সরকারি খেলার মাঠ দখল করে খামার বিএনপি নেতার

সরকারি খেলার মাঠ দখল করে খামার বিএনপি নেতার

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালীতে কোরবানির পশুর হাটের জন্য অস্থায়ীভাবে ইজারা নেয়া সরকারি জমি দখল করে সেখানে গরুর খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও বাজার ইজারাদার ফোরকান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সরকারি জমি দখলে রেখে স্থাপনা নির্মাণ এবং গবাদিপশু পালন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরজমিন দেখা যায়, বালুখালীর কাস্টমস্‌ এলাকার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের উত্তর পাশে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে বাঁশ, টিন ও ত্রিপল দিয়ে দীর্ঘাকৃতির একাধিক ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন রোহিঙ্গা শ্রমিককে গরুর পরিচর্যা করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থাপনা নির্মাণ করে মাঠটিকে ব্যক্তিগত খামারে পরিণত করেছেন বালুখালীর বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা ফোরকান। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু সরকারি জমি দখলই নয়, বালুখালী বাজারের ইজারা নিয়ে নিয়মের তোয়াক্কা না করে হাসিল আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চলন্ত গাড়ি থামিয়ে স্থানীয়দের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকেও হাসিলের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী ও পথচারী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বালুখালী কাস্টমস্‌ ঘাট এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দেয় উপজেলা প্রশাসন। ওই হাটের ইজারা নেন ফোরকান। তবে ঈদুল আজহা শেষে হাটের জন্য নির্মিত অবকাঠামো অপসারণ না করে সেখানে গরু রাখার জন্য স্থায়ী ধরনের ঘর নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, উখিয়াঘাট মৌজার আরএস দাগ নম্বর ৪৮ এবং বিএস দাগ নম্বর ১৬৩ ভুক্ত জমিটি কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি।

দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিশু-কিশোর ও যুবকরা মাঠটি খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করে আসছেন। কোরবানির পশুর হাট বসানোর আগেও সেখানে বৈশাখী মেলা, ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা এবং বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী আব্দুস সাত্তার বলেন, পশুর হাট স্থাপনের সময় থেকেই আমরা মাঠটি হারানোর আশঙ্কা করেছিলাম। কারণ এলাকায় আর কোনো খেলার মাঠ নেই। সাময়িক ইজারার সুযোগ নিয়ে এখন মাঠটি কার্যত ব্যক্তিগত দখলে চলে গেছে। এ বিষয়ে উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। এর আগে ইজারাদারকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল।

এখনো যদি তা অপসারণ না করা হয়ে থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোরকানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে, কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, জমিটির মালিকানা ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন