মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতির বিরুদ্ধে রায়ের দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৩০শে জুন এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ।
সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ইনুর বিরুদ্ধে সুপেরিয়র রেসপনসিবিলিটির আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত, বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং তৎকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায় তার ওপর বর্তায়।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তাদের সাক্ষ্যে ইনুর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশন মনে করে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিই আমাদের প্রত্যাশা।”
তবে আসামিপক্ষের দাবি, ইনু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ও টেলিফোন আলাপে যুক্ত থাকলেও তিনি সরাসরি কোনো সহিংসতার নির্দেশনা বা উসকানি দেননি। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলাটি এখন রায়ের অপেক্ষায় থাকায় এর মেরিট নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
মাহবুব আলম হানিফের রায়ের তারিখ এখনও হয়নি:
এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, মাহবুব আলম হানিফের বিরুদ্ধে চলমান মামলার রায়ের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তিনি ধারণা প্রকাশ করে বলেন, ট্রাইব্যুনাল সম্ভবত ৩০ জুনের রায় প্রস্তুতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অন্য মামলার রায়ের দিন এখনও ঘোষণা করেনি।
ওয়াছিম হত্যা মামলায় চার্জ গঠনের পথে ট্রাইব্যুনাল:
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ওয়াছিম হত্যা মামলায় আসামিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ফজলুল করিম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ অবস্থায় আইনের বিধান অনুযায়ী তার আইনজীবীর উপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন।
তিনি জানান, আগামী পরশু আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং সেদিনই চার্জ গঠন হতে পারে বলে প্রসিকিউশনের আশা।
জিয়াউল আহসানের মামলায় বিলম্বের অভিযোগ:
র্যাবের সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষ বিভিন্ন আবেদন ও সময় প্রার্থনার মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ইমরুল কায়েসের জবানবন্দি গ্রহণের পর তার জেরা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষ একাধিক আবেদন দাখিল করায় সেগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসামির আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদনকে সমর্থন করলেও অন্যান্য আবেদনকে মামলার সঙ্গে অসংগত ও অপ্রাসঙ্গিক বলে বিরোধিতা করেছে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনাল এসব আবেদনের বিষয়ে আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন। একইসঙ্গে সাক্ষী ইমরুল কায়েসের জেরা আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
সাক্ষী ইমরুল কায়েসকে নিয়ে আসামিপক্ষের সমালোচনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় জিয়াউল আহসানের সঙ্গে ‘রানার’ হিসেবে কাজ করেছেন এবং আদালতে বিভিন্ন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তার সাক্ষ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা আদালতেই জেরার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও এক সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে:
হেফাজত-সংশ্লিষ্ট মামলার প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, একজন সাংবাদিক ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনজীরকে দেশে ফেরাতে সরকারি উদ্যোগ অব্যাহত:
সাবেক আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তার বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরের ঘটনায় পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউশন মনে করে। তিনি আরও জানান, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে কার্যক্রম চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যথাসময়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে চলমান ও ভবিষ্যৎ বিচার কার্যক্রমের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।
