রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় ৯ দিন, অনিশ্চয়তা মানবেতর জীবনযাপন ৫ যুবকের

রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় ৯ দিন, অনিশ্চয়তা মানবেতর জীবনযাপন ৫ যুবকের

ফন্ট সাইজ:

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফের পুশইন চেষ্টার শিকার ৫ যুবক টানা ৯ দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এরমধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন অবস্থান করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় অনিশ্চতায় রয়েছে তারা। কোন দেশে ঠাঁই হবে এখনো জানেন না তারা। দুই দেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে তাদের ভাগ্য। এ অনিশ্চতায় জীবন থেকে মুক্তি চায় তারা বলে জানান স্থানীয়রা। প্রবল বৃষ্টি ও তীব্র রোদের মধ্যে সামান্য প্লাস্টিকের ছাউনির নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানি, গোসল ও স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মানবিক বিবেচনায় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে দ্রুত আলোচনা করে শূন্যরেখায় অবস্থানরত এসব ব্যক্তির বিষয়ে সমাধান করা হোক। দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় তাদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। বন্দিজীবন থেকে মুক্তি চায় তারা বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে সীমান্তের এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উভয় বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। গত ১৪ই জুন সকালে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ৬ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের অংশে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। পরে গত বুধবার ভোরে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে এখনো গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন আটকে রয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন