পর্র্তুগাল ও রোনালদোর ‘অগ্নিপরীক্ষা’

পর্র্তুগাল ও রোনালদোর ‘অগ্নিপরীক্ষা’

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বড় তারকাদের প্রায় সবাই পারফর্ম করেছেন। একজনের পায়ের ঝলক এখনো দেখা যায়নি- ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক শুরুর পর চারদিকে গুঞ্জন। পর্তুগালের ড্রেসিংরুমে নাকি ফাটল ধরেছে। রোনালদোকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ তুলেছেন তার সমর্থকরা। এমন পরিস্থিতিতে বাঁচামরার লড়াইয়ে আজ উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল। হিউস্টন স্টেডিয়ামে খেলা শুরু রাত ১১টায়। ‘কে’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে কলম্বিয়া খেলবে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে। তিন পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় কলম্বিয়া। কঙ্গোকে হারাতে পারলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত দলটির।

এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে আপাতত তিন নম্বরে পর্তুগাল। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়েও পরের রাউন্ড নিশ্চিত নয়। কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ভাগ্য নির্ধারিত হবে তাদের। তবে উজবেকিস্তানের কাছে হেরে গেলে তখন রোনালদোদের ভাগ্য আর নিজেদের হাতে থাকবে না। শেষ ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের দিকে। ফলে আজকের ম্যাচটি পর্তুগালের জন্য কার্যত বাঁচামরার লড়াই।

আরও পড়ুন:
‘মেসিই সেরা’

আরেকটি হিসাব আছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে দ্বিতীয় রাউন্ডে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়া যাবে। শেষ ৩২ রাউন্ডে ‘কে’ গ্রুপের সেরা দল মুখোমুখি হবে তৃতীয় হয়ে নকআউটে যাওয়া কোনো দলের। আর রানার্সআপদের প্রতিপক্ষ হবে ‘এল’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। যেখানে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে রয়েছে ঘানা ও পানামা।

সর্বকালের সেরা গোলদাতা কি
দলের বোঝা হয়ে গেলেন?
প্রশ্নটা উঠছে সবখানেই। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রোনালদো এখনো পর্তুগালের সবচেয়ে বড় নাম; কিন্তু দলের ভেতরে-বাইরে তার অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগিজদের আক্রমণভাগ ছিল নিষ্প্রভ। অন টার্গেটে একমাত্র শটটি জোয়াও নেভেসের গোল। রোনালদো কয়েকবার চেষ্টা করেও পোস্টের ভেতর শট রাখতে পারেননি। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম বলছে, রোনালদোকে শুরুর একাদশে রাখার কারণে আক্রমণভাগ ধীর হয়ে যাচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ, রোনালদো যদি ‘জোর’ করে শুরুতে খেলতে থাকেন তাহলে নিজের লেগ্যাসি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। অনেকে আবার রোনালদোকে ‘সুপার সাব’ হিসেবে খেলানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
রোনালদো ভক্তদের বড় অভিযোগ, মাঠে সতীর্থদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত পাস পাচ্ছেন না তিনি। আর পর্তুগিজ উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও মনে করেন, রোনালদোকেই যে পাস দিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেন, ‘দলের খেলোয়াড়দের ওপর রোনালদোকে বল দেওয়ার কোনো চাপ নেই। যে ভালো অবস্থানে থাকে তাকেই পাস দেওয়া হয়।’

রোনালদোকে ‘আলাদা’ করে নয় বরং অন্য সবার মতোই একজন দলীয় সদস্য মনে করেন কনসেসাও। তার ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশংসা করে কনসেসাও বলেন, ‘৪১ বছর বয়সেও রোনালদোর ক্ষুধা, পেশাদারিত্ব ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার আমাদের জন্য অনুকরণীয়। নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা এবং গোল করার সামর্থ্য তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। গোল করার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য। তবে তিনি এখানে দলের একজন সদস্য হিসেবেই আছেন। অন্য সবার মতো দলকে সাহায্য করতে এসেছেন।’ একই কথা বলেছিলেন জোয়াও নেভেসও। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। রোনালদোর ভক্তরা নেভেসের বান্ধবীর সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে যান। অন্যদিকে রোনালদোর বোন কাতিয়া আলভেইরো ব্রুনো ফার্নান্দেজের উদ্দেশ্যে তোপ দাগেন। তবে বাইরে যাই হোক, ড্রেসিংরুমের হালচাল নাকি স্বাভাবিকই। দেখা যাক, সেই উত্তাপ ছাপিয়ে রোনালদো কতটা প্রমাণ করতে পারেন নিজেকে।

‘কে’ গ্রুপের হালচাল
* ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয়ে নকআউট নিশ্চিত হবে কলম্বিয়ার। অন্য ম্যাচে পর্তুগাল উজবেকিস্তানের সঙ্গে ড্র করলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে কলম্বিয়া।
* পর্তুগালের বিপক্ষে উজবেকিস্তানের হার এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর জয়ে উজবেকিস্তান বিদায় নেবে।
* পর্তুগাল জিতলে নকআউটের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে। তখন শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করেও উতরে যাওয়ার ভালো সুযোগ থাকবে।
* উজবেকিস্তানের সঙ্গে ড্র করলে শেষ ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারাতে হবে পর্তুগালকে। নয়তো ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
* পর্তুগাল উজবেকিস্তানের কাছে হেরে গেলে নকআউটে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তখন অন্য ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করবে তাদের ভাগ্য।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন