প্রথম আলো
‘সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, নিজ নিজ সংসদীয় আসনের রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ রাখা হবে সংসদ সদস্যদের জন্য। প্রতিবছর ১০ কোটি টাকা করে পাঁচ বছর এই টাকা দিয়ে সংসদ সদস্যরা নিজেদের পছন্দমতো অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পারবেন।
নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য এই বরাদ্দ দিতে প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন (বিভাগওয়ারি) নামের প্রকল্প তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।
এলজিইডির কর্মকর্তারা বলছেন, সংসদ সদস্যরা অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিজ নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, হাটবাজার, ঘাট ইত্যাদির তালিকা দেবেন। সে তালিকা ধরে বরাদ্দের টাকায় কাজ করবে এলজিইডি।
সংসদ সদস্যদের এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে। ওই বছর সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেক সদস্যকে দুই কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এই প্রকল্প অনুমোদিত হয়।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার সংসদ সদস্যদের এমন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একই প্রকল্প নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আসনপ্রতি বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ২৫ কোটি টাকা করে। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ায় প্রকল্পটি আর পাস হয়নি।
সংসদ সদস্যদের পছন্দমতো রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এ ধরনের বরাদ্দ নিয়ে অতীতে দুই ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল। প্রথমত, এ ধরনের বরাদ্দের মাধ্যমে নেওয়া প্রকল্পে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি হয়। কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, স্থানীয় উন্নয়নের দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের। সংসদ সদস্যদের কাজ আইন প্রণয়ন করা। সেখানে সংসদ সদস্যদের পছন্দমতো রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ কেন?
আট বিভাগে আট প্রকল্প
নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে গত ২৩ মে সচিবালয়ে প্রকল্প যাচাই কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। একসঙ্গে নয়, আটটি বিভাগের সংসদীয় আসনের জন্য আলাদা আটটি প্রকল্প নেওয়া হবে।
সভায় আলোচনা হয় সারা দেশের জন্য একটি প্রকল্প নিলে ব্যবস্থাপনা বেশ কঠিন হবে। তা ছাড়া একক প্রকল্পে বিপুল টাকা বরাদ্দ সম্ভব হয়ে ওঠে না। একই সঙ্গে একজন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সারা দেশে কাজ তদারকি করতে হিমশিম খান।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের ৫৫টি সংসদীয় আসন, রাজশাহী বিভাগের ৩৮টি আসন, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসন, খুলনা বিভাগের ৩৪টি আসন, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসন, ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৫টি আসনের জন্য আলাদা করে আটটি প্রকল্প নেওয়া হবে। আলাদা করে আটজন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে।
এলজিইডির পরিকল্পনা শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সালেহ মোহাম্মদ হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া করতে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। আগে যেসব সড়কের কাজ হয়েছে, নতুন করে সেসব সড়কের কাজ করা হবে না।
বরাদ্দ পাবেন ২৭৯ সংসদ সদস্য
নিজেদের পছন্দমতো রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পাবেন ২৭৯ জন সংসদ সদস্য। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে থাকা ১৫টি আসন, চট্টগ্রামের ৩টি, রাজশাহীর ১টি ও খুলনার ২টি—মোট ২১টি আসনের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে না। কারণ, এসব আসন সিটি করপোরেশনের ভেতরে। সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্যের জন্যও কোনো বরাদ্দ থাকবে না।
সূত্র জানিয়েছে, ২৭৯ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী আসনের জন্য ৫০ কোটি টাকা ধরে পাঁচ বছরে মোট ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। আরও ১ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে প্রকল্পের জনবল নিয়োগ, বেতন–ভাতা ও অন্যান্য খাতে।
বরাদ্দ কেন দ্বিগুণ হচ্ছে, তা জানতে চাইলে এলজিইডির পরিকল্পনা শাখার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে আগামী পাঁচ বছর ধরে। তখন দাম আরও বাড়বে। এসব বিবেচনায় আসনপ্রতি ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।
এ ধরনের প্রকল্প নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন সংসদ সদস্যরা। লক্ষ্মীপুর-২ (সদর আংশিক ও রায়পুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে তাঁর আসনে রাস্তাঘাটের তেমন উন্নয়ন হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে এসব রাস্তাঘাট উন্নয়ন জরুরি।
অতীত অভিজ্ঞতা কী
সংসদ সদস্যদের পছন্দের অবকাঠামো উন্নয়নে ২০১০ সালে ৪ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা, ২০১৫ সালে ৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা এবং ২০২০ সালে ৬ হাজার ৫২৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। নবম সংসদের সদস্যরা ১৫ কোটি এবং দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা ২০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছিলেন।
২০২০ সালে নেওয়া ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন-৩’ প্রকল্পের কাজ ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা। এলজিইডির সবশেষ তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পে ৫ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এখন ৮২৩টি প্যাকেজ কাজ চলমান রয়েছে। দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ৭৭টি কর্মসূচির। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০২০ সালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় করা ৬২৮টি কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বহুমাত্রিক দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। বলা হয় ৩৩ শতাংশ স্কিমে কাজের মান ভালো ছিল না।
টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব কাজে মোট ব্যয়ের ৮ থেকে প্রায় ১৩ শতাংশ হারে কমিশন বাণিজ্য হয়। এসবের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জড়িত থাকেন এলজিইডির কর্মীরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য তাঁর ক্ষমতাবলে সরাসরি বিভিন্ন কর্মসূচির কাজ তাঁর পরিবারের সদস্য, আত্মীয় ও দলের কর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। ১ থেকে ২ শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী আসনে বরাদ্দ নিয়ে করা গবেষণায় তাঁরা দলীয়করণ, টাকার অপচয় ও দুর্নীতি পেয়েছেন। এবার যদি এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা থাকে, তাহলে আগের মতো অভিযোগ উঠতে পারে।
দেশে দেশে এ ধরনের প্রকল্প
টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে (প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২৩টি) সংসদীয় আসনের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সংসদ সদস্য প্রতি থোক বরাদ্দ প্রকল্পের দৃষ্টান্ত রয়েছে।
ভারত, ভুটান, কেনিয়া, ঘানা, উগান্ডা, জ্যামাইকা, পাপুয়া নিউগিনি ও সলোমন আইল্যান্ডের প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণ করে টিআইবি বলেছে, এসব দেশে আইনি কাঠামো, বরাদ্দ, বরাদ্দের প্রক্রিয়া, পরিচালনা কাঠামো, তদারকি, তথ্যের উন্মুক্ততা ইত্যাদির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চর্চা রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব আইন প্রণয়ন করা। আর ৫৯ অনুচ্ছেদে আছে, স্থানীয় উন্নয়ন স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব। বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার হিসেবে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ এবং শহরাঞ্চলে সিটি করপোরেশন রয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, জেলা ও উপজেলা পরিষদ অনেকটা অকার্যকর।
স্থানীয় উন্নয়নকাজে সংসদ সদস্যদের যুক্ত করা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে বহুদিন ধরে। সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে জেলা পরিষদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্ব পুরোনো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, তাত্ত্বিকভাবে সংসদ সদস্যদের কাজ আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে দেখা যায়, রাজনীতিবিদেরা আইন প্রণয়ন ছাড়াও নিজ এলাকার উন্নয়নকাজ করেন। মানুষও চায় এলাকার উন্নয়নে সংসদ সদস্য কাজ করুক। তবে এটি কাঙ্ক্ষিত কি না, সে বিতর্ক থাকতে পারে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি বাস্তবায়নের দিকে আরও একটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের অপরিশোধিত, পরিশোধিত ও অন্যান্য পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের অবাধ বিক্রির অনুমতি দেবে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগকারী শাখা, অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত একটি অনুমোদন জারি করে।
লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম আরগুস অনলাইনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ১৪ দফার মধ্যে তেহরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। সে অনুযায়ী, আলোচনা এগিয়ে নিতে ও চুক্তির শর্ত পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানির ওপর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল। বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সুবিধা নিতে পারবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। বাংলাদেশ ইরান থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলকৃত গ্যাস বা এলএনজি কিনতে পারবে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় এর জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। লেবাননে ইসরাইলের হামলার জেরে ইরান হরমুজ বন্ধ করে দেয়। এ হামলা বন্ধ হলে হয়তো হরমুজ আবার খুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ক্রেতাদের ডলারের মাধ্যমে ইরানের তেল কেনা অনুমোদন দিচ্ছেন। মালপত্র পরিবহণে ইরানের পরিষেবা এবং বিমার জন্যও মার্কিন ডলার ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হলো।
ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলে বৈশ্বিক বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ওয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের বেশি বিক্রি হলেও গতকাল সোমবার রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা কমে ৭৭ দশমিক ৮৬ ডলার হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তি হওয়ার আগে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারের ১০০ ডলার কাছাকাছি ওঠানামা করছিল।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সুইজ্যারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপের মধ্যেই এ অগ্রগতির খবর পাওয়া গেল। লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার মধ্যে এ আলোচনা চলছে। ইরান বারবার লেবাননে হামলা বন্ধ করতে ইসরাইলকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, গত রোববার সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফা সরাসরি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। দুই মাসের অন্তর্বর্তী চুক্তি চলাকালে স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় দুই পক্ষ। এ লক্ষ্যে প্রথম দফা আলোচনার পর গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানায়।
কালের কণ্ঠ
‘শ্রমবাজার খোলার আহবান প্রধানমন্ত্রীর’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
এতে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান এসব কথা জানান।
দুই দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) বৈঠকের আয়োজন এবং নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ ঘোষণায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সফরে মালয়েশিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে দেশটিতে যান তিনি। এই সফরে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান ও জমকালো আয়োজনে তারেক রহমানকে বরণ করে নেয় মালয়েশিয়া।
সফরে পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে তাঁকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়।
দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘প্রশাসনে আবার ভারপ্রাপ্ত সচিব প্রথা ফিরল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাড়ে ছয় বছর পর প্রশাসনে আবার শুরু হয়েছে ভারপ্রাপ্ত সচিব পদায়ন। এর মধ্য দিয়ে পদোন্নতি ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এড়ানো যাবে এবং জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন রোধ সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অসন্তোষ পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে সচিব হিসেবে পদোন্নতিপ্রত্যাশী অনেকে মনে করেন, এ উদ্যোগ অবমাননাকর।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ভারপ্রাপ্ত সচিবের প্রচলন ছিল। বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ সব সরকারের আমলেই শুরুতে ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হতো। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর সে সময় প্রভাবশালী কিছু আমলা এ ব্যবস্থাকে অবমাননাকর বলে সমালোচনা করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভারপ্রাপ্ত সচিব পদায়নের বিধান বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তবে কোনো সচিব অনুপস্থিত থাকলে সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
গত ২৫ মে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয় মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাকে। এর পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জানতে চাইলে মামুনুর রশীদ ভূঞা সমকালকে বলেন, ‘আগে ভারপ্রাপ্ত সচিবের পর সচিব করা হতো। মাঝখানে অনেক দিন সেই আদেশ হয়নি। সেই নিয়ম বহাল ছিল, কিন্তু চর্চা ছিল না। আমি হয়তো সেই ব্যক্তি, যাকে দিয়ে আবার ভারপ্রাপ্ত সচিবের পদায়ন শুরু হলো।’
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সচিব পদে সরাসরি পদোন্নতির পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করা গেলে প্রশাসনে বিতর্ক কমবে এবং যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে সরকার আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ভারপ্রাপ্ত সচিব করা কোনো নতুন বিষয় নয়। অতীতেও বিভিন্ন সরকারের আমলে এটি হয়েছে। সাধারণত একজন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতির আগে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা সচিব পদমর্যাদার পূর্ণ আর্থিক সুবিধা পান না। পূর্ণাঙ্গ সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পরই সচিব গ্রেডের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা লাভ করেন।
যে কারণে ফিরছে এ ব্যবস্থা
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একবার কাউকে পূর্ণাঙ্গ সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিলে পরে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে কিছু সময় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তাঁর কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক নেতৃত্ব, সততা এবং বিভিন্ন অভিযোগ বা মামলার বিষয় যাচাই করা সম্ভব হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নানা কারণে ১৫ জুন পর্যন্ত ৯ জন সচিব জনপ্রশাসনে সংযুক্ত আছেন। সচিব পদে পদোন্নতির পরও সরকার তাদের কোথাও কাজে লাগাতে পারছে না।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে গত ২৫ মার্চ সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে পদায়ন করা হয়। মাত্র দুই মাস পর তাঁকে আবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, সচিব পদে সরাসরি পদোন্নতির চেয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিব ব্যবস্থা প্রশাসনের জন্য বেশি কার্যকর। কারণ, এতে পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক কমে। আগে অনেক ক্ষেত্রেই ছয় মাস থেকে এক বছর ভারপ্রাপ্ত সচিব রাখা হতো। কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত।
ইত্তেফাক
‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরো বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় কমে।
দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দুটি বিনিময় করেন।
এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য দেন। আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছিলাম, তা ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। তার (আনোয়ার ইব্রাহিম) আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরে কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করেছিল। একইসঙ্গে শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। তিনি বলেন, আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরো গভীর এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।
তিনি বলেন, আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়াতে আমরা একমত হয়েছি। আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরো সুদৃঢ় এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘ক্ষমতার হিসাব-নিকাশে আটকে আছে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি’। খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হতে চললো। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পতনের পর দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো বদলে ফেলার এক বিশাল স্বপ্ন নিয়ে গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাদের প্রধান অঙ্গীকার ছিল ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কার। এরপর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় এবং নতুন রাজনৈতিক সরকার গঠনের দুই বছর পর আজ একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, তা বাস্তবে কতটা পূরণ হয়েছে? নাকি পুরো প্রক্রিয়াই রাজনৈতিক সমঝোতা ও ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের গোলকধাঁধায় আটকে গেছে?
