গ্যাস–সংকট কাটছেই না

সহযোগীদের খবর

গ্যাস–সংকট কাটছেই না

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘গ্যাস–সংকট কাটছেই না’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জাকিয়া রায়হানার বসবাস ঢাকার ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কে। তাঁর বাসায় তিতাসের গ্যাস–সংযোগ রয়েছে, সঙ্গে আছে ভোগান্তি। প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পেয়ে তিনি রান্না করতে পারেন না। এই রমজান মাসে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

জাকিয়া প্রথম আলোকে বলেন, চার দিন ধরে বাসার কোনো ফ্ল্যাটে গ্যাস নেই। আশপাশের বাসায়ও নেই। মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে। এভাবে চলা যায় না।

গ্যাসের এ সংকট আজকের নয়, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। এ সময়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সংকট কাটানোর কথা বলে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অর্থনীতিতে সংকট তৈরি করেছে। বড় অঙ্কের দেনার মুখে পড়েছে দেশ, কিন্তু গ্যাস–সংকট আর কাটেনি।

রান্নায় যেমন গ্যাস লাগে, তেমনি শিল্প খাত, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে গ্যাস লাগে। পরিবহনের একাংশ চলে গ্যাসে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো। না পারলে মানুষের ভোগান্তি যাবে না। আবার শিল্প খাত গ্যাস না পেলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বাধা তৈরি হবে। বিএনপি সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যপূরণও কঠিন হবে। দলটি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারে উন্নীত করার কথা বলছে, যা এখন ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের সমান (১ হাজার বিলিয়নে ১ ট্রিলিয়ন)।

বর্তমান গ্যাস–সংকট

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সব খাত মিলিয়ে দেশে গ্যাসের চাহিদা দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা হয় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। ফলে ঘাটতি থাকছে ১১৫ কোটি ঘনফুট। এ কারণে বাসাবাড়ি, শিল্পে গ্যাস ও পরিবহনে গ্যাস-সংকট থাকছেই।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দেশে গ্যাসের ১১ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নার কাজে। সবচেয়ে বেশি ৪১ শতাংশ ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ খাতে। শিল্পে (ক্যাপটিভসহ) যায় ৩৬ শতাংশ। সারে ৬ শতাংশ, সিএনজি খাতে ৫ শতাংশ ও চা খাতে ১ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার করা হয়। চাহিদা বুঝে বিদ্যুৎ থেকে কমিয়ে সারে, সার থেকে কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ বাড়ানো হয়। আবার সিএনজি স্টেশন বন্ধ করে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিএনপি সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় ছয় ঘণ্টা করা হয়েছে। তবু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস–সংকট চলছে।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বিদেশ থেকে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের একটি টার্মিনাল বন্ধ করা হয়। এরপর দেখা দেয় গ্যাসের তীব্র সংকট। ১৬ ফেব্রুয়ারি টার্মিনালটি চালু হয়েছে। সরবরাহ আগের পর্যায়ে গেছে গতকাল রোববার। ২৪ বা ২৫ ফেব্রুয়ারি এটি আবার রক্ষণাবেক্ষণের কথা রয়েছে। তবে এবার পুরোপুরি বন্ধ না করে সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে কাজ করা হতে পারে।

এলএনজি টার্মিনাল যখন বন্ধ হয়, তখন পাইপলাইন খালি হয়ে যায়। এতে পাইপলাইনে থাকা ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকে যায়। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এ সমস্যা বেশি। সেখানকার লাইন অনেক পুরোনো। অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকায় গ্যাস সরবরাহকারী তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির কর্মীরা বাড়ি গিয়ে পানি পরিষ্কার করছেন।

যদিও সার্বিকভাবে ঘাটতি থাকছেই। তিতাস সূত্র বলছে, দিনে তাদের চাহিদা ১৯০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ করা হচ্ছে ১৫০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ খুব শিগগির বৃদ্ধির আশা নেই।

