‘সুপার সাব’ ডেনিজ উনদাভের জোড়ায় নাটকীয় জয় জার্মানির

‘সুপার সাব’ ডেনিজ উনদাভের জোড়ায় নাটকীয় জয় জার্মানির

ফন্ট সাইজ:

বদলি নেমে পার্থক্য গড়ে দিলেন ডেনিজ উনদাভ। ম্যাচ শেষের দুই মিনিট আগে গোল হজম করে বসলো আইভরি কোস্ট। হৃদয় ভাঙলো পুরো ম্যাচে দারুণ ফুটবল উপহার দেয়া আফ্রিকার দেশটির। নাটকীয়তায় ঠাসা ম্যাচে জোড়া গোল করে জার্মানির জয়ের নায়ক উনদাভ। তার দাপুটে পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া জার্মানি ২-১ গোলে হারালো আইভরিকোস্টকে। এটি জার্মানির টানা ১১তম জয়। এ জয়ে এক যুগ পর নকআউট পর্বে পা রাখলো চার বারের চ্যাম্পিয়নরা। ২০১৮ ও ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব পেরোতে পারেনি জার্মানি। সেই জার্মানি এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারানোর পর আইভরি কোস্টকে হারিয়ে সেরা ৩২ এ জায়গা করে নিলো।

টরেন্টো স্টেডিয়ামে রেফারির বাঁশি বাজার পর প্রথমার্ধে জার্মানির একের পর এক আক্রমণ প্রতিরোধ করে দিয়ে অঘটনের বার্তা দেয় আইভরি কোস্ট। ৩০ মিনিটের মাথায় ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে লিড নেয় দলটি। টানা আক্রমণ শাণিয়েও আফ্রিকার দেশটির রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না জার্মানি। অবশ্য এর যথেষ্ট কারণও আছে। নানা প্রতিকূলতা নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে সর্বাধিক ১৩ সেমিফাইনাল খেলা দলটি। বিশেষ করে জুলিয়ান নাগালসম্যানের দলে একজন পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য স্টাইকারের অভাববোধ দীর্ঘদিনের। জার্মান দলের দুই বড় তারকা জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান ভিটর্জের ফর্ম খরার কথা সবারই জানা। চোটের ধাক্কায় সার্জ গিনাব্রি ও লেনার্ড কার্লের মতো অস্ত্র ছিটকে যাওয়ায় আক্রমণভাগে নতুনত্ব নেই। দুই বছর আগে অবসর নেয়া ম্যানুয়েল নয়ারকে ফেরাতে হয়েছে। এত অপূর্ণতার মাঝেও শুরুর মাত্র ১৫ সেকেন্ডে কাই হাভার্টজের আক্রমণ জার্মানদের পথে রাখে। ইয়োশুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালা আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগে ভীতি ছড়ালেও গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানার অতিমানবীয় পারফরম্যান্স করে প্রথমার্ধে জার্মান ঝড় থামান। তবে ম্যাচের ২১ মিনিটে আলেকজান্ডার পাভলোভিচ এবং ৩৯ মিনিটে কাই হাভার্টজ জালে বল জড়ালেও রেফারির বাঁশিতে গোল দুটি বাতিল হয়। গোলরক্ষককে ফাউল করার অভিযোগে এই গোলগুলো বাতিল হলে গ্যালারিতে জার্মান সমর্থকরা দুয়ো ধ্বনিতে মেতে উঠেন। ১-০তে পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে যায় জার্মানি। পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান তিন বদলি খেলোয়াড় নামান। মাঠে নামেন জেমি লিউলি,আমেরি ও উনদাভ। সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৬৮ মিনিটে নাদিম আমিরির ক্রস থেকে ডেনিজ উনদাভ চমৎকার ভলিতে জার্মানিকে সমতায় ফেরান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সবাই যখন ড্রয়ের প্রহর গুনছে, ঠিক তখনই আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি করেন উনদাভ। জাতীয় দলের হয়ে ১১ ম্যাচে এটি তার নবম গোল।
চলতি বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে এখন পর্যন্ত ৫টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন ডেনিজ উনদাভ (৩ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট)। বিশ্বকাপে ১৯৬৬ সালের পর থেকে কোনো এক আসরে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ গোল বা অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড। এর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের রজার মিলা এই কীর্তি গড়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ২০০২ সালে মিরোস্লাভ ক্লোসার পর জার্মানির প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন এই ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে, জার্মানির বিপক্ষে গোল পাওয়া আইভরি কোস্টের ফ্রাঙ্ক কেসিও নিজের নাম লিখিয়েছেন রেকর্ডবুকে। ২৯ বছর ১৮৩ দিন বয়সে গোল করে তিনি আইভরি কোস্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতা হয়েছেন। এই তালিকার শীর্ষে আছেন ২০১০ বিশ্বকাপে গোল করা দিদিয়ের দ্রগবা। এছাড়া, বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে গোল করা আফ্রিকার ফুটবলারদের মধ্যে ফ্রাঙ্ক কেসিই সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়। দলীয়ভাবেও দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়েছে জার্মানি। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই জয়ের দেখা পেল তারা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন