মহাকাশে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ট্রিওন্ডা

মহাকাশে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ট্রিওন্ডা

ফন্ট সাইজ:

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’ মহাকাশে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অবস্থানরত মহাকাশচারীরা ক্ষুদ্র মাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে ফুটবলের গতিবিদ্যা ও বলের পারফরম্যান্স নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক পোস্টে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পরীক্ষার ছবি ও তথ্য প্রকাশ করে জানায়, আইএসএসের ক্রুরা অ্যাডিডাস নির্মিত ট্রিওন্ডা বল ব্যবহার করে ২০১৯ সালের একটি গবেষণা পুনরায় পরিচালনা করেছেন। গবেষণাটির উদ্দেশ্য ছিল বলের ভারসাম্য এবং ভরকেন্দ্র (সেন্টার অব মাস) কীভাবে এর গতিপথকে প্রভাবিত করে, তা পরীক্ষা করা। নাসা বলেছে, ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল মহাকাশে গেছে। সংস্থাটি আরও জানায়, ক্রীড়া প্রকৌশলীরা ফুটবলের ভরকেন্দ্র ও ভারসাম্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিমাপ ও উন্নত করেন, যাতে মাঠে খেলার সময় বলের গতিবিধি পূর্বানুমানযোগ্য থাকে।

মহাকাশচারীরা পরীক্ষাটি পুনরায় পরিচালনা করে দেখিয়েছেন, একটি ফুটবলের ভালো ও খারাপ ভারসাম্য তার গতিবিধিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে। গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানীদের আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে যে, ম্যাচ বলে সংযুক্ত বিভিন্ন প্রযুক্তি, বিশেষ করে সেন্সর ব্যবস্থা, মাঠে বলের পারফরম্যান্সকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে। নাসা পোস্টে বলেছে, সুন্দর এই খেলাটির উন্নয়নে সহায়তা করা হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পরিচালিত নাসার বৈজ্ঞানিক গবেষণার এমন একটি উদাহরণ, যা পৃথিবীর মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করতে ভূমিকা রাখছে।

‘ট্রিওন্ডা’ নামের অর্থ কী?
ট্রিওন্ডা হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল, যা তৈরি করেছে অ্যাডিডাস। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, বলটির নাম স্প্যানিশ ভাষার একটি শব্দগুচ্ছ থেকে নেয়া হয়েছে, যার অর্থ ‘তিনটি ঢেউ’। এটি প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ- কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রতীক। বলটির নকশায় লাল, সবুজ ও নীল রং ব্যবহার করা হয়েছে, যা আয়োজক তিন দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। চার-প্যানেলের বিশেষ নকশা এবং তরল জ্যামিতিক বিন্যাসের মাধ্যমে বলটির কেন্দ্রে একটি ত্রিভুজ আকৃতি তৈরি হয়েছে, যা তিন দেশের ঐক্যের প্রতীক। এ ছাড়া বলটিতে প্রতিটি আয়োজক দেশের পরিচিত প্রতীক সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা প্রতীক।

উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন বল
ফিফার মতে, ট্রিওন্ডায় পারফরম্যান্স উন্নত করার জন্য একাধিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গভীর সেলাই, যা বলের উড্ডয়নকে আরও স্থিতিশীল করে এবং উঁচু-নিচু খোদাইকৃত পৃষ্ঠ, যা ভেজা আবহাওয়ায় বলের গ্রিপ বাড়ায়। বলটিতে অত্যাধুনিক কানেক্টেড-বল প্রযুক্তিও রয়েছে। এতে একটি ৫০০ হার্টজ মোশন সেন্সর চিপ সংযোজিত হয়েছে, যা বলের গতিবিধির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থায় পাঠাতে সক্ষম। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ম্যাচ কর্মকর্তারা অফসাইড সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিষয়ে আরও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। মহাকাশ গবেষণা ও ক্রীড়া বিজ্ঞানের এই ব্যতিক্রমী সমন্বয়ের ফলে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ট্রিওন্ডা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পরীক্ষিত সর্বশেষ ক্রীড়া সরঞ্জামে পরিণত হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন