বিডিআর বিদ্রোহের ১৭ বছর পর জামিনে মুক্ত পলাশ, হারিয়েছেন সন্তান, ছেড়ে গেছেন স্ত্রী

বিডিআর বিদ্রোহের ১৭ বছর পর জামিনে মুক্ত পলাশ, হারিয়েছেন সন্তান, ছেড়ে গেছেন স্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবাসের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাকির হোসেন পলাশ। গত শুক্রবার গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি নান্দাইলের আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই টংগীরচর গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর পলাশ বাড়ি ফিরছেন- এমন খবরে তাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী তার বাড়িতে ভিড় জমান। দীর্ঘদিন পর চেনা মানুষ ও স্বজনদের কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পলাশ। কারাজীবনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পলাশ জানান, কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি একে একে হারিয়েছেন তার বাবা ও একমাত্র পুত্রসন্তানকে।

তিনি যখন কারাগারে, তখন মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত তার একমাত্র কলিজার টুকরো সন্তানটি মারা যায়। এর কিছুদিন পর মারা যান তার বাবা ডা. আব্দুর রাশিদ। কারাবন্দি থাকায় নিয়তির নির্মম পরিহাসে বাবা কিংবা সন্তান কারও জানাজাতেই শেষবারের মতো অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি তিনি। বাবা আর সন্তানকে হারানোর কষ্টের মাঝেই আমার জীবনে নেমে আসে আরেক অন্ধকার। আমার মুক্তির কোনো নিশ্চয়তা না পেয়ে একপর্যায়ে আমার স্ত্রীও আমাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। আজ আমি মুক্ত, কিন্তু আমার আপন বলতে শুধু বৃদ্ধা মা বেঁচে আছেন। সব হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় পলাশ বাড়ি ফিরলেও, তিনি জীবিত ফিরে এসেছেন- এজন্য আল্লাহ্‌র দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছে তার পরিবার। পলাশের বড় ভাই বিডিআর আজহারুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়ে ছোট ভাইয়ের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ্‌! দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো।

শুক্রবার আমার ছোট ভাই বিডিআর জাকির হোসেন পলাশ জামিনে মুক্তি পেয়েছে। আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে আবারো আপনজনদের মাঝে ফিরতে পেরেছে সে। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, পলাশ এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। জীবনের সবকিছু হারিয়ে নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই শুরু করা তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তার বাকি জীবনটা যাতে সুন্দর ও শান্তিময় হয়, সেজন্য তারা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন