খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

সহযোগীদের খবর

খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, খুন, ধর্ষণ, মব, গণপিটুনি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিদিনই ঘটছে। দেশের মানুষের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য এ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক ও ভীতিকর বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তবে পুলিশ বলছে, তারা পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংঘবদ্ধ হয়ে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা তো বটেই, এমনকি কবর থেকে মরদেহ তুলে পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। স্মরণকালের ইতিহাসে এমন ঘটনা দ্বিতীয়টি নেই। সে তুলনায় নতুন সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এখনও পুরোপুরি ফেরেনি।

পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামিনে মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগি অপরাধী চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হন একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। তিনি ২০০১ সালে প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। দীর্ঘ কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।

ঢাকার মোহাম্মদপুরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল দুই কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে অ্যালেক্স গ্রুপের নেতা মো. ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমন নিহত হন। চার দিনের মাথায় একই এলাকায় আরেক যুবক খুন হন।

৩ মে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় একাধিক ব্যক্তিকে ট্রাকচাপা দেওয়ার গুজব রটিয়ে হান্নান শেখ নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ৯ মে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাগচালা এলাকায় গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে তিনজনের মৃত্যু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সরকার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখাতে পারলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং তা ধরে রাখা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বাহিনীর সদস্যদের অনেক সময় হামলার শিকার হতে হচ্ছে, এমনকি অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

পাঁচ মাসে ১,৪৫২ খুনের মামলা

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে সারাদেশে খুনের ঘটনায় এক হাজার ৪৫২টি মামলা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই ঘটনায় একাধিক মানুষ খুন হলেও হত্যা মামলা হয় একটি।

একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের সাত হাজার ৯১০টি, অপহরণের ৪৩৭টি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ৮৫৮টি এবং মাদক-সংক্রান্ত ২৬ হাজার ১৪১টি মামলা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা হয়েছে চার হাজার ৯১২টি।

আগের বছর একই সময়ে খুনের মামলা হয়েছিল এক হাজার ৫৮৭টি। এই পরিসংখ্যানে আগের খুনের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ছিল ৯ হাজার ১০০টি এবং চুরি-ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা ছিল চার হাজার ৯৫৫টি।

মব সহিংসতায় শতাধিক প্রাণহানি

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ১৯৮টি মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে এপ্রিলে ৪৪টি ঘটনায় ২২ জন ও মে মাসে ৬৬টি ঘটনায় ৩১ জন প্রাণ হারান।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ মাসে ৭৭২টি রাজনৈতিক সংঘাতে ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে এক হাজার ২৬৯ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ধর্ষণের শিকার ২৯৮ জন। বিভিন্ন কারণে প্রাণ হারিয়েছে ২৫১ শিশু।

অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ৮৯ জন। একই সময়ে ২৩৯ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৮৫ জনকে। ধর্ষণ-সংক্রান্ত ঘটনায় ২৬ নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ মাসে এক হাজার ৩৫ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৫১ শিশু ও ৫৮৪ নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫০ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৮ জনকে। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে ২৩৭ নারী ও শিশু হত্যার শিকার হয়েছেন।

হামলার শিকার র‌্যাব, পুলিশ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও বাড়ছে। গত মে মাসে ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় ১৩টি স্থানে হামলার শিকার হন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা।

২০ মে রাজধানীর পল্লবীর কালশীতে সরকারি জমি থেকে অবৈধ বস্তি উচ্ছেদ অভিযানে গেলে পুলিশের ওপর হামলা হয়। পরদিন চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দারা ছয় ঘণ্টা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং একটি পুলিশ পিকআপে আগুন ধরিয়ে দেন।

২২ মে সিলেটে এক মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য নিহত হন। এর দুদিন আগে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন এক পুলিশ সদস্য।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক সদস্য এখনও পুরোপুরি মনোবল ফিরে পাননি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো জটিলতায় পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমর্থন পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

নানা পেশার মানুষ উদ্বিগ্ন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত একজন সরকারি কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, সামাজিক মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই ছিনতাইয়ের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়। ছিনতাইকারীদের হাতে চাপাতি, আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। এগুলো জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। নিরাপত্তাহীনতার বোধ সবাইকে তাড়া করে।

রাজধানীর পল্লবীর বাসিন্দা ফেরদৌস সুলতান বলেন, মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা যেন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। সারাদেশে এত খুনখারাবি হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো অনেক খুন হচ্ছে দিনদুপুরে; প্রকাশ্যে গুলি চালায় অপরাধীরা। কিছুদিন আগে পল্লবীতে আট বছরের এক মেয়েকে ধর্ষণের পর মাথা বিচ্ছিন্ন করা হলো।

ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আবদুর রহিম সমকালকে বলেন, এর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো মব সন্ত্রাস। কিছু হলেই শত শত লোক জড়ো হয়ে হামলা-ভাঙচুর চালায়, এমনকি লোকজনকে পিটিয়ে হত্যা করে। এটি মেনে নেওয়া যায় না। এটি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। আশা করেছিলাম, রাজনৈতিক সরকার আসার পর এই মব কালচার বন্ধ হবে। কোনো মানুষ অপরাধ করলে তার বিচার হবে। মানুষ কেন আইন নিজের হাতে তুলে নেবে?

উদ্বেগের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, গত পাঁচ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা গেলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি সন্তোষজনক বলা যায় না। বিশেষ করে গণপিটুনির ঘটনা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, রাষ্ট্রকে আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে নাগরিকরা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে পারেন। প্রচলিত আইনে বিচার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করেই কেবল একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

পরিস্থিতির উন্নতির দাবি পুলিশের

পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

রফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করার যে প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে, তা পুরোপুরি কাটতে সময় লাগবে। মানবাধিকার বিবেচনায় পুলিশ সদস্যরা আগের তুলনায় বেশি সংযত থাকায় অপরাধীরা অনেক সময় সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

প্রথম আলো

‘শ্রমবাজারের সঙ্গে গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ-বাণিজ্য’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে পুত্রজায়ায় আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেবেন। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস পর তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে গেলেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তিনি গতকাল স্থানীয় সময় রাত পৌনে নয়টায় কুয়ালালামপুরে পৌঁছান।

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তাঁর সহধর্মিণী। লালগালিচা সংবর্ধনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়; সফরে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ও সফরসঙ্গীরা এই হোটেলে থাকবেন।

দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ তারেক রহমান আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রথমে একান্তে ও পরে প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠকে বসবেন। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকসহ বেশ কয়েকটি দলিল সইয়ের কথা রয়েছে। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

আজ মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ায় ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তিনি তাঁর সম্মানে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দেওয়া রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন। এরপর তিনি সাক্ষাৎ করবেন মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দরের সঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়া সফরে গেছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সফরসঙ্গীদের মধ্যে আরও আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ দিনের সফরে চীনের উদ্দেশে কুয়ালালামপুর ছেড়ে যাবেন।

কেন প্রথম সফরে মালয়েশিয়া

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত, মালয়েশিয়া ও চীন—তিন দেশই আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। একপর্যায়ে প্রথম সফর চীনে হবে, এমন আভাসও ছিল। তবে সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে সরকার। সে কারণে দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় একটি দেশকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কূটনীতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য শুধু প্রটোকলের বিষয় নয়; এটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারেরও একটি প্রতীকী বার্তা। সেই বিবেচনায় ভারত বা চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

চীন কিংবা ভারতের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের জন্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারা, দ্বিপক্ষীয় যুক্ততা এবং আসিয়ানে মালয়েশিয়ার প্রভাব—এ বিষয়গুলো সরকার বিবেচনায় নিয়েছে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামানের মতে, সামগ্রিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া ইতিবাচক। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা উত্তরোত্তর বাড়ছে। বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য মুসলিম দেশটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ফের প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান!’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটে ফের দায়িত্ব পেয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান। অথচ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন গত বছর ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে আসেন, তখন ভিভিআইপি ফ্লাইটে ফুয়েল সিস্টেমে গুরুতর ত্রুটি চিহ্নিত হয়। যে কারণে মাঝ আকাশে আগুন লাগার ঝুঁকিও তৈরি হয়। এ বিষয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি সাইফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। ইতোমধ্যে তাকে চট্টগ্রামে বদলিও করা হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে রিলিজ না করে পুনরায় তাকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটে দায়িত্বে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট অনেকে ক্ষোভ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৌশলীর সিদ্ধান্তকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ থাকলে তা আমলে নেওয়া উচিত। ভিভিআইপি দায়িত্ব থেকে এ সময় তাকে বিরত রাখা উচিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট সাধারণ কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট নয়। এখানে জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক মর্যাদা এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি সুরক্ষার প্রশ্ন জড়িত।

যুগান্তরের হাতে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রডাকশন) মো. আলী নাসের স্বাক্ষরিত দায়িত্বপত্রে দেখা যায়, ভিভিআইপি ফ্লাইটের জন্য মোট ছয়জন প্রকৌশল কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুজন সরাসরি সফরসঙ্গী হিসাবে বিমানের সঙ্গে বিদেশ যাচ্ছেন। এই তালিকার প্রথমেই রয়েছে প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান খানের নাম। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রকৌশলী মো. সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী, ২১ জুন ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরগামী ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি-৩৮৬-এ সাইফুজ্জামান সফর করবেন। পরদিন কুয়ালালামপুর থেকে চীনের ডালিয়ানগামী ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি-১৬০১-এর কারিগরি দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ডালিয়ানে পৌঁছে সরকারপ্রধানকে বহনকারী উড়োজাহাজের চূড়ান্ত কারিগরি সনদ (টেকনিক্যাল সার্টিফিকেশন) প্রদানের দায়িত্বও তার। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তার হাতে কেন আবারও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভিভিআইপি ফ্লাইটের নিরাপত্তাসংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব দেওয়া হলো।

এদিকে ১৭ জুন বিমানের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ড. মুহাম্মদ মাহেব হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সাইফুজ্জামান খানসহ ১৭ জন ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়। ওই আদেশে সাইফুজ্জামানকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। কিন্তু যাকে বদলি করা হয়েছে তাকে আবার প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটের দায়িত্ব দিয়ে বিদেশ সফরে পাঠানো হলো। এ নিয়ে বিমানের ভেতরে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে শঙ্কিত।

এ প্রসঙ্গে বিমানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ঘটনায় তদন্ত কমিটি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে, তাহলে তাকে ভিভিআইপি ফ্লাইটের মতো স্পর্শকাতর দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তদন্তে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কেন ফের ভিভিআইপি ফ্লাইটের দায়িত্ব দেওয়া হলো জানতে চাইলে বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. মনজুর-ই-আলম যুগান্তরকে বলেন, সাইফুজ্জামান খান একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী। তিনি নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত। অফিস আদেশ মোতাবেক ২৭ জুন তাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে এবং তিনি ১ জুলাই চট্টগ্রামে যোগদান করবেন।

কালের কণ্ঠ

‘নতুন মাদকের নীরব বিস্তার’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সময়ের তালে অনেক কিছুর মতো মাদকেরও রূপ, রং ও আদল পাল্টেছে। তবে দেশে প্রচলিত মাদক বলতে বোঝায় হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা কিংবা ইয়াবা।

সময়ের চাহিদায় এসব মাদকেও এসেছে পরিবর্তন। ফলে প্রচলিত মাদকের পাশাপাশি দেশে অনেকটা নীরবে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন প্রজন্মের বিচিত্র সব মাদক। এসব মাদকের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কাছে বেশি পরিচিত সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক। নতুন এই মাদকের গড়ন-গঠনও পাল্টে হয়েছে এমডিএমবি, আইস, খাথ, এলএসডি, ফেন্টানাইল, ব্ল্যাক কোকেন, এমডিএমএ, ডিএমটি, ডিওবি, ম্যাজিক মাশরুম, কুশ, ট্যাপেন্টাডল, ট্রামাডল এবং কিটামিন।

নতুন প্রজন্মের মাদক অনেক বেশি ব্যয়বহুল। ২০১৮ সালের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত এক ডজনের বেশি নতুন প্রজন্মের মাদকের সন্ধান পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

বিশেষজ্ঞ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে তরুণদের বড় একটি অংশের মধ্যে নতুন এই মাদকের ব্যবহার বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মাদকগুলো অনেকটা নিভৃতে প্রবেশ করছে দেশের অভ্যন্তরে।

আবার নিভৃতেই নতুন প্রজন্মের মাদক দেশের অভ্যন্তরে বাজারও তৈরি করে নিয়েছে। নতুন প্রজন্মের এই মাদকের অন্তত ৯০ শতাংশ অনলাইনে বেচাকেনা ও টাকা পরিশোধ করা হয়। তবে সরকার এরই মধ্যে ডিজিটাল (অনলাইন) মাধ্যমে পরিচালিত নতুন প্রজন্মের মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে মাদক আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন প্রজন্মের মাদকের পাশাপাশি পুরনো মাদকের বিস্তারও থেমে নেই। ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, কোকেন ও ফেনসিডিল জব্দের তালিকাই বলে দিচ্ছে এসব মাদকের বিস্তারও আতঙ্কজনক।

গত বছর গড়ে যেখানে প্রতি মাসে ৩৬ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গড়ে ৪০ লাখের বেশি ইায়াবা জব্দ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এ ছাড়া গত বছর ১৬৬ কেজি হেরোইন উদ্ধার হলেও চলতি বছর প্রথম তিন মাসে ৬১ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। গত বছর ১৪ কেজি ৬০০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হলেও চলতি বছর প্রথম তিন মাসে ১৬ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় ইয়াবা, কোকেন, হেরোইন, গাঁজাসহ প্রচলিত মাদকের প্রবণতাও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যত মাদক উদ্ধার হচ্ছে তার কয়েক গুণ বেশি আইনের ফাঁকফোকর এড়িয়ে চলে যাচ্ছে সেবনকারীদের কাছে।

গত মার্চ মাসে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে চীনা তিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। ওই ফ্ল্যাটের ভেতর পাওয়া যায় অস্থায়ী একটি ল্যাবরেটরি। যেখানে তরল কিটামিনকে পাউডারে পরিণত করে ব্লুটুথ স্পিকার ও সাউন্ড ইকুইপমেন্টের ভেতরে ঢুকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল। সেখান থেকে ছয় কেজি কিটামিন, ডিজিটাল স্কেল, প্যাকেজিং মেশিন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনে ব্যবহৃত একটি পেনড্রাইভ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের মাদকে এভাবে রূপান্তর করে মাদকসেবীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের মাদকের বেশির ভাগ ভোক্তা ধনিক শ্রেণির তরুণ প্রজন্ম। এসব মাদক ব্যয়বহুল হওয়ায় তাদের কাছে এটি বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

ইত্তেফাক

‘ইলিয়াস আলীকে গুম করেন র‌্যাবের জিয়াউল আহসান’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র্যাবে কর্মরত থাকাবস্থায় অসংখ্য গুম ও খুনে জড়িত ছিলেন বিশেষ এই বাহিনীর সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মে. জে. (অব.) জিয়াউল আহসান। কাউকে ইনজেকশন পুশ করে, আবার কাউকে মাথায় গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন তিনি। হত্যার পর কমান্ডো নাইফ (ছুরি) দিয়ে চিরে ফেলা হতো পেট। তারপর অধীনস্থদের নির্দেশ দিতেন লাশ নদীতে ফেলতে। শুধু তা-ই নয়, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন এই জিয়াউল আহসান; যা উঠে এসেছে ঐ সময়ে জিয়াউল আহসানের বডিগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সেনাসদস্য ইমরুল কায়েসের এক লোমহর্ষক জবানবন্দিতে। যিনি বর্তমানে ওয়ারেন্ট অফিসার কর্মরত। গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই জবানবন্দি দেন ইমরুল। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, “২০১২ সালের সম্ভবত ১৩ এপ্রিল র‍্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে জিয়া স্যার এবং মেজর নওশাদ স্যার, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ স্যারসহ আমরা মহাখালী ফ্লাইওভারের নিকট যাই। কাকে গাড়িতে পিক করবে তা আমি জানতাম না। জিয়া স্যার গাড়িতে বসে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করছিলেন। টার্গেট কখন আসবে, তা জানার জন্য ফোন করছিলেন। একটা পর্যায়ে জানা যায় যে, টার্গেট আসবে না। পরে সেখান থেকে জিয়া স্যারকে বাসায় নামিয়ে দিই এবং স্যারকে বলে পরের দিন সকালে আমি নয় দিনের ছুটিতে যাই। ছুটিতে থাকা অবস্থায় মিডিয়ার মাধ্যমে আমি জানতে পারি যে, ইলিয়াস আলী নামক একজন বিএনপি নেতাকে মহাখালী ওভার ব্রিজের ওখান থেকে অপহরণ করা হয়েছে। ৯ দিন ছুটি শেষে এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখে আমি আমার কর্মস্থলে যোগদান করি। যোগদানের পর আমি র‍্যাব হেডকোয়ার্টারে থমথমে পরিবেশ লক্ষ করি। অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, কোতের অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজ জিয়া স্যার নষ্ট করে ফেলেন। সাধারণত ফল ইন (রোল কল) সকাল ৯টায় হতো। কিন্তু ১৮ এপ্রিল থেকে সকাল ৭ টায় ফল ইন (রোল কল) হতো এবং জিয়া স্যার পরপর বেশ কয়েক দিন ফল ইন (রোল কল)-এর সময় এসেছিলেন। জিয়া স্যারের থাকা অবস্থায় একদিন উনি ফোনে কোনো এক জনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঐ সময় স্যারের ফোনে অন্য একটি কল এলে স্যার বলেন, ‘তুই রাখ, তারেক স্যার (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিকী) ফোন দিয়েছেন।’ জিয়া স্যার তারেক স্যারের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। অন্য প্রান্তে কী বলেছে আমি জানি না। তবে জিয়া স্যার অভিযোগের সুরে বলছিলেন, ‘স্যার আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ (গুম) করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে, এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠাই দিন, এটাই আমার ভালো।” বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ জবানবন্দি রেকর্ড করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। কাঠগড়ায় ছিলেন জিয়াউল আহসান।

জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস বলেন, ‘এই ঘটনার বেশ কিছুদিন পর র‍্যাব-৪ এর সেইফ হাউজ থেকে দুজন আসামিকে দুইটা মাইক্রোতে নেওয়া হয়। আনুমানিক আধাঘণ্টা চলার পর গাড়িটি তিন মাথার মোড়ে এক জায়গায় থামানো হয়। ট্রাইব্যুনালের প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী পরে বলেন, গাড়ি দুটি থামানো হয়। আমি যে গাড়িতে ছিলাম, সে গাড়ি থেকে এক জন আসামিকে নামানো হয়। আমি গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। জিয়াউল আহসান স্যার ঐ আসামিকে নিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেন এবং হত্যা করেন। ঐ আসামির মাথায় অনেক চুল থাকার কারণে মাথায় আগুন ধরে গিয়েছিল। তা দেখে উপস্থিত সকলে হাসাহাসি করছিল। ঐ আসামির হাত এবং চোখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। আসামিকে হত্যা করার পর আমরা গিয়ে স্যারের নির্দেশে গামছাগুলো খুলে নিয়ে এসে গাড়িতে বসি। আমাদেরকে আমাদের গাড়ি নিয়ে র‍্যাব-৪ এ চলে যেতে বলেন। জিয়া স্যার অন্য আসামিকে নিয়ে চলে যান। জিয়া স্যার যখন র‍্যাব-৪-এ ফেরত আসেন, তখন ঐ আসামি তার সঙ্গে ছিল না। কিছু কিছু অপারেশন স্যার আমার অগোচরে করতেন। যেটাতে তিনি প্রয়োজন মনে করতেন, সেটাতে আমাকে নিয়ে যেতেন।’

জবানবন্দিতে ইমরুল বলেন, ‘জিয়াউল স্যারের সঙ্গে এক বছর তিন/চার মাস বডিগার্ড বা রানার হিসেবে থাকা অবস্থায় আমি লক্ষ করি যে, তিনি বিভিন্নভাবে আসামিদের গুম করতেন। তিনি র‍্যাব-১ এর টিএফআই সেল থেকে আসা ব্যক্তিদের বিভিন্ন পন্থায় হত্যা করতেন। এই বিভিন্ন পন্থার মধ্যে ছিল গুলি এবং ইঞ্জেকশন। পূর্বের বর্ণিত ঘটনা ছাড়াও আরো ১০/১২ জন ব্যক্তিকে ইঞ্জেকশন পুশ করে হত্যা করেছেন। এই ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করার কাজটি কখনো টিএফআই সেলের ভেতরে, কখনো গাড়িতে সংঘটিত হতো। আমি র‍্যাব থেকে চলে যাওয়ার পর আমি আগের মতো স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারিনি।’ এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এই সাক্ষী। তিনি বলেন, ‘আমি দেশের জন্য শপথ গ্রহণ করেছি, প্রশিক্ষণও নিয়েছি, তবে তা কখনোই দেশের মানুষকে হত্যা করার জন্য নয়। আমি রানার হিসেবে তার সঙ্গে দেখেছি তিনি ঐ সময় ১৫০/২০০ জন মানুষকে বিভিন্ন পন্থায় হত্যা করেছেন। আমি বিবেকের তাড়নায় এবং সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে জবানবন্দি প্রদান করেছি। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। কোনো সৈনিককে কখনোই যেন আমার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।’

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ইলিয়াসকে ‘হজমের’ কথা ফোনে জানান জিয়াউল। প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক জবানবন্দী দিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব:) জিয়াউল আহসানের এক সময়কার রানার ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। জবানবন্দীতে তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে অপহরণ ও গুম করার পর জিয়াউল আহসানের সাথে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারেক আহমেদ সিদ্দিকীর ফোনালাপের বিবরণ এবং র‌্যাবের অভিযানে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে হত্যার প্রত্যক্ষ বিবরণ তুলে ধরেছেন।

গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। বর্তমানে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত সাক্ষী ইমরুল কায়েস আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ ও তারেক সিদ্দিকীর সাথে ফোনালাপ

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে সাক্ষী ইমরুল কায়েস বলেন, ২০১২ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে (১৩ এপ্রিল) জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ স্যার এবং স্কোয়াড্রন লিডার সাইফসহ তারা মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে একটি অপারেশনের জন্য অবস্থান নেন এবং জিয়াউল আহসান টার্গেটের অবস্থান জানতে ফোনে যোগাযোগ করছিলেন। এর পরদিন তিনি ছুটিতে যান এবং গণমাধ্যমের বরাতে জানতে পারেন যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছে।

২৩ এপ্রিল ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে তিনি র‌্যাব সদর দফতরে থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করেন এবং জানতে পারেন যে অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজ জিয়াউল আহসান ধ্বংস করে ফেলেছেন। এছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে রোল কল সকাল ৯টার পরিবর্তে ৭টায় শুরু হয় এবং জিয়াউল আহসান নিজে সেখানে উপস্থিত থাকতেন।

সাক্ষী জবানবন্দীতে তৎকালীন ডিরেক্টর ইন্টেলিজেন্স জিয়াউল আহসানের একটি ফোনালাপের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘জিয়া স্যারের রুমে থাকা অবস্থায় একদিন জিয়া স্যার ফোনে কোনো একজনের সাথে কথা বলছিলেন। ওই সময় স্যারের ফোনে অন্য একটি কল এলে স্যার বলেন, ‘তুই রাখ, তারেক স্যার ফোন দিয়েছেন।’ জিয়া স্যার তারেক স্যারের সাথে কথা বলা শুরু করেন। অপর প্রান্তে কী বলা হয়েছে আমি জানি না। তবে জিয়া স্যার অভিযোগের সুরে বলছিলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ (হজম) করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে? এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠায়ে দেন, এটাই আমার ভালো।’

বণিক বার্তা

‘ছয় বছরে উচ্চ শিক্ষায় বাংলাদেশীদের বিদেশে পাঠানো অর্থের পরিমাণ তিন গুণের বেশি বেড়েছে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী উচ্চ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। যে কারণে প্রতি বছরই বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশ থেকে বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর পরিমাণও রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই (জুলাই-এপ্রিল) বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় বাংলাদেশীদের পাঠানো ব্যয় ৭৩ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের বাকি দুই মাসের তথ্য যুক্ত হলে এ ব্যয় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের কাছাকাছি পৌঁছবে। বিপুল পরিমাণের এ অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক দেশের ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বরাদ্দের চেয়েও বেশি। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। বিপরীতে চলতি অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৮০২ কোটি টাকা, যা ডলারে রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ৮৮ কোটি ডলার (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক অর্থবছর ধরে ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় অর্থ পাঠানোর পরিমাণ ক্রমাগত ও দ্রুতগতিতে বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে এ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার, সেখানে পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ কোটি ৩১ লাখ ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪১ কোটি ৪৫ লাখ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫২ কোটি ৮ লাখ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা ব্যয় বাবদ ৫৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার বিদেশে পাঠানো হয়। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ ব্যয় আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ডলারে। সর্বশেষ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এ ব্যয় বেড়ে ৭৩ কোটি ৬ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫৩ কোটি ডলারের কম, সেই হিসেবে চলতি অর্থবছরে উচ্চ শিক্ষায় বিদেশ পাঠানো অর্থ বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর মতে, শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী হওয়ার একটি প্রধান কারণ হলো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং তা সম্প্রসারণে নীতিনির্ধারকদের সীমিত অগ্রগতি। তিনি বলেন, ‘দেশের শিক্ষার নীতিনির্ধারণী সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টিতে ক্রমান্বয়ে পিছিয়ে পড়ছে। এর ফলেই মূলত শিক্ষার্থীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা এবং সেই সঙ্গে শিক্ষার পেছনে অভিভাবকদের ও দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সরকার যদি এ বিষয়ে দ্রুত নজর দিয়ে দেশীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা (ক্যাপাসিটি) না বাড়ায়, তবে এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। উল্টো গুণগত শিক্ষার নামে এমন কিছু নিয়ম চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, যার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চাইলেও বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীকে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিতে পারছে না। উচ্চ শিক্ষার সুযোগের এ সংকোচন যতদিন থাকবে, তরুণরা ততদিন বিদেশমুখী হবেই। এটি প্রতিরোধ করতে হলে তরুণদের ইচ্ছা বুঝতে হবে, গুরুত্ব দিতে হবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এটি না করা হলে বাংলাদেশ একদিকে যেমন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে, অন্যদিকে মেধাবীদের দেশ ছাড়তে পরোক্ষভাবে বাধ্য করা হবে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে শিক্ষার মানের অবনমনের কারণে প্রতি বছর উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী বিদেশ পাড়ি দিচ্ছেন। বর্তমানে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসের (ইএমজিএস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১ হাজার ৪০১। বিগত এক বছরে দেশটিতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ভর্তি বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় (আইআইইউএম) স্নাতকোত্তর কোর্সে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার মান এবং গবেষণার সুযোগ-সুবিধায় অনেক এগিয়ে আছে। সে তুলনায় এখানে শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় কম। সেলফ ফান্ডিংয়ে এলেও ভর্তির পর বিভিন্ন বৃত্তি ও ফান্ডিং লাভের সুযোগ আছে। এখানে ভর্তি প্রক্রিয়াও তুলনামূলক সহজ। বেশির ভাগ দেশে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক হলেও মালয়েশিয়ায় তা নয়। এখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মাকেও আনার সুযোগ পান। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিধারীরা বিশ্বের নামি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজে ভর্তির সুযোগ পান। অনেকে হয়তো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ইউরোপের দেশগুলোয় যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না কিন্তু তারা মালয়েশিয়ায় পড়ালেখা করে পরবর্তী সময়ে সহজেই এসব দেশে যাওয়ার সুযোগ পান। এসব কারণেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী মালয়েশিয়াকে বেছে নিচ্ছে।’

২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় ইউনেস্কোর ‘গ্লোবাল ফ্লো অব টারশিয়ারি লেভেল স্টুডেন্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদন। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫২ হাজার ৭৯৯ শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য গেছেন ৫৫টি দেশে। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ১৫১ এবং ২০২১ সালে ৪৪ হাজার ৩৩৮। আর মোটামুটি এক দশক আগে ২০১৩ সালে বিদেশে পড়তে গিয়েছিলেন ২৪ হাজার ১১২ জন। ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১০ বছরের ব্যবধানে বিদেশগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ সংখ্যা আরো বেড়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অনেক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষাকে বিদেশ গমনের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং তাদের বেশির ভাগ আর দেশে ফিরছেন না।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘টার্মিনালে যাতায়াতই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর চারটি আন্তজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত নগরের বাইরে সরানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন টার্মিনালের জন্য জমি দেখা হচ্ছে। সরকার বলছে, এর ফলে রাজধানীর যানজট কমবে, সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং নগরবাসীর ভোগান্তি কমবে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও নগর-পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, বাস টার্মিনাল সরানো হলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্মিনালে যাওয়া এবং টার্মিনাল থেকে বাসায় ফেরা। তাই নগর ও টার্মিনালের মধ্যে গণপরিবহনের সংযোগ নিশ্চিত না করে শুধু টার্মিনাল সরালে যাত্রীদের নতুন ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। কারণ, বর্তমানে নগরে গণপরিবহন অপ্রতুল ও লক্কড়ঝক্কড়। টার্মিনাল নগরের বাইরে গেলে গণপরিবহনের চাহিদা কয়েক গুণ বাড়বে।

বর্তমানে রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদে তিনটি মূল বাস টার্মিনাল অবস্থিত। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল থেকেও কয়েকটি জেলার বাস চলাচল করে। এই চার টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। টার্মিনালগুলো রাজধানীর ভেতরে থাকায় বিপুলসংখ্যক দূরপাল্লার বাস শহরে প্রবেশ করে। দূরপাল্লার অনেক বাস শহরের ভেতর দিয়ে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তেও যাচ্ছে। এ ছাড়া টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশে বাসের অসংখ্য কাউন্টার গড়ে উঠেছে। এসব কাউন্টারের সামনে দীর্ঘক্ষণ বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্তানে রয়েছে নগরে চলাচল করা বাসস্ট্যান্ড। এতে নগরে তীব্র যানজটের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নগরে যানজট কমাতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে আন্তজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের ধারণা দীর্ঘদিনের। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর চারটি আন্তজেলা বাস টার্মিনাল সরানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। কোথায় টার্মিনাল হবে, কবে নির্মাণ শেষ হবে এবং যাত্রীদের নতুন টার্মিনালে যাতায়াতের জন্য কী ধরনের সংযোগ ব্যবস্থা থাকবে, সে বিষয়ে এখনো পরিকল্পনা চলছে।

সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে, মহাখালী টার্মিনাল টঙ্গীতে, গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বাস কাউন্টারগুলোও সীমিত করে নির্দিষ্ট স্থানে আনার চিন্তা রয়েছে।

সূত্র জানায়, স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে রাজধানীর বাইরে কয়েকটি অস্থায়ী ডিপো স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মহাখালীর বিকল্প হিসেবে পূর্বাচলে এবং ফুলবাড়িয়ার বিকল্প হিসেবে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের কাছে একটি ডিপো করার চিন্তা চলছে। এসব ডিপোতে বাস অবস্থান করবে, স্থায়ী টার্মিনাল হওয়ার আগপর্যন্ত যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম আপাতত পুরোনো টার্মিনাল থেকেই চলবে। ডিপো থেকে বাস যাত্রী পরিবহনের আগে টার্মিনালে আসবে। চারটি স্থায়ী টার্মিনাল হওয়ার পর যাত্রী ওঠানো ও নামানোর সব কার্যক্রম ওসব নতুন টার্মিনালেই হবে।

সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকার বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এতে নগরীর যানজট কমবে এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও শৃঙ্খল হবে।

দেশ রূপান্তর

‘দিনে ৩৪০০ মামলা!’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত এক-দেড় দশক ধরে মামলার সীমাহীন সংখ্যাধিক্য ও বহুল বিস্তার ‘জট’ ‘পাহাড়সম’ ‘চূড়া’ ‘চাপ’ ‘বোঝা’ ‘মহাজট’ এমন নানা নামে অভিহিত। এসব নামকরণের কারণও যথেষ্ট যৌক্তিক। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে দেওয়ানি, ফৌজদারি বা অন্যান্য মামলার যে ঊর্ধ্বগতি তাতে এই পরিস্থিতিকে প্রচলিত আর কোনো বিশেষণে বিশেষায়িত করতে চান না আইন ও বিচার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রায় বাইরে চলে গেছে। আর একই সঙ্গে বিচারাকাক্সক্ষীর যন্ত্রণা বহু গুণে বেড়েছে।

২০০৭ সালের নভেম্বরে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকের সময় দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৪ কোটির কিছু বেশি। আর এখন ১৮ কোটি। ওই সময় উচ্চ ও অধস্তন আদালত মিলিয়ে বিচারাধীন মামলা ছিল প্রায় ১৬ লাখ। প্রায় ১৯ বছর পরের বাস্তবতা হলো, মামলার এই বহুল বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আসেনি মোটেই। আইন ও বিচারাঙ্গনে এর নেতিবাচক পরিস্থিতিও দৃশ্যমান। দেড় দশকের কিছু বেশি সময় পর মামলা বেড়ে এখন তিনগুণ অর্থাৎ প্রায় ৪৮ লাখ এবং গত ছয় বছরে দিনে গড়ে মামলা রুজু (বিচারের জন্য আদালতে আসা বা দায়ের) হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার (৩,৪৪৩) করে।

সুপ্রিম কোর্ট থেকে গত মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেশের উচ্চ ও অধস্তন আদালতগুলোতে বিচারাধীন বা অনিষ্পন্ন মামলা ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৯২১। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৩৮ হাজার ৯৭৩, হাইকোর্টে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৫১৬ মামলা বিচারাধীন। আর অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলা ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২।


জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, কর্মে থাকা ও অবসরে যাওয়া জেলা ও দায়রা বিচারকদের কাছে প্রশ্ন ছিল, বিচারাধীন মামলা এত বেশি কেন? কেন এই পরিস্থিতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। উত্তরে তারা বলেছেন, জনসংখ্যার ব্যাপক আধিক্যে সঙ্গত কারণেই মানুষের সমস্যা ও অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। জমি-জমা নিয়ে বিরোধ, অপেক্ষাকৃত লঘু মামলায় বিকল্প সমাধানে অনাগ্রহ, আদালতের ওপর বিশ^াসযোগ্যতা ও নির্ভরশীলতা, আইন ভাঙার প্রবণতা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগের মামলা, আইনের শাসনের ঘাটতি, একটির পর একটি আইনি ধাপ এবং মামলার কারণ না কমা এ সংকটের কারণ। বিপরীতে মামলা নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর পরিকল্পনা, মহাপরিকল্পনা ও উদ্যোগের ঘাটতি, বিচারক ও অবকাঠামো সংকট, মামলায় ঘন ঘন শুনানি মুলতবি, আদালত অঙ্গনে দুর্নীতি মানুষের দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলার সংখ্যা এত বেশি যে, পুরো প্রক্রিয়া এলোমেলো হয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আমরা পড়ে গেছি। এটি একটি জটিল অবস্থা এবং এ থেকে মুক্তির কোনো পথ দেখছি না। তবে, শুধু চিঠি চালাচালি, সেমিনার ও নির্দেশনা নয়, সরকার যদি মহাপরিকল্পনা করে নিশ্চয়ই কোনো সমাধান আছে।’ মামলা উৎপাদনের কারণ কমানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে মামলা বাড়ছে। অন্যদিকে সরকারগুলো অনেক ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় না, সেজন্যও মামলা বাড়ে। আইনের শাসন যথাযথভাবে কাজ করছে না। যখন সরকার আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে, আইনের শাসন বাড়বে তখন মামলা এত বেশি বাড়বে না।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন