বৃটেনের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর সোমবার তার সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন- জ্বালানি, অভিবাসন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে স্টারমার নিজেকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় তিনি একজন চমৎকার মানুষ। তবে তিনি জ্বালানি নীতি পরিচালনায় ভুল করেছেন। নর্থ সি’র তেল সম্পদ কাজে লাগানোর পরিবর্তে তিনি চারদিকে উইন্ডমিল বসিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ট্রাম্প বলেন, বৃটেন তার জ্বালানির বড় অংশ কিনে আনে। জানেন কোথা থেকে? নরওয়ে থেকে। জানেন তারা কোথা থেকে তেল পায়? নর্থ সি থেকে। সেখানে আরও ভালো অংশ বৃটেনের দখলে রয়েছে। কিন্তু পরিবেশগত কারণে তারা সেটি ব্যবহার করতে চায় না।
ট্রাম্প আগে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে স্টারমারের বিদায়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেন স্টারমার ‘কিছুটা আমার বন্ধু’ হলেও তিনি ন্যাটো এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সমর্থন দেননি। ইরানে হামলা চালাতে সাইপ্রাসে অবস্থিত বৃটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের প্রশ্নে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলার জন্য সাইপ্রাসের আরএএফ আক্রোটিরি ঘাঁটি ব্যবহারের মার্কিন অনুরোধ অনুমোদন দিতে বৃটেন অনেক বেশি সময় নিয়েছিল। ট্রাম্প বলেন- তিনি বলেছিলেন, আমরা দ্বীপটি অবতরণের জন্য ব্যবহার করতে পারব না। এটাই প্রথমবার এমনটা ঘটল। তিনি আরও বলেন, পরে স্টারমার অনুমতি দিলেও এটি ছিল একটি খারাপ সিদ্ধান্ত এবং এটি তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ট্রাম্প বলেন, আমি তার মঙ্গল কামনা করি। কিন্তু তার দুটি সমস্যা আছে- জ্বালানি এবং অভিবাসন। আর অপরাধও আছে। তবে জ্বালানি ও অভিবাসন- এই দুটি বিষয় তাকে খুব, খুব খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। স্টারমার সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন, তবে সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে হতাশাজনক ফল এবং দলীয় আইনপ্রণেতাদের কয়েক মাসের চাপের মুখে তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে।
লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সংসদে ফিরে আসার পর স্টারমারের উত্তরসূরি হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করলে গত এক দশকে বৃটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হবেন।
