ধর্ষণের অভিযোগে মরক্কোর ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিলো ফ্রান্সের একটি আপিল আদালত। গতকাল আদালত নিশ্চিত করেছে, মামলাটি বিচারে যাবে এবং তারকা ফুটবলারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাকিমির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সে সময় ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী পুলিশকে জানান, ২৪শে ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে তিনি হাকিমির বাসভবনে গেলে সেখানে যৌন নিপীড়নের শিকার হন। পরদিন নোজঁ-সুর-মার্ন থানায় গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে প্রসিকিউটররা হাকিমির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর সুপারিশ করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এরপর আপিল করলেও শেষ পর্যন্ত আদালত তার আবেদন নাকচ করে দেয়। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাকিমি। আপিল খারিজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। হাকিমি লেখেন, ‘বিচারব্যবস্থা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছে, ‘তুমি যদি বিখ্যাত না হতে, তাহলে এই মামলাই হতো না। আমি বছরের পর বছর নীরব থেকেছি। ভেবেছিলাম মর্যাদা বজায় রাখা, ধৈর্য ধরা এবং বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রাখলে সঠিক সিদ্ধান্তই আসবে।’ নিজেকে অন্যায্যভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন মরক্কোর অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘এখন এমন একটি গল্প বলা হচ্ছে, যা আমার নয়; যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমার পরিবার, আমার জীবন এবং সবচেয়ে বেশি সত্য।
অনেক সময় আমার মনে হয় আমি যেন খুব সহজ একটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছি। প্রথম দিন থেকেই আমি এই প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় ছিলাম, আর এখন আমি অধীর আগ্রহে বিচারের অপেক্ষা করছি।’ বর্তমানে মরক্কোর হয়ে বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাকিমি। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার তাকে মুখোমুখি হতে হবে আদালতের লড়াইয়েও।
