বার্ড ফ্লু সংক্রমণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, উচ্চ সতর্কতায় অস্ট্রেলিয়া

বার্ড ফ্লু সংক্রমণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, উচ্চ সতর্কতায় অস্ট্রেলিয়া

ফন্ট সাইজ:

একটি মারাত্মক বার্ড ফ্লু স্ট্রেইনে দ্বিতীয় সামুদ্রিক পাখির শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ উপকূলের একটি প্রত্যন্ত সৈকতে পাওয়া দ্বিতীয় অসুস্থ সামুদ্রিক পাখির শরীরেও মারাত্মক বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় এ ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত করা হয়। তার কাছাকাছি একটি নর্দার্ন জায়ান্ট পেট্রেল পাখির শরীরে এইচ৫এন১ স্ট্রেইনটি পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার এস্পেরান্সের কাছে ভেসে আসা অবস্থায় পাখিটিকে পাওয়া যায়। এবং গত ১৪ জুন একই এলাকায় ভাইরাসে আক্রান্ত একটি ব্রাউন স্কুয়া পাখিও পাওয়া গিয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া দুটি পাখির বাইরেও ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য তারা কাজ করছে। বার্ড ফ্লু শনাক্ত হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় বহু বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ভাইরাসটি অস্ট্রেলিয়ায় কীভাবে প্রবেশ করেছে এবং এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের উপ-অ্যান্টার্কটিক দ্বীপপুঞ্জ থেকে সরাসরি এসেছে কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য জিনোমিক সিকোয়েন্সিং এখনও চলছে। ২০২০ সাল থেকে ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা এবং আমেরিকাজুড়ে এই ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে হাঁস এবং উপকূলীয় পাখিরা ছিল প্রধান প্রজাতি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় দুই প্রজাতির পাখির দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ব্রাউন স্কুয়া এবং জায়ান্ট পেট্রেল এ দুটি ভাইরাস দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দক্ষিণ মহাসাগর পেরিয়ে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে।

জানা যায়, দ্বিতীয় পাখির শরীরে একটি জায়ান্ট পেট্রেলের শরীরে এইচ৫এন১ নামে পরিচিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার একটি স্ট্রেইনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। যা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। সপ্তাহান্তে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ৫৮টি মৃত বা অসুস্থ পাখি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং পরীক্ষার জন্য নয়টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আক্রান্ত সামুদ্রিক প্রজাতির অন্যান্য পাখিগুলো অস্ট্রেলিয়ার কোন কোন স্থানে যেতে পারে এবং তাদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য প্রদানের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা দল গঠন করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ উপকূলে বার্ড ফ্লু নজরদারি জোরদার করার লক্ষ্যে দুটি পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখির প্রজাতির গতিবিধির ওপর নজর রাখা হবে।

উভয় প্রজাতিই বছরের কিছু সময় উপ-অ্যান্টার্কটিক দ্বীপপুঞ্জে কাটায়। যার মধ্যে বার্ড ফ্লু-আক্রান্ত নিকটতম দ্বীপগুলো প্রায় ৪,৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বলে জানা গেছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকে কুইন্সল্যান্ড পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় জলরাশিতে শীতকাল কাটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফেডারেল কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া একটি ব্রাউন স্কুয়া এবং একটি নর্দার্ন জায়ান্ট পেট্রেল পাখির শরীরে বার্ড ফ্লুর এইচ৫এন১ স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পাখিদের মধ্যে গণহারে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাখি দুটিকে পার্থ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এস্পেরান্সের একটি প্রত্যন্ত সৈকতে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। এই দুটি বিচ্ছিন্ন পাখি ছাড়া, এইচ৫ বার্ড ফ্লু বন্যপ্রাণীর মধ্যে বা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আমরা কাজ করছি। পোল্ট্রি এবং কৃষি খাত ফ্লু-মুক্ত রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে আক্রান্ত পাখিগুলোর নমুনা পরীক্ষা করা হবে। নিশ্চিত হওয়া এই ঘটনাগুলো ডিম বা মুরগির দামের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না।আমরা অবশ্যই মুরগির মাংস এবং ডিম উভয় পোল্ট্রি ব্যবস্থা ও শিল্পের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। যাতে আমরা আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু করতে পারি এবং সেই ব্যবস্থাগুলোতে জৈব-নিরাপত্তা উন্নত করতে পারি। এবং অসুস্থ বা মৃত পাখির এক ডজনেরও বেশি ঘটনা রিপোর্ট হওয়ায়, জনসাধারণের উদ্বেগ জানানোর জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে বলে কৃষিমন্ত্রী জানান।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা বেথ কুকসন এবিসিকে বলেন, এই দুটি সামুদ্রিক প্রজাতির পাখির চলাচল এবং অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রদানের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা দল গঠন করা হয়েছে। এটি আরও ছড়িয়ে পড়ছে কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য আমরা উন্নত নজরদারি পদ্ধতি গ্রহণ করবো। অস্ট্রেলিয়া বহু বছর ধরেই এই মারাত্মক বার্ড ফ্লুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এটিই একমাত্র মহাদেশ যা পূর্বে এই স্ট্রেইন দ্বারা অপ্রভাবিত ছিল। এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই দুটি একক পাখি অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে এটি ছড়িয়ে দিতে পেরেছে কি না তা দেখতে হবে। যদি মানুষের চোখে পড়া যেকোনো অসুস্থ বা আহত পাখির বিষয়ে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এবং আহত পাখি থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিরল ক্ষেত্রে খুব কাছাকাছি থাকা মানুষের মধ্যেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানান প্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন