ধানমন্ডিতে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বর্বরোচিত হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল৷ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ নিন্দা জানায়। এতে বলা হয়, আজ সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে 'দৈনিক সকাল'-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির, 'যমুনা টেলিভিশন'-এর সিনিয়র রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকী এবং 'কালবেলা'-র সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশানসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কায়দায় বর্বরোচিত হামলা এবং লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সংবাদকর্মী জামায়াত নেতাকর্মীদের এই সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়েন এবং লাঞ্ছিত হন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনায় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো যেকোনো স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের পরিপন্থী। বিরোধী দলে থাকতেই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য দিবালোকে কর্তব্যরত প্রায় ২৫ জন সংবাদকর্মীর ওপর যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ ও লাঞ্ছনা চালিয়েছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, তারা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না এবং দেশকে একটি উগ্র, অসহিষ্ণু ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে ঠেলে দিতে চায়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, এই স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী অপশক্তি এখনো বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতায় ন্যূনতম বিশ্বাস রাখেনা। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে সাংবাদিকদের ওপর এমন সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্রদল সবসময়ই গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা এবং সংবাদমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। অতীতেও ছাত্রদল মুক্ত গণমাধ্যমের পক্ষে আপসহীন ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো উগ্র ও ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এই সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত জামায়াত নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহত সকল গণমাধ্যমকর্মীর আশু সুস্থতা কামনাসহ তাঁদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বানও জানান তারা।
