মরক্কো যখন জিলেট স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারালো, তখন মাঠের ভেতরে আরেকটি যুদ্ধ চলছিল। সেটা বলের সঙ্গে নয়, বরং শব্দের। পিএসজির তারকা ও মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি বল পায়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্কটিশ সমর্থকদের কণ্ঠ থেকে বের হয় তীব্র হুইসেল ও ধিক্কারধ্বনি। ফক্সবরোর মাঠে ‘টার্টান আর্মি’ নামে পরিচিত স্কটল্যান্ডের বিপুলসংখ্যক সমর্থক প্রায় প্রতিটি স্পর্শেই হাকিমিকে ঘিরে ধরেন তাদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে। ২০তম মিনিটে একটি কর্নারের সময় সেই গর্জন বিশেষভাবে তীব্র হয়ে ওঠে এবং বিরতির আগে কিয়েরান টিয়ার্নিকে ফাউল করার পর পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়।
এই পরিবেশের পেছনে কারণটি অনুসন্ধান করলে দেখা যায় ম্যাচের মাত্র একদিন আগে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয় যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কথিত ধর্ষণের অভিযোগে হাকিমিকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ। যুক্তরাজ্যে সমপ্রচারকারী দলও এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে পারেনি। আইটিভি’র ধারাভাষ্যকার অ্যালি ম্যাককোইস্ট বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন, ‘হাকিমি স্থানীয়দের কী করে বিরক্ত করলেন জানি না, তবে কিছু একটা অবশ্যই করেছেন।’
হাকিমি নিজে ম্যাচের আগে এক্স প্ল্যাটফর্মে বিবৃতি দিয়ে জানান যে তিনি শুরু থেকেই এই বিচারের প্রতীক্ষায় ছিলেন এবং সত্য প্রকাশের সুযোগ পেয়ে সন্তুষ্ট। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, ‘অবশেষে আমি কথা বলতে পারব।’ মাঠের বাইরের এই ঝড় থাকলেও মরক্কো খেলায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে। মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি মাত্র ৬৯ সেকেন্ডেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এবং সেই সঙ্গে প্রথম দুটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার কীর্তিতে মোহাম্মদ সালাহর পাশে নাম লেখান। এই জয়ে মরক্কো সাময়িকভাবে গ্রুপ ‘সি’-র শীর্ষে উঠলেও, পরে ব্রাজিল হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারালে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নামে তারা।
