রোনালদোকে পাস দিতে হবে সতীর্থদের’

রোনালদোকে পাস দিতে হবে সতীর্থদের’

ফন্ট সাইজ:

কোচ রবার্তো মার্টিনেজের কি পরবর্তী ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বসিয়ে গনসালো রামোসের মতো তরুণ স্ট্রাইকারকে খেলানো উচিত! নাকি তাকে একাদশে রাখাই ঠিক। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে পর্তুগাল এখন জটিল মোড়ে। ঠিক তখন বিশ্বজুড়ে এই জ্বলন্ত প্রশ্নটি ক্রিস্টিয়ানোকে নিয়ে! এ নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর এই সেন্টার-ব্যাক মনে করেন, পর্তুগিজদের এই গ্রুপে টিকে থাকার লড়াই মোটেও সহজ হবে না। কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেললেও মাত্র ২ শট, আর গোলহীন ও নিষ্প্রভ ছিলেন ৪১ বছরের এই মহাতারকা।

প্রথম ম্যাচে ড্রয়ে ১ পয়েন্ট নিয়ে চরম চাপে থাকা পর্তুগাল দলকে নিয়ে তপু বলেন, ‘চার বছর আগের রোনালদো আর বর্তমান রোনালদোর মধ্যে মস্ত বড় পার্থক্য, এটা আমাদের সবাইকে মানতেই হবে। এখন উনার বয়স ৪১ বছর, তাই বডির একটা ব্যাপার তো থাকবেই।’ তপুর মতে, পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচগুলো এখন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে, যা তাদের সামনে চরম কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি করে দিয়েছে। এই গ্রুপে পর্তুগালের চেয়ে এগিয়ে কলম্বিয়া।

আরও পড়ুন:
‘মেসিই সেরা’

বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ স্তরে খেলতে হলে শতভাগ ফিটনেস ও গতির প্রয়োজন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা এখন রোনালদোর চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল। তপু বলেন, ‘বর্তমানে প্রতিপক্ষ দলের ডিফেন্ডাররা রোনালদোর চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল। চার-পাঁচ বছর আগে তিনি নিজে অত্যন্ত গতিশীল ছিলেন। এখন বয়সের কারণে বডি সেভাবে মুভ করছে না। তবে তিনি এখনও পর্তুগাল দলের সবচেয়ে বড় নেতা।’

পর্তুগাল স্কোয়াডে এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ২১টি অ্যাসিস্ট করা ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, বার্নার্দো সিলভা ও রাফায়েল লিয়াওয়ের মতো বিশ্বসেরা তারকারা আছেন। এই মিডফিল্ডাররা ও উইঙ্গাররা বিশ্বের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলেন। তপু মনে করেন, রোনালদোকে সাহায্য করার দায়িত্ব এবার সতীর্থদের। তপু বলেন, ‘রোনালদো গত ৫টি বিশ্বকাপে দলকে যেভাবে টেনেছেন, এবার উনার ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপে বাকিদের উচিত উনাকে সাহায্য করা। সমালোচনা হবেই, তবে উনার পজিশন অনুযায়ী গোল করার মতো পর্যাপ্ত বলও তিনি পাননি। দলের খেলোয়াড়দের অবশ্যই উনাকে পাস দিয়ে গোল করতে সাহায্য করতে হবে।’

অতীতে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা সাফল্য ছিল তৃতীয় স্থান অর্জন। সেবার কিংবদন্তি ইউসেবিও একাই ৯টি গোল করে দলকে সেমিফাইনালে নিয়ে যান, রোনালদোর জন্মের প্রায় দুই দশক আগেই। তবে তপু বিশ্বাস করেন, এই শক্তিশালী বৈচিত্র্যময় স্কোয়াড নিয়ে এবার তারা অনেক দূর পর্যন্ত যাওয়ার যোগ্যতা রাখে। তপু বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ ড্র করলেও আমি হতাশ নই। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে তারা ঘুরে দাঁড়াবে এবং জিতবে।’ তবে এই গ্রুপে কলম্বিয়াকে সবচেয়ে শক্তিশালী মানছেন তিনি। আগামী ২৭ জুন কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে কঠিন ম্যাচ রয়েছে। তপু সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘পর্তুগাল যদি তাদের বর্তমান খেলার মান উন্নত করতে না পারে, তবে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটি তারা হেরেও যেতে পারে।’ শক্তির বিচারে লাতিন আমেরিকার এই দলটি এখন অনেক এগিয়ে আছে বলে তপু মনে করেন।

অন্যদিকে ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ কি হতাশায় কাটবে! তবে তপু মনে করেন, ‘মাত্র একটা ম্যাচ দেখে এখনই এটা চূড়ান্ত বলা যাবে না। তারা নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী রাউন্ডে যাবে।’ এবারের বিশ্বকাপে তপুর চোখে সেরা ম্যাচ হলো ইংল্যান্ডের কাছে ক্রোয়েশিয়ার ৪-২ গোলে হেরে যাওয়া চমৎকার লড়াইটি। গত দুটি বিশ্বকাপে আধিপত্য দেখালেও ক্রোয়েশিয়া এবার অনেকটাই দুর্বল। তপু বলেন, ‘বর্তমান স্কোয়াডে মাত্র দুই-তিনজন খেলোয়াড় আছেন। তবে প্রতি গ্রুপ থেকে তিনটি করে দল পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকায় ক্রোয়েশিয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন