অটোরিকশা চালককে হত্যা করে ছিনতাই, ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন

ফন্ট সাইজ:

মুরাদনগরে এক অটোরিকশা চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধারসহ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত মাহাবুব আলম ওরফে মাসুম (৩২) মুরাদনগর থানার বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন।

অভিযুক্তরা হলেন, দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ টিলী এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. নাঈম ইসলাম (২৩) এবং মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার এলাকার লিটন সরকারের ছেলে আরমান সরকার (২০)। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। রাত ১০টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা বলে কোম্পানিগঞ্জে যাওয়ার কথা জানান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে মুরাদনগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ী গ্রামের পূর্বপাড়া ধরেরপাড় এলাকায় মাসুমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার চোখ ও মাথা থেঁতলানো ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করলে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, অভিযান চালিয়ে পুলিশ মো. নাঈম ইসলাম (২৩) নামে এক যুবককে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। নাঈমের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর অভিযুক্ত আরমান সরকারকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই চালক মাসুমকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ দ্রুত কাজ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন