কুমিল্লা নগরে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে খোলা নালায় পড়ে স্মৃতি আক্তার (৮) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার রাত ৯টার দিকে নগরের ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ্ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত স্মৃতি আক্তার নগরের কালিয়াজুড়ি বদরপুর এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। জানা গেছে, রাতে স্মৃতি তার মায়ের সঙ্গে ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের হাত থেকে ছিটকে জলাবদ্ধ সড়কের নিচে থাকা ভাঙা সø্যাবের ফাঁক দিয়ে পড়ে মুহূর্তেই স্রোতের পানির সঙ্গে নালার ভেতরে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ১০-১৫ মিনিট চেষ্টায় ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা সামনে নালার ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় স্মৃতিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নালা সংস্কার ও পরিষ্কারের কাজ চলছিল। বেশ কয়েকটি স্থানে নালার ঢাকনা খোলা ছিল এবং অনেক সø্যাব ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিল। টানা বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে যাওয়ায় খোলা ড্রেন ও ভাঙা অংশগুলো পানির নিচে ঢেকে যায়, ফলে পথচারীরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি বুঝতে পারেননি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নগরের বিভিন্নস্থানে সড়কের পাশের নালা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কোথাও সø্যাব ভাঙা, কোথাও আবার ঢাকনা না থাকায় এসব নালা কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ নালাগুলো সংস্কার, খোলা অংশগুলো ঢেকে দেয়া এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলে জানা গেছে। শিশুটির পরিবার অভিযোগ করলে তদন্ত করে দেখবো।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অনাকাক্সিক্ষত। ওই এলাকার নালাগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ও ময়লা ফেলার কারণে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বৃষ্টি হলে দ্রুত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। গতকালও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ড্রেন পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। পরিষ্কারের জন্য কিছু সøø্যাব সরানো হয়েছিল। কাজ চলাকালীন হঠাৎ ভারী বৃষ্টি শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যে পানি জমে যায়। ফলে সরানো সøø্যাবগুলো আবার স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সময় সেখানে হাঁটু সমান পানি ছিল। এখানে অভিভাবকের সচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমরা জানতে পেরেছি, ঘটনার সময় শিশুটির মা ফোনে কথা বলছিলেন। তিনি সচেতন হলে পানিতে শিশুটির মৃত্যু হওয়ার কথা না। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে একটি শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ ঘটনায় সিটি করপোরেশন গভীরভাবে মর্মাহত।
