তৃণমূল কংগ্রেসের ৬৭৫ কোটি রুপির তহবিল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র বিরোধ

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরে দলের প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি থাকা তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। বিদ্রোহী ১০ বিধায়ক এই আমানত সংক্রান্ত সম্ভাব্য অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে বিধাননগর সাইবার থানায় তহবিলের উৎস নিয়ে তদন্তের অনুরোধ করেছেন। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগের পর দলের প্রায় ৬৭৫ কোটি রুপির তহবিল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি ব্যাংকে দলের অ্যাকাউন্ট জব্দ করার আবেদন জানিয়ে চিঠি দেওয়ার কয়েকদিন পরেই এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।
নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ বলে দাবি করে অরূপ বিশ্বাস কলকাতার একটি বেসরকারি ব্যাংককে অনুরোধ করেছেন যেন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখা হয় এবং কোনো ডেবিট লেনদেন বা কার্যনির্বাহী নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা না হয়।
তিনি এও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, অননুমোদিত ব্যক্তিরা স্বাক্ষরিত চেকের অপব্যবহার করতে পারে, যার ফলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ না করা পর্যন্ত তিনি লেনদেন বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন।
অবশ্য মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, অরূপ বিশ্বাসকে দলের কোষাধক্ষ্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই তিনি এই ধরণের চিঠি দিতে পারেন না।
এদিকে, মমতাপন্থী সাংসদ মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেছেন, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা শিবির বদল করেছেন।
তবে এর পাল্টা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মহুয়া একটি পোস্টে অভিযোগ করে লিখেছেন, যতদূর জানি, আমাদের বিদ্রোহীদের সঙ্গে তো অগ্রিম ৪ কোটি রুপি এবং আগামী ৩৬ মাসে ১ কোটি রুপি করে রফা হয়েছে...হানি এবং মানি'।
মহুয়ার ওই পোস্টে কার্যত ফুঁসে উঠেছেন কাকলি। তিনি বলেন, "আমরা দেখছি মহুয়া মৈত্র টাকার অঙ্ক তুলে বলছেন নাকি লেনদেন হয়েছে। এই ২০ জন সাংসদ, যারা আমরা এনসিপিআই-তে আছি, একসঙ্গে জুম মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ওকে প্রমাণ করতে হবে এই টাকার অঙ্ক উনি কোথায় পেলেন। ওর এই দাবিকে আমরা কিন্তু নস্যাৎ করছি। আমরা দৃঢ় পদক্ষেপে ওর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাব।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন