কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকায় অটোরিকশাচালক মাহাবুব আলম ওরফে মাসুম (৩২) হত্যা মামলার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তারসহ ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- দাউদকান্দি থানার দক্ষিণ টিলী গ্রামের নাঈম ইসলাম (২৩) এবং বাঙ্গরা বাজার থানার হিরাপুর/গকুলনগর গ্রামের আরমান সরকার (২০)। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৯শে জুন বিকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন মাসুম।
রাতে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলার পর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বাঙ্গরা বাজার থানার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ী গ্রামে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থল থেকে বিকৃত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা সেটি মাসুমের বলে শনাক্ত করেন। ঘটনার পর পরই জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম তদন্তে নামে। গোপন সংবাদে কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন অটোরিকশা বিক্রির সময় নাঈম ইসলামকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সে ও তার সহযোগী আরমান মিলে মাসুমকে হত্যা করে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং অপর আসামি আরমান সরকারকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে অটোরিকশা ছিনতাই বা চুরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মাহবুব আলমকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
