‘কান্ট্রি রোডস’ সুরে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক জয়, কাঁপলো সিয়াটল

ফন্ট সাইজ:

সিয়াটল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন প্রায় ৬৭ হাজার দর্শকের কণ্ঠ এক সুরে। ‘টেক মি হোম, কান্ট্রি রোডস’। জন ডেনভারের ১৯৭১ সালের বিখ্যাত এই আমেরিকান ক্লাসিক গানের সুরে যখন পুরো স্টেডিয়াম মুখরিত, তখন মাঠের ফুটবলারদের শরীর বেয়ে নেমে যাচ্ছিল রোমাঞ্চের স্রোত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয়ের পর তৈরি হয় এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় এই মুহূর্ত। গ্যালারির এই উন্মাদনা কেবল সুরেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তৈরি করে ভূমিকম্পও! প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট সিসমিক নেটওয়ার্কের (পিএনএসএন) তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় গোলের পর সিয়াটল স্টেডিয়ামের দর্শকদের উল্লাসে ভূকম্পন বা সিসমিক অ্যাক্টিভিটি রেকর্ড করা হয়েছে!

এই জয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৩০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের টানা প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়লো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতে রাউন্ড অফ ৩২ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। সিয়াটল স্টেডিয়ামে এটি যুক্তরাষ্ট্রের টানা সপ্তম জয়। ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। ৬২ শতাংশ বল দখল রাখার পাশাপাশি তারা অস্ট্রেলিয়াকে শটের দিক থেকেও ১০-৫ ব্যবধানে পেছনে ফেলে।

২১ বছর বয়সী ফুলব্যাক অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের দুর্দান্ত এক হেডারে আসে দলের দ্বিতীয় গোল, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের তৃতীয় কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। ম্যাচ শেষে সিয়াটলের এই অবিশ্বাস্য আবহ নিয়ে আবেগাপ্লুত কোচ পচেত্তিনো বলেন, ‘আমি আমেরিকান না হওয়া সত্ত্বেও খেলা শেষে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। দর্শক ও পরিবেশ ছিল অসাধারণ। গ্যালারির এই শক্তি দলের জন্য দারুণ এক টনিক। বড় কিছু অর্জন করতে হলে ফ্যানদের এই সমর্থন আমাদের খুব প্রয়োজন।’ মিডফিল্ডার সেবাস্তিয়ান বারহাল্টারও সুর মিলিয়ে বলেন, “স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল উন্মাদনায় ভরা।

দর্শকদের ‘কান্ট্রি রোডস’ গাওয়ার মুহূর্তটি ছিল সত্যিই বিশেষ কিছু।” অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিকও প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে বলেন, ‘তাদের মান, শক্তি এবং অ্যাথলেটিসিজম একদম স্পষ্ট ছিল।’ কান্ট্রি রোডস শেষ হওয়ার পর বন জোভির ‘লিভিন অন অ্যা প্রেয়ার’ ও এসিডিসির গানেও মেতে ওঠে সিয়াটল। ফুটবলের এক উদীয়মান পরাশক্তি হয়ে ওঠায় যেন আনন্দে ভাসছে পুরো দেশ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন