ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান নিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) সমর্থকরা। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা এবং তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে জেন জি’দের এই রাজনৈতিক আন্দোলনে, কর্মীরা সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। চলতি বছরের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। যুবসমাজকে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচের সঙ্গে তুলনা করার পর বোস্টন ইউনিভার্সিটি (বিইউ) থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা অভিজিৎ দিপকে এক্সে একটি পোস্ট করেন। সেখান থেকেই মূলত এই ভাইরাল আন্দোলনের জন্ম।
বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে এই দলের অনুসারী সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা ভারতের গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ক্ষমতাসীন দলের অনুসারীর চেয়েও দ্বিগুণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই রসাত্মক ক্ষোভ এখন রূপ নিয়েছে রাজপথের আন্দোলনে। ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ২৫ বছরের কম বয়সী। সম্প্রতি একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফলাফলের অনিয়ম নিয়ে তরুণদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসের কারণে বাতিল করা হয়।
গত রবিবার প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় এই পরীক্ষায় অংশ নিলেও, অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা বর্জন করে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে শামিল হন। প্রশ্ন ফাঁসের পর দেশটিতে এক ডজনেরও বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। সরকার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সাময়িকভাবে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করলেও সমালোচকরা একে একটি অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আন্দোলনের নেতা অভিজিৎ দিপকে চলতি মাসের শুরুতে দেশে ফিরে অনলাইন ক্ষোভকে রাজপথে নামিয়ে আনেন। গত ৬ই জুন নয়াদিল্লিতে প্রথম প্রতিবাদের পর মুম্বই, বেঙ্গালোর এবং নাগপুরসহ বিভিন্ন শহরে শত শত তরুণ এই আন্দোলনে যোগ দেন।
শনিবার থেকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া এই অবস্থান ধর্মঘটে পুলিশ পানি ও খাবার সরবরাহ বন্ধ করার মতো নানা চাপ প্রয়োগ করলেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেননি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই স্থান ছাড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনকালে কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের নজির নেই। তবে আন্দোলনকারীরা আত্মবিশ্বাসী যে তারা দাবি আদায় করেই ছাড়বেন।
অভিজিৎ আল জাজিরাকে জানান, তারা নিশ্চিত যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, যদি সরকার ভেবে থাকে তাদের দমানো সম্ভব হবে তবে তারা ভুল ভাবছে। আমরা দমে যাবো না। দাবি আদায় না হওয়া অব্দি আমরা এখান থেকে সরছি না।
