড় মুখ ছিলেন। আমার বাবা তাকে এই প্রচারণায় যুক্ত হতে রাজি করান, যাতে পুরুষদের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন একটি আলোচনা শুরু হয় যা আগে ব্রাজিলে ছিল না।
তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত না ঠিক কীভাবে তিনি রাজি হয়েছিলেন। তবে মনে হয় এতে ভূমিকা ছিল যে, আমরা বহু বছর ধরে একে অপরকে চিনি, আমাদের বাবারাও একে অপরকে চিনতেন। তিনি বিজ্ঞাপনে নিজের কথা নয়, বরং ‘আমার মতো মানুষদের’ কথা বলেছিলেন। ফ্লাভিয়া বলেন, এই প্রচারণা পুরুষদের স্বাস্থ্য এবং ক্রীড়াবিদদের মানবিক দিক নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। তিনি আরও জানান, পেলের মৃত্যুর আগে আমরা একবার তার সঙ্গে স্কাইপে কথা বলেছিলাম- এটা ছিল অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। আমার কাছে তার স্বাক্ষর করা একটি ফুটবলও আছে। আমি ছোটবেলায় বলতাম আমার বাবা পেলের বন্ধু, মানুষ বিশ্বাসই করতো না। তিনি খুবই ভদ্র ও ভালো মানুষ ছিলেন। আমাদের পরিবার বহু বছর ধরে একে অপরকে চেনে।
ফুটবলের তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা চার বছর আগে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। তার মৃত্যু বিশ্ব জুড়ে শোকের ছায়া ফেলে। ফ্লাভিয়া আশা করছেন, আসন্ন টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল ব্রাজিল আবারো পুরনো ছন্দে ফিরবে। ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২৪ বছর আগে। তবে তিনি একই সঙ্গে আনন্দিত যে, তার ‘আশ্রয় নেয়া দেশ’ স্কটল্যান্ড এবং জন্মভূমি ব্রাজিলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। স্কটল্যান্ড ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ড্র হওয়ার সময় আমি একেবারে উচ্ছ্বসিত হয়ে গিয়েছিলাম। শুধু আমার জন্মভূমি আর আশ্রয় দেয়া দেশই খেলছে না, ম্যাচটি হচ্ছে সেই দেশেও যেখানে আমি বড় হয়েছি। এটা আমার জীবনের সব পরিচয়ের একসঙ্গে মিশে যাওয়া এক মুহূর্ত।
ফ্লাভিয়া আরও বলেন, আমি ব্রাজিলকে সমর্থন করবো। তবে বাকি সব ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে সমর্থন করবো। অনেক ব্রাজিলীয়ও মনে করে স্কটল্যান্ড এক ধরনের আন্ডারডগ। কিন্তু তাদের অনেক সম্ভাবনা আছে। আমি মনে করি না ম্যাচটি একপক্ষীয় হবে। তিনি জানান, ব্রাজিলীয় প্রবাসীদের মধ্যেও এই ম্যাচ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। যদি স্কটল্যান্ড জিতে যায়, ব্রাজিলীয়রা খুব রাগ করবে না। আমি চাই দুই দলই ভালো খেলুক।
তার ভবিষ্যদ্বাণী, ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হতে পারে এবং স্কটল্যান্ডেরও জয়ের ভালো সুযোগ আছে।