জুলাই সনদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া খসড়া
অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার মূলত ছয়টি প্রধান সংস্কার কমিশন গঠন করে। এগুলো হলো সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। পরে আরো কয়েকটি খাতভিত্তিক কমিশন গঠিত হয়। কমিশনগুলো দীর্ঘ অংশীজন আলোচনার পর সরকারের কাছে তিন শতাধিক সুনির্দিষ্ট সুপারিশ জমা দেয়।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিটকে আইনি রূপ দিতে প্রণয়ন করা হয়েছিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। এই সনদের মূল লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিতকরণ, ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কমিশনগুলোর দেয়া সুপারিশের মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আইনি খসড়া বা প্রাথমিক নীতিগত অনুমোদনের স্তরে পৌঁছতে পেরেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সময়ে কিছু জরুরি অধ্যাদেশ জারি করলেও বড় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন বা আইন পাস করার ক্ষেত্রে তাদের আইনি সীমাবদ্ধতা ছিল। তারা মূলত সংস্কারের একটি ব্লু-প্রিন্ট বা রূপরেখা তৈরি করে দিয়ে যায়। নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের গতি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশই এখন মন্ত্রণালয়ের লাল ফিতায় বন্দী। সেগুলো আদতেও আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
বণিক বার্তা
‘ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠছে নতুন চাঁদাবাজ গোষ্ঠী’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার এনায়েতনগরে গার্মেন্টসের ঝুট (ওয়েস্টেজ) নামানোকে কেন্দ্র করে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয় এক শিশু। ওই ঘটনায় আহত হন আরো বেশ কয়েকজন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ৫০টির বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
গার্মেন্টস খাতসংশ্লিষ্ট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, তৈরি পোশাক শিল্প সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে ঝুট অর্থনীতি এখন কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; বরং এ খাতের নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় ক্ষমতা ভারসাম্যের এক জটিল অনানুষ্ঠানিক কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। ফলে ঝুটকে ঘিরে সংঘাত বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে নিয়মিতভাবে সামনে আসছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ঝুট বা ছাঁট কাপড় উৎপন্ন হয়। ঝুট মূলত তৈরি পেশাক কারখানায় উৎপাদিত কাপড়ের কাটা টুকরো, অবশিষ্ট সুতা ও ত্রুটিযুক্ত বাতিল পোশাক। এসব পুনর্ব্যবহার করে নতুন পোশাক তৈরি হয়। ঝুট কখনো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয় কারখানার বয়লারে। বিভিন্ন গবেষণা ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের অনুমান অনুযায়ী, এর পরিমাণ বছরে প্রায় চার থেকে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টন। ঝুটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বগুড়া, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত।
ঝুট অর্থনীতিকে ঘিরে বড় ধরনের রফতানি সম্ভাবনাও রয়েছে। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড ও বৈশ্বিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএমের সহায়তায় পরিচালিত “‘টুয়ার্ডস আ সার্কুলার ইকোনমি ইন বাংলাদেশ’স অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা, সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ বছরে ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের পুনর্ব্যবহৃত টেক্সটাইল পণ্য রফতানির সুযোগ তৈরি করতে পারে। গবেষণায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ঝুট সরবরাহ শৃঙ্খলের অপ্রাতিষ্ঠানিকতা, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীনির্ভরতা ও সীমিত পুনর্ব্যবহার সক্ষমতার কারণে বর্তমানে এ সম্ভাবনার বড় অংশ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
ঝুট থেকে টি-শার্ট, শিশুদের পোশাক, সোয়েটার, শাল, কম্বল, মোজা, মাফলার, দড়ি ও গৃহস্থালি পণ্য তৈরি হয়। পাবনায় ঝুটভিত্তিক টি-শার্ট শিল্প গড়ে উঠেছে। গাইবান্ধায় সোয়েটার, মোজা ও দড়ি উৎপাদন হয়। বগুড়ায় পুনর্ব্যবহৃত সুতা থেকে কম্বল ও শীতবস্ত্র তৈরি হচ্ছে। পাবনার উৎপাদিত কিছু পণ্য ভারত, নেপাল, ভুটান ও সীমিত আকারে মালয়েশিয়ার বাজারেও যায় বলে জানা গেছে।
দেশে ঝুটের বাজার প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কারখানা মালিক নিজের ইচ্ছানুযায়ী ঝুট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। স্থানীয় সংগ্রহকারী গোষ্ঠী, মধ্যস্বত্বভোগী নেটওয়ার্ক ও অনানুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে মাঠপর্যায়ে ঝুট সংগ্রহ, পরিবহন ও গুদামজাত যেসব গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, তাদের একটি বড় অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে।
গাজীপুরকে বাংলাদেশের ঝুট বাণিজ্যের কেন্দ্রীয় বিতরণ হাব বিবেচনা করা হয়। এ জেলায় ঝুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয়। কালিয়াকৈরে হোপলুন ইন্টিমেট লিমিটেড কারখানার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গত ২১ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঝুট সংগ্রহ ও সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে এ সংঘর্ষ হয়।
ঝুট সংগ্রহ এবং এ খাতে চাঁদাবাজি সবসময়ই স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ ও সাভার ইপিজেড এলাকায় সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা বেশি ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে সশস্ত্র মহড়া ও পেশিশক্তির মাধ্যমে স্থানীয় অনেক রাজনৈতিক নেতা এসব এলাকায় ঝুটকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। সে সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ইউনিটের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতার নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছিল।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া ঢেলে সাজানো হবে’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া নিরাপদ, স্বচ্ছ ও পরস্পরের জন্য লাভজনক করতে চায় দুই দেশের সরকার। এ কারণে কর্মীদের অভিবাসনের পুরো প্রক্রিয়াটি ঢেলে সাজানো হবে। এর অংশ হিসেবে উভয় দেশের মধ্যে অভিবাসন বিষয়ে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকটি পুনর্মূল্যায়ন ও হালনাগাদ করা হবে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক পুনর্মূল্যায়ন ও হালনাগাদ করাসহ সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনার জন্য দুই দেশ অভিবাসনবিষয়ক যৌথ বিশেষজ্ঞ দলের বৈঠক করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকের পর দুই দেশের রাজধানী থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
বিবৃতি অনুযায়ী, তারেক রহমান বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো অপসারণের ওপর জোর দেন। দুই নেতার আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে বাংলাদেশের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্বীকার করেন। মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তাবের বিষয়টি উল্লেখ করে জানায়, দেশটির বিদ্যমান নীতির আলোকে নতুন বিদেশি কর্মী কোটার অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।
দুই নেতা নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের (এজেন্সি) মাধ্যমে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিন গতকাল দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। এটি একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটিতে তার প্রথম সফরও। দুই নেতা শুরুতে একান্ত বৈঠক করেন। তারপর তারা প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যসহ বৈঠক করেন।
বৈঠকের পর উভয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘সুখবর মালয়েশিয়া থেকে’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুততম সময়ের মধ্যে উন্মুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। গতকাল সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দুই শীর্ষ নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ অনুরোধ জানান তারেক রহমান। বৈঠকে সংস্কৃতিবিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হয়। দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একমত হন দুই সরকারপ্রধান। রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সকালে ‘পরদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনারসহ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরপর দুই শীর্ষ নেতার অংশগ্রহণে যৌথ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগপ্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য দেন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান, মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব দাতো শাহরোল আনুয়ার বিন সারমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল তান শ্রী আমরান মোহাম্মদ জিন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছাবার্তাগুলোর একটি পেয়েছিলাম, তা ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।’ তিনি বলেন, ‘তাঁর সেই আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিতবোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’
