রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার স্বর্ণপট্টি এলাকায় ‘কারুশ্রী জুয়েলার্স’ নামের একটি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা পাশের দোকানের দেওয়াল কেটে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১২০০ ভরি রূপা (চাঁদি) এবং নগদ ২৫ লাখ টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে এই চুরির ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজশাহীর সব জুয়েলারির দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাহেব বাজার এলাকার আবাসিক স্বর্ণা হোটেলের নিচতলায় ‘আফিয়া জুয়েলার্স’ ও ‘কারুশ্রী জুয়েলার্স’ পাশাপাশি অবস্থিত।
দুর্বৃত্তরা প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের শোরুমের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দু’টি শোরুমের মাঝখানের লাগোয়া দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সের ভেতরে ঢোকে। সেখান থেকে তারা সিন্দুক ও শোকেসে থাকা সমস্ত স্বর্ণালংকার, চাঁদি এবং নগদ টাকা লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। তবে ওই সময় পাশের আফিয়া জুয়েলার্সে কোনো মালামাল ছিল না বলে জানা গেছে। কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিকপক্ষ জানিয়েছে, দোকান থেকে আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১২০০ ভরি চাঁদি এবং নগদ ২৫ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। এদিকে চুরির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাজুস। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম অপু বলেন, প্রায় ২০০ ভরি সোনা, ১২০০ ভরি চাঁদি ও নগদ ২০ লাখ টাকার মতো চুরি করা হয়েছে।
এই বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহীর সকল জুয়েলার্স দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। চুরির খবর পেয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সিআইডি ও ফরেনসিক দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেন। এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