সংকট যে কারণে

চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি ছিল আগে থেকেই। ২০০৯ সালে দায়িত্ব নিয়ে ওই বছর ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে নতুন আবাসিক গ্যাস-সংযোগ বন্ধের নির্দেশ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১১ সালের ৩ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে নতুন গ্যাস-সংযোগের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিতে যাচাই-বাছাই করে নতুন সংযোগ দেওয়া হতো। তখন গ্যাস–সংযোগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরে ২০১৯ সালের ২১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তিতাসের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি সংযোগ দেওয়া বন্ধ করে দেয় জ্বালানি বিভাগ।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশি গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়নি; বরং উৎসাহ ছিল আমদানিতে। ২০১৮ সালে শুরু হয় গ্যাস আমদানি। ২০২২ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। আমদানি করতে গিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কমতে থাকে। এতে ডলারের দাম বেড়ে যায়। ২০২২ সালের শুরুতে যে ডলার ৮৬ টাকা ছিল, তা এখন ১২২ টাকা। ডলারের বাড়তি দাম আবার আমদানির খরচ বাড়িয়ে দেয়।

আমদানি বাড়ানোর কথা বলে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপকভাবে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। ২০০৯ সালে দুই চুলার মাসিক বিল ছিল ৪৫০ টাকা। সেটি আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে যায় ১ হাজার ৮০ টাকায়। অন্যদিকে শিল্পে গ্যাসের প্রতি ইউনিটের দাম ছিল ৫ টাকা ৮৬ পয়সা, যা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওঠে ৩০ টাকায়। কিন্তু ঘাটতি পূরণ হয়নি; বরং শিল্পে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তখন গ্যাস খাতে সরকারের দেনা ছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাসাবাড়িতে গ্যাসের দাম বাড়ায়নি। তবে শিল্পে নতুন সংযোগে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয় প্রায় ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে সামিটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলে করা ভাসমান টামিনাল স্থাপনের চুক্তি বাতিল করা হয়। আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকার ‘টার্মশিট’ সই করেছিল, যা চুক্তিতে রূপান্তর না করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

দেশে গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন ও সংস্কারে জোর দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি গত সরকারের দেনা প্রায় পুরোটা পরিশোধ করেছে। যদিও ১৮ মাসের এই সরকার উৎপাদন ও সরবরাহ খুব একটা বাড়াতে পারেনি। আমদানি কিছুটা বাড়িয়ে উৎপাদন কমার ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেছে।

দেশীয় উৎপাদন কমছে
দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমছে উদ্বেগজনকহারে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে ২০১৭ সালেও দিনে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হয়েছে। এখন উৎপাদন করা হচ্ছে ১৭০ কোটি ঘনফুট।

জ্বালানি বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে গ্যাসক্ষেত্র আছে ২৯টি। এতে উত্তোলনযোগ্য মজুত ২৯ দশমিক ৭৪ টিসিএফ (লাখ কোটি ঘনফুট)। এর মধ্যে গত বছরের জুন পর্যন্ত উৎপাদিত হয়েছে ২১ দশমিক ৭৮ টিসিএফ। মজুত বাকি আছে ৭ দশমিক ৯৬ টিসিএফ। বর্তমান হারে উৎপাদন চললে বর্তমান মজুত দিয়ে চলা যেতে পারে সাত থেকে আট বছর। যদিও শেষ দিকে গ্যাসের একাংশ রেখেই উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়।

মজুত গ্যাসের মধ্যে সোয়া এক টিসিএফ আছে ভোলায়। যদিও ভোলার তিনটি গ্যাসক্ষেত্রের একটিতে সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদিত হচ্ছে। অন্য দুটিতে উৎপাদন শুরু করা হয়নি। ভোলার গ্যাস জেলার বাইরে আনার অবকাঠামো নেই। এই গ্যাস সিএনজি করে সিলিন্ডারে ভরে ঢাকায় আনা হয়, তবে পরিমাণে সামান্য।

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র হবিগঞ্জের বিবিয়ানার মজুত শেষের দিকে, তাই দ্রুত কমছে উৎপাদন। পেট্রোবাংলা বলছে, যত দিন যাবে, উৎপাদন কমতে থাকবে। দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে দরকার নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খনন।

অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পিছিয়ে

অনুসন্ধানের তুলনায় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে সফলতার হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি বাংলাদেশে। তবু যথাযথ অনুসন্ধান করা হয়নি। সমুদ্রসীমা বিজয়ের ১৪ বছর পরও বঙ্গোপসাগরে তেল গ্যাস আবিষ্কার করা যায়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিদেশি চারটি কোম্পানি—যুক্তরাষ্ট্রের কনোকো ফিলিপস, অস্ট্রলিয়ার সান্তোস, দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো দাইয়ু ও ভারতের ওএনজিসি কাজ শুরু করেছিল। চুক্তি সংশোধন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তুলেছিল তারা, বনিবনা না হওয়ায় তারা চলে যায়। স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানও জোর ছিল না। এরপর গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে কোনো কোম্পানি অংশ নেয়নি। নতুন করে দরপত্রের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

২০২২ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার অনুসন্ধান, সংস্কার ও উন্নয়ন মিলিয়ে ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেয়। কারণ, তত দিনে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে গিয়েছিল। আমদানির মতো বৈদেশিক মুদ্রাও ছিল না। ৫০টি কূপ খনন করা গেলে জাতীয় গ্রিডে দিনে প্রায় ৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার কথা। যদিও তা অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কূপ খননে জোর দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ২৫টি কূপের কাজ শেষ করা গেছে। বাকি ২৫টি এ বছর শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে আরও ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

সংকট কাটাতে কী করা হচ্ছে—জানতে চাইলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কূপ খনন বাড়ানো হচ্ছে। এ বছর ২৫টি কূপ খনন করা হবে। এলএনজি আমদানিতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণে কয়েকটি কোম্পানির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

যুগান্তর

‘বাংলাদেশে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না চীন’-এটি দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৃতীয়পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না বেইজিং। রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

একই দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা সাক্ষাৎ করে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চান।

সাংবাদিকদের চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের কোনো হস্তক্ষেপ চায় না চীন।

নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, আলোচনা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে যাবেন কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তরে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, আগে যেরকম চীনে হাই লেভেল ভিজিট হয়েছে। আমরা আশা করি, এবারো চীনে হাই লেভেল ভিজিট হবে।

নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় ভারত: রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর প্রণয় ভার্মা বলেন, আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আমি আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছি যে, আমরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রতীক্ষায় আছি। আমি জানিয়েছি, পারস্পরিক স্বার্থ ও লাভের ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী মনোভাব নিয়ে সব ক্ষেত্রে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার এবং আমাদের বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। আমরা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেছি।

ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় পাকিস্তান:
পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার ও সম্প্রসারিত করতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য তার সরকারের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জনগণের কল্যাণে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার। এদিন হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ: দুই দেশের জনগণের স্বার্থে ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। রোববার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ফোনালাপের পর নিজের এক্স হ্যান্ডলে এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত ছিলেন হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলাদা বৈঠকে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সকালে রাষ্ট্রদূত প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করছে সরকার’। খবরে বলা হয়, সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এরই মধ্যে বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ দুই পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গতকাল রোববার সেনাবাহিনীর আটটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে। পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আনা হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ জ্যেষ্ঠ পদগুলোতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বেসামরিক প্রশাসনেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনবে। তবে একবারে নয়, পর্যায়ক্রমে রদবদল করা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। বর্তমানে শুধু সচিব ও সমপর্যায়ের পদে অন্তত ১৫ কর্মকর্তী চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। তারা ছাড়াও দায়িত্বে থাকা সচিবসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বড় অংশই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির পছন্দে নিয়োগপ্রাপ্ত। ফলে এই কর্মকর্তারা বহাল থাকবেন। তৎকালীন সরকারের পছন্দে এবং জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির বরাতে যাদের পদায়ন হয়েছিল, তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে।

রদবদলে দুই সেনা কর্মকর্তা পররাষ্ট্রে

সরকার গঠনের পাচ দিনের মাথায় গতকাল সেনাবাহিনীর আটটি জোর্ভ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেনাসদর থেকে জারি করা আদেশ অনুযায়ী, চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল রাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল প্লাসানকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিতে তাঁর চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নাক্ত করা হয়েছে। পিএসও হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। এর আগে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন তিনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ডিজিএফআইর মহাপরিচালক পদে আসতে যাচ্ছেন কায়সার রশিদ চৌধুরী। বর্তমানে সেনাসদরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের দায়িত্বে থাকা এ কর্মকর্তী মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতির পর যোগদান করবেন। ডিজিএফআইর বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হচ্ছে!

মেজর জেনারেল জেএম ইমদাদুল ইসলামকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশন থেকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে (ইবিআরসি) কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ পদে থাকা মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসানকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে। দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাডভাইজার রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানকে মেজর জেনারেলে পদোন্নতি দিয়ে ৫৭৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা

সচিবালয় সূতগুলো জানিয়েছে, ধাপে ধাপে পরিবর্তন আসবে জনপ্রশাসনে। সরকার গঠনের আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং শপথের পর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদে বদল এসেছে। সরকারের ১৮০০ দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অগ্রাধিকারের কাজে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী সমকালকে বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনা আগামী দুদিনে চূড়ান্ত হবে। পরেয়াতি, পদায়ন ও বদলি হবে মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যভিনা বলছেন, পরিবর্তন অস্বাভাবিক না হলেও আশা করেন, বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের মতো দলীয়করণ করবে না, অযোগ্যদের নিয়োগ দেবে না। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, 'মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ' বিনির্মাণে যোগ্যতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়।

নতুন সরকার গঠনের আগের তিন দিনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেষ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উলদেরীর মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া সরে খান। চুক্তিতে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব চয়েছেন এ বি এম আবদুস ছাত্তার। তিনি বিএনপির চেয়াপারসন খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব ছিলেন।

ইত্তেফাক

‘সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে রদবদল’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে রদবদল করা হয়েছে। শিগিগরই পুলিশ ও প্রশাসনেও রদবদল হতে যাচ্ছে। কে আসছেন পুলিশের শীর্ষ পদে? তা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এমনকি প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে অবসরপ্রাপ্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের বসানো হচ্ছে বলে সচিবালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই মুহূর্তে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সিভি নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনে গতি আনতে শিগিগরই এই রদবদল করতে চায় সরকার। ঈদের আগেই কাজ শেষ করতে চায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। এদিন সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসানকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে রাষ্ট্রদূত পদে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমানকে আর্টডক থেকে সিজিএস, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জেড এম এমদাদুল ইসলামকে চট্টগ্রামস্থ ইবিআরসি-তে, ইবিআরসির মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সেলিমকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং ডিজিএফআই-এ সংযুক্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজুর রহমানকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি পদে পদায়ন করা হয়েছে।

শোনা যাচ্ছে যে, পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আসতে পারে? সেটা কি শিগিগরই আসবে নাকি আরো দেরি হতে পারে? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কিছু পরিবর্তন তো আসবে, একটু সময় দিলে আরকি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মোহাম্মদপুরের আদাবরে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ডগুলোতে আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন? জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এ রকম একটা সংবাদ আমাদের কানেও এসেছে। আমি এটা খোঁজ নিতে বলেছি, তদন্ত করে আমাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। যদি সে রকম কিছু হয়—আমরা এই সমস্ত বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান আইজিপির মেয়াদ আরো কয়েক মাস থাকলেও দ্রুত তাকে বিদায় করে নিজেদের পছন্দের একজনকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দিতে চায় সরকার। তবে সেই নিয়োগ কি পুলিশের ভেতর থেকে—নাকি অবসরপ্রাপ্ত কাউকে এনে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, এই মুহূর্তে যারা চাকরিতে বহাল আছেন তাদের মধ্যে বিশ্বস্ত কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না বর্তমান সরকার। যার উপর প্রশ্নবিদ্ধ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার আস্থা রাখতে পারে। ফলে অবসরপ্রাপ্ত কাউকেই আনতে চায় সরকার।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘১২ মার্চ বসছে সংসদ’। খবরে বলা হয়, দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বসছে- এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ উপস্থাপন, শোক প্রস্তাব এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ থাকবে।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সংসদ সচিবালয়ের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দফতর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে; সংবিধান ও প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে অধিবেশন আহ্বান করবেন।

সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কেন ১৫ দিন আগে প্রজ্ঞাপন : জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অধিবেশন আহ্বানের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৫ দিন আগে প্রজ্ঞাপন জারি করার বিধান আছে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময়রেখা মেনেই ১২ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম অধিবেশন হওয়ায় প্রশাসনিক প্রস্তুতিও বেশি- সদস্যদের শপথ, আসন বিন্যাস, স্থায়ী কমিটি গঠন, অধ্যাদেশ বিল আকারে তোলা- সব মিলিয়ে এটি কার্যত ‘ফাউন্ডেশন সেশন’।

প্রথম দিনের সম্ভাব্য কর্মসূচি : মন্ত্রী যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা থেকে সম্ভাব্য এজেন্ডা দাঁড়াচ্ছে- স্পিকার নির্বাচন; ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন; অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ উপস্থাপন; শোক প্রস্তাব; রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও নৈমিত্তিক কার্যক্রম।

সংসদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পিকার ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; কক্ষ পরিচালনা, রুলিং, বিরোধী দলের সময় বণ্টন- সব ক্ষেত্রেই তাদের ভূমিকা রাজনৈতিক ভারসাম্য নির্ধারণ করে।

অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ : আইনে রূপ নাকি বাতিল : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো এই অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেগুলো বিল আকারে পাস না হলে বিলুপ্ত বা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।

আইন বিশ্লেষকদের মতে, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে থাকতে পারে- প্রশাসনিক পুনর্গঠন; নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিধান; নির্বাচন ও সংস্কার কমিশন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক বা নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন। এর ফলে প্রথম অধিবেশনই হয়ে উঠতে পারে ‘আইনগত বৈধতা’ দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

বণিক বার্তা

‘অন্তর্বর্তী সরকারের দেয়া অনেক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হবে ঈদের পর’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সে সময়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বড় অংশ এখনো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দপ্তরপ্রধান হিসেবে কর্মরত। তবে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর চুক্তিভিত্তিক অনেক কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক অনেক কর্মকর্তার মেয়াদ শেষের দিকে। অনেকে আবার নিজেই পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আব্দুর রশিদের চুক্তি বাতিলের প্রজ্ঞাপন হয়।

সে সময় শেখ আব্দুর রশিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের কারণে তা গৃহীত হয়নি। একই দিন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। একদিন পর তিনিও চাকরি থেকে পদত্যাগের আবেদন করেন। ওইদিনই মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। শেখ আব্দুর রশিদ ও সিরাজ উদ্দিন মিয়া দুজনই অন্তর্বর্তী সরকারের দেয়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত ছিলেন।

চুক্তিভিত্তিকের পাশাপাশি অনেককে সাময়িক নিয়োগও দিয়েছিল বিগত সরকার। গতকাল সকালে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। তাকে সাময়িক নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। দেশের আরো তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সাময়িক নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে জনপ্রশাসন ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বড় অংশের নিয়োগ বাতিল করে তাদের জায়গায় নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। তবে এ সিদ্ধান্ত এখনই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জনপ্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল হতে যাচ্ছে। রমজান মাসের কারণে একটু সময় নেয়া হচ্ছে। ঈদের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বড় অংশকেই বাদ দেয়া হতে পারে। পাশাপাশি মেধাবী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রশাসন সাজানোর নির্দেশনা এসেছে।’

সরকারি কর্মচারী বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার অন্তত ১৮ কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বাদে বাকি সবার নিয়োগ হয় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। অন্তর্বর্তী আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন—মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, পরিকল্পনা কমিশনের দুই সদস্য (সিনিয়র সচিব) মো. মোখলেস উর রহমান ও এমএ আকমল হোসেন আজাদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মকসুমুল হাকিম চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. নেয়ামত উল্লাহ ভূইয়া, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সিনিয়র সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের।

এছাড়া রয়েছেন ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ, পর্তুগালের লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত (সচিব) মো. মাহফুজুল হক, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এজেএম সালাউদ্দিন নাগরী, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরিফা খান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এসএম মঈন উদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘ঢাকায় ৪০১ ভাড়াটে খুনি’। খবরে বলা হয়, রাজধানী ঢাকায় গত এক বছরে আলোচিত সব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ভাড়াটে খুনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশদাতারা নেপথ্যে থেকে টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে শুটার দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এসব মামলার তদন্তে নেমে রাজধানীতে সক্রিয় ৪০১ জন ভাড়াটে শুটার বা খুনিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাদের তালিকাও করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সূত্র বলছে, ডিএমপির আট অপরাধ বিভাগে শনাক্ত করা এই ৪০১ জন ভাড়াটে শুটারের মধ্যে ১১৮ জনই মতিঝিল বিভাগে। এরপরই রয়েছে ওয়ারী বিভাগে, ৭৩ জন। এই শুটারদের অধিকাংশের কারও বিরুদ্ধে হত্যাসহ সর্বোচ্চ ৪৩টি এবং কারও বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। তারা কিছুদিন পরপর স্থান পরিবর্তন করে। ভাড়াটে খুনিদের কারণে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে।

পুলিশের সূত্র জানায়, গত বছরের ২১ মার্চ গুলশানে ব্রডব্যান্ড (ইন্টারনেট সংযোগ) ব্যবসায়ী সুমন মিয়া ওরফে টেলি সুমন হত্যায় ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করা হয়। এরপর গত ১০ মাসে ভাড়াটে খুনি দিয়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত বছরের ১৭ নভেম্বর পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে দোকানে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সাবিহা আক্তার দিনার পল্লবী থানায় করা মামলাটি ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তদন্ত করছে।

এ মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার প্রধান আসামি জনি ভূঁইয়ার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী মফিজুর রহমান মামুনের নির্দেশে কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়। দুবাই থেকে দেশে আসা পাতা সোহেল ওরফে মনির হোসেনসহ কয়েকজন ভাড়াটে শুটার এই হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে সোহাগ ওরফে কাল্লু, মাসুম ওরফে ভাগিনা মাসুম, মাসুম বিল্লাহ, নজরুল ইসলাম, জামাল সরদার ও রোকন। তদন্তকারীদের দাবি, তারা সবাই পেশাদার ভাড়াটে খুনি।

ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল আজকের পত্রিকাকে বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। আরও কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

ডিবি বলছে, গত এক বছরে রাজধানীতে আরও কয়েকটি টার্গেট কিলিং হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে ভাড়াটে খুনিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৫ মে রাতে মধ্য বাড্ডায় গুলশান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল আহসান সাধন, ৮ জানুয়ারি কারওয়ান বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির, ২১ মার্চ গুলশানে ব্রডব্যান্ড ব্যবসায়ী সুমন মিয়া ওরফে টেলি সুমন, ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকায় আদালতের কাছে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন এবং ১১ ডিসেম্বর শ্যামবাজারে মসলা ব্যবসায়ী আবদুর রহমান ভূঁইয়া হত্যা রয়েছে। সব ঘটনাতেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করেছে ভাড়াটে শুটাররা।

দেশ রূপান্তর

‘সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতিবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ ও স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কোনো একক আইনি পদক্ষেপে সম্ভব নয়; এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জনসম্পৃক্ততার সমন্বিত প্রক্রিয়া দরকার। বর্তমান বাস্তবতায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তৃতি রয়েছে। ব্যাংক খাতে জালিয়াতি, ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমে অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষগ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অপরাধ দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করে দুর্নীতি দমন কমিশন, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বহুমাত্রিক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এ ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত ফল আসছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন একটি ধারাবাহিক সংস্কার প্রক্রিয়ার বিষয়। শক্তিশালী ও স্বাধীন তদন্ত সংস্থা, নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া, ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা, দ্রুত বিচার এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই হবে এ লক্ষ্য অর্জনের প্রধান চাবিকাঠি। এজন্য নতুন সরকারকে প্রথমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাশাপাশি দুদক আইনের সংশোধন, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ না দেওয়া, দুদকের নিজস্ব প্রসিকিউশন ইউনিট গঠন ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলে রাষ্ট্রের দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে।

তারা বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি, নজরদারি ও তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর করা না হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। যেখানেই অব্যবস্থাপনা বা অনিয়ম ধরা পড়বে সেখানে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যাতে তদন্ত সংস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। দুর্নীতি দমন শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়; নাগরিকদের সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা, গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রচারণার মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতি তৈরি করা গেলে দুর্নীতির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কমবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আইন অনুযায়ী দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা হলেও বাস্তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কমিশন ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে কর্মকর্তারা অনেক সময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেন না। দুর্নীতি দমন কার্যকর করতে হলে স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। বিতর্কিত বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

MD Khan

৩ মাস আগে

শুধু মানবজমিন পত্রিকা পড়লেই সব পত্রিকা পড়া হয়ে যায়। যেমন, সহযোগীদের খবর । এখানে অন্যান্য জাতীয় দৈনিকের সব গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলি শেয়ার করা হয়। এটা চমৎকার আইডিয়া। সুন্দর একটা সিস্টেম। ধন্যবাদ মানবজমিন। ধন্যবাদ মতিউর রহমান চৌধুরী।

মন্তব্য করুন