কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার আলীর বাড়িতে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তবে দীর্ঘ তল্লাশি শেষে কাউকে আটক করতে না পেরে রাত সোয়া ১টার দিকে খালি হাতেই ফিরে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে র?্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় আনোয়ার আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার সমর্থকরা বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাড়ির প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। এ সময় একদল সদস্য বাড়ির বাইরে অবস্থান নেন এবং আরেক দল বাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আনোয়ার আলীর বাড়িতে অবস্থান করছেন- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযান শেষে বাড়ির ভেতর থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যরা ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তবে বাড়ির ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে মাহবুব উল আলম হানিফের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আনোয়ার আলীর ছেলে পারভেজ আনোয়ার তনু। এরপর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে আনোয়ার আলী পরিবারের সক্রিয়তা নতুন করে আলোচনায় আসে।
এ ছাড়া, শুক্রবার বিকালে কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সভাপতি মীর সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া-ঢাকা মহাসড়কে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। এর আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিল থেকেও আনোয়ার আলী ও তার ছেলে তনুর পক্ষে স্লোগান দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান, সংগঠন পুনর্গঠন এবং প্রকাশ্য শক্তি প্রদর্শনের ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটেই এ অভিযানকে ঘিরে কৌতূহল ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
