হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে এক জয় তুলে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। মরক্কোর সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করার পর এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিল হলুদ শিবির। তবে মাঠের দাপুটে জয়েও দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়ে বেশ কিছু জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। মাঠের খেলায় ব্রাজিলের সার্বিক পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাবেক এই ফুটবল তারকা বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিল বরাবরই বড় জয় পেয়েছে। অতীতে এক ম্যাচে তারা ৭-১ গোলে জিতেছিল এবং ৩ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছিল ১৭ গোল। সেই তুলনায় এই ৩-০ ব্যবধানকে খুব বেশি বড় জয় বলা যাবে না। ফলে দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বকাপের আগের যে পুরোনো সংশয় ও সমালোচনা ছিল, তা কিছুটা হলেও রয়ে গেল। তবে আশার কথা হলো, প্রথম ম্যাচের তুলনায় ব্রাজিল উন্নতি করেছে।’ মামুনুল মনে করেন, এই জয়ের মাধ্যমে সেলেসাওরা সামনের দিকে ভালোভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছে।
মামুনুল বলেন ব্রাজিলের মূল শক্তির জায়গা ছিল তাদের রক্ষণভাগ। হাইতির আক্রমণগুলোকে নিখুঁতভাবে আটকে দিয়ে কোনো গোল হজম না করাটাই দলের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। মামুনুল বলেন, ‘ব্রাজিল যেখানে প্রতিপক্ষের গোল পোষ্টে ৯টি শট নিয়েছে, বিপরীতে হাইতিও কিন্তু ৮টি শট নিয়েছে। কাজেই হাইতির বেশ কয়েকটি আক্রমণ বিপজ্জনক ছিল। ব্রাজিলের সাফল্যের বড় জায়গা হলো তারা ডিফেন্স ধরে রাখতে পেরেছে এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলো রুখে দিয়ে গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছে।’ এ ক্ষেত্রে মাঠের অতন্দ্র প্রহরীর মতো অসাধারণ কাজ করে গোলপোস্ট অক্ষত রাখার মূল দায়িত্বটি নিখুঁতভাবে পালন করেছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার।
ম্যাচের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নিয়েও আলাদাভাবে কথা বলেছেন মামুনুল। আক্রমণভাগে ইউরোপীয় লীগে খেলা মাতিউস কুনিয়া এবং ভিনিসিউস জুনিয়র দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছেন। ম্যাচের ২৩ ও ৩৫ মিনিটে কুনিয়া চমৎকার দুটি গোল করেন। মামুনুল বলেন, ‘কুনিয়া পুরো ম্যাচে অত্যন্ত ক্ষুরধার ছিলেন এবং গোলমুখে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন।’ কুনিয়ার দ্বিতীয় গোলটিতে চমৎকার অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে ভিনিসিউস দৃষ্টিনন্দন গোল করেন। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে নিখুঁতভাবে বলের জোগান দেওয়ার প্রধান কারিগর ছিলেন মাঝমাঠের সেরা তারকা লুকাস পাকেতা। তার এমন চমৎকার ও নজরকাড়া ফুটবল শৈলীর প্রশংসা করে মামুনুল বলেন, ‘পাকেতা মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে বলের জোগান দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।’
চমৎকার জয়ের পরও মাঠে নেইমারের অনুপস্থিতি অনুভব করেছেন মামুনুল। মাঠের খেলায় নেইমারের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার দলের জন্য কতটা অনিবার্য, তা আবারও মনে করিয়ে দেন। মামুনুল বলেন, ‘নেইমারের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা মাঠে থাকলে খেলার চিত্রটাই ভিন্ন থাকে। মাঠে তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে। ব্রাজিল দল যে তার সার্ভিস মিস করছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নেইমার থাকলে দলের আক্রমণগুলো আরও বৈচিত্র্যময় ও নিখুঁত হতো।’ বাংলাদেশি সমর্থকদের চিরন্তন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সামাজিক দ্বৈরথ নিয়ে মন্তব্য করেছেন মামুনুল। দুই পক্ষের এই ট্রল করার পেছনের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন তিনি। ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মাঠের আসল সত্য ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে মামুনুল বলেন, ‘সত্যি বলতে, এ ধরনের আলোচনা কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব। কারণ আমাদের দেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে এক অদ্ভুত ও চিরন্তন দ্বৈরথ রয়েছে। তারা সবসময় একে অপরকে ট্রল করার বা ছোট করার সুযোগ খোঁজে। তবে ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বললে, কে কত মিনিটে গোল দিলো বা কয় গোল করলো, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট তুলে নেয়া এবং দলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।’
