ভোলার লালমোহন পৌরসভা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) আঞ্চলিক মহাসড়ক ইজারা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার নিজস্ব কোনো স্ট্যান্ড বা টার্মিনাল না থাকলেও কর্তৃপক্ষ ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের লালমোহন পৌরসভার অংশে কাল্পনিক টার্মিনাল এবং স্ট্যান্ড বানিয়ে সওজ-এর সড়ককে ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যার বিনিময়ে কথিত ইজারাদারদের টোলের নামে অবৈধভাবে চাঁদা তোলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, বাংলা ১৪৩৩ সালের হাটবাজার ও অন্যান্য ইজারা দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে পৌরসভার বিভিন্ন স্ট্যান্ডের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃজেলা ট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত মালবাহী পরিবহন স্ট্যান্ডের জন্য ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩৮৯ টাকা সর্বনিম্ন ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে এরমধ্যে পৌরসভার অভ্যন্তরে চলাচলকারী ট্রাক্টর ও ট্রলি স্ট্যান্ড পার্কিং থেকে রাস্তার উন্নয়ন কর আদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, ২০২২ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখার জারি করা এক পরিপত্রে হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং-৪৬৪০/২০২২ এর ২১ এপ্রিলের আদেশের আলোকে টার্মিনাল বা স্ট্যান্ড ছাড়া কোনো সড়ক বা মহাসড়ক থেকে টোল উত্তোলন না করার জন্য সব সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার মেয়রদের নির্দেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে পৌরসভা বিধিমালার ৯৮ ধারার ৭ নম্বর উপ-ধারায় পৌর কর্তৃপক্ষ নির্মিত টার্মিনাল ছাড়া পার্কিং ফি বা টোল আদায়ের সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে লালমোহন পৌরসভার ক্ষেত্রে এ চিত্র ভিন্ন। পৌর কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে নিজেদের নিজস্ব কোনো স্ট্যান্ড বা টার্মিনাল না থাকার পরেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের আঞ্চলিক মহাসড়ক ইজারা দিয়েছে। যার ভিত্তিতে পৌরশহরের কয়েকটি স্থান থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের নামে চাঁদা তুলছেন সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা।
সরজমিন ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল গেট এলাকার তেরছিপুলের পাশে ও সওদাগর চৌমুহনী, লাঙ্গলখালী এলাকায় ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে টোল আদায়ের দৃশ্য দেখা গেছে। তবে টোল আদায়কারীরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, পৌরসভার কাছ থেকে বৈধভাবে ইজারা নিয়েই তারা যানবাহন থেকে টোল আদায় করছেন।
যদি কোনো আইনি জটিলতা থাকে তার জবাব পৌর কর্তৃপক্ষই দিতে পারবে। এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরপ্রশাসক মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ছাড়া দরপত্র আহ্বানসহ অন্যান্য কার্যক্রম আগের প্রশাসকের সময় সম্পন্ন করা হয়েছে। জানামতে, সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমেই বিষয়টি করা হয়েছে।’
