ব্রাজিলে দীক্ষা নেয়া গালারজায় বাঁচলো প্যারাগুয়ে

৬৪ সেকেন্ডে গোল

ব্রাজিলে দীক্ষা নেয়া গালারজায় বাঁচলো প্যারাগুয়ে

ফন্ট সাইজ:

রেফারির বাঁশি বাজার পর ঘড়ির কাঁটায় তখন ৬৪ সেকেন্ড। তুরস্কের রক্ষণভাগ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ২৫ মিটার দূর থেকে গোল করলেন মাতিয়াস গালারজা। গোলরক্ষক উগুরচান চাকির শূন্যে ঝাঁপিয়েও কিছু করতে পারেননি। এটি চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল। শেষ পর্যন্ত গালারজার এই গোলই গড়ে দিলো ম্যাচের ভাগ্য। ৩২টি শট নিয়েও প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে পারলো না তুরস্ক। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হয় লাতিন আমেরিকার দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত প্যারাগুইয়ানদের মুখেই ফুটলো জয়ের হাসি। তুরস্ককে বিদায় করে নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখলো প্যারাগুয়ে। তাদের জয়ের নায়ক ব্রাজিলে দীক্ষা নেয়া গালারজা।

এক দেশে জন্ম নিয়ে বিশ্বকাপের অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করার উদাহরণ অনেক আছে। সেই উদাহরণ হতে যাননি গালারজা। সুযোগ ছিল দুই দেশের হয়ে খেলার। বাবা রোনালদো গালারচা গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছেন বলিভিয়ার জাতীয় দলে। সেই সূত্রে বলিভিয়া থেকে ডাক পড়েছিল গালারচার। তবে সেই ডাকে সাড়া না দিয়ে জন্মভূমি প্যারাগুয়ের জার্সি গায়ে জড়ান ২০০২ সালের ১১শে ফেব্রুয়ারি আসুনসিওনে জন্ম নেয়া এই ফুটবলার। ফুটবলের গালারচার হাতেখড়ি প্যারাগুয়ের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ওলিমিপিয়ার একাডেমিতে। যুব দলে ভালো খেলার সুবাদে ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের ক্লাবে খেলার সুযোগ পান তিনি। বিখ্যাত ক্লাব ভাস্কো দা গামায় যোগ দেন ধারে। ভাস্কো দা গামাতে যোগ দেয়ার পরপরই ব্রাজিল জুড়ে কোভিড-১৯ মহামারি তীব্র আকার ধারণ করে।

নতুন দেশ, নতুন ভাষা আর লকডাউনের মাঝে প্রায় ৩ মাস ঘরবন্দি ছিলেন। অনুশীলন করেন আইসোলেশনে থেকে। সেই সময়
মানসিক চাপকে পাশ কাটিয়ে রপ্ত করেন পর্তুগিজ ভাষা। লকডাউন শেষে ভাস্কো দা গামার অনূর্ধ্ব-২০ দলে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেন। ২০২১ সালের মার্চে ক্লাবটির মূল দলে
অভিষেক হয় গালারচার। মাঠে নেমে ২১ শতকে ক্লাবটির হয়ে খেলা সর্বকনিষ্ঠ বিদেশি ফুটবলারের রেকর্ড গড়েন। ২০২১ সালের মে মাসে ভাস্কো দা
গামা প্রায় ৫ লাখ ডলারের বিনিময়ে তার সাথে স্থায়ী চুক্তি করে। এরপর তিনি ব্রাজিলের সেরি-আ লিগের করিটিবা, আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লীগ সকারের দল আটলান্টা ইউনাইটেড এফসিতে যোগ দেন। ২০২২ সালে গালারচার প্যারাগুয়ে জাতীয় দলে অভিষেক হয়।

বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগে ১৬ ম্যাচে করেন ৪ গোল। সব রোমাঞ্চ যেন রেখে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের জন্য। তুরস্কের বিপক্ষে দ্রততম গোল করে রাতরাতি লাইমলাইটে এসেছেন গালারচা। ম্যাচের শুরুতে আন্দ্রেস কুবাসের কাছ থেকে বল পেয়ে হুলিও এনসিসোর পাস ধরে বাঁ পায়ের জোরালো শটে মেরিহ দেমিরালের পায়ের ফাঁক দিয়ে তিনি জয়সূচক গোলটি করেন। অবশ্য এই গোলের পর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বিপদে পড়ে প্যারাগুয়ে। মুখ ঢাকার অপরাধে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন গালারচার সতীর্থ মিগেল আলমিরন। ফলে দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময়টা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় গুস্তাভো আলফারোর শিষ্যদের। এক জন কম নিয়েও রক্ষণে অবিচল থাকে প্যারাগুয়ে। দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে তুরস্কের আক্রমণের ঢেউ সামলাতে হয় তাদের। হাকান কালহানোগলুর ভলি বাইরে যায়,
মের্ত মুলদুরের হেড বার পোস্ট ছুঁয়ে ফেরে। দিনুজ গুল সহজ সুযোগ মিস করেন।

৩২টি শট, ৫১ বার প্রতিপক্ষের বক্সে বল নিয়ে যাওয়া, ১২টি কর্নার এবং ৭৮ শতাংশ বল দখলে রেখেও জাল খুঁজে পায়নি তুরস্ক। উল্টো ২২ শতাংশ বল পজিশন নিয়ে নিজেদের রক্ষণে প্রাচীর গড়ে তোলে প্যারাগুয়ে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন তুরস্কের ফুটবলাররা। গোলহীন থাকার আক্ষেপে চোখে জল, মুখে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন। তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘ডি’তে তিনে উঠে এসেছে প্যারাগুয়ে। ২৫শে জুন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে। সেই ম্যাচে নির্ধারিত হবে নকআউট পর্বের টিকিট পাবে কোন দল। এক ম্যাচ হাতে রেখে নকআউট শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন