রোনালদো কেন নায়ক থেকে ভিলেন

রোনালদো কেন নায়ক থেকে ভিলেন

ফন্ট সাইজ:

এটাই বোধকরি নিয়তি। সকালে তারকা। বিকেলে ভিলেন। রাজনীতি বলুন, খেলার দুনিয়া বলুন। সবখানেই একই অবস্থা। সম্ভবত ফুটবল তারকাদের ভাগ্যেই এটি বেশি ঘটে। এই মুহূর্তে কথা হচ্ছে রোনালদোকে নিয়ে। তার অতীত সব ছুড়ে ফেলে দিয়ে বর্তমান নিয়েই সবাই মাতামাতি করছেন। যেমনটা হয়েছিল ম্যারাডোনার বেলায়ও, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মুকুটহীন সম্রাট থেকে অতি-সাধারণ একজন ফুটবলার এখন যেন। এতদিন যারা রোলানদোকে নিয়ে মাতামাতি করতেন, মাথায় তুলে নাচতেন এখন তারাই বলছেন—রোনালদো অতীত। দন্তবিহীন এক বাঘ। ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে গোল করতে না পেরে বিশ্বমিডিয়া তাকে একদম মাটিতে নামিয়ে এনেছে। বলা হচ্ছে, তিনি কেন আগেই নিজে থেকে সরে দাঁড়ালেন না। অথচ খেলার আগ পর্যন্ত এমন মন্তব্য কেউ করেননি। পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোর ঝুলিতে কী-ই না ছিল! তিনি তো একসময় মেসিরও উপরে ছিলেন। বিশ্বমিডিয়ায় প্রতিনিয়ত শিরোনাম হতেন। পর্তুগিজ কোচ রবার্তো মার্টিনেজ ঝুঁকি নিতে চাননি। একদিকে পর্তুগিজ জনগণ, অন্যদিকে কোটি কোটি ফুটবলভক্ত। সবাই তো রোনালদোকেই চাইছিলেন। মেসির বেলায় বয়স ফ্যাক্টর নয়, কিন্তু রোনালদোকে বয়স আটকে দিয়েছে। তিনি এখন ৪১-এ। মেসির তিন বছরের বড়। মেসি দুর্দান্ত ফর্মে। রোনালদোর ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ। আগের দিন তার সতীর্থ মেসি, এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্দ গোল করে একটা মানসিক চাপ তৈরি করেন তার জন্য। রোনালদো বলের পেছনে ছুটেছেন পর্তুগিজদের জন্য নয়। বলা চলে নিজের জন্য। মেসিদের সাফল্যগাঁথা তিনি ছুঁতে চেয়েছিলেন। গোল তাকে করতেই হবে। ফরাসি ফুটবল তারকা থিয়েরি অঁরি রোনালদোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। ফক্স টেলিভিশনে তিনি ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন। তার মতে, পর্তুগালের আক্রমণভাগকে সাবলীলভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করার চেয়ে রোনালদো ব্যক্তিগত গোলের খোঁজেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন।


লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্দের দুর্দান্ত গোল করার পারফরম্যান্সে ভরা এক ব্লকবাস্টার ম্যাচের দিন সবাই অসাধারণ গোল করে শিরোনাম হয়েছেন। বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি তারকা অঁরির মন্তব্য— কেন যেন মনে হয়, রোনালদো মাঠে নেমেছিলেন তাদের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার তীব্র চাপে। এটি খেলার স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাকেও কিছুটা আচ্ছন্ন করে। অঁরি আরও বলেছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—দয়া করে সবাই ঘরে বসে এটা বুঝুন, দলকে গোল করতে হবে, আপনাকে নয়। কারণ সে (একজন খেলোয়াড়) গোল করতে চায় বলে অনেক সময় সে ব্যাকপাসের পথে চলে যায়। তখন আপনি দুইজন খেলোয়াড়কে একই জায়গায় দেখতে পান। প্রতিপক্ষের জন্য ডিফেন্ড করা খুব সহজ হয়ে যায় তখন। আমার মূল কথা হচ্ছে—দলকে গোল করতে হবে, ব্যক্তিকে নয়। মাঠের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে থিয়েরি অঁরি আরও বলেছেন, রোনালদো সারাক্ষণই ব্যস্ত ছিলেন নিজেকে নিয়ে। ৪১ বছর বয়সী এই ফরওয়ার্ডের অবস্থা অনেক সময় ব্রুনো ফার্নান্দেজের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে। যিনি কিনা পর্তুগালের প্রধান সৃজনশীল শক্তি। তার ওপরেই নির্ভর করে খেলার গতি ও সুযোগ তৈরি করা। সমষ্টিগত ভারসাম্য তৈরি করতে না পারাটাই পর্তুগালের সমস্যা। তিনি আরও খোলাসা করেছেন। বলেছেন, বিশ্বকাপ জয়ের মতো বড় লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ব্যক্তিগত নামের চেয়ে দলগত কাঠামো সমন্বয়ই হতে হবে মূল শক্তি। যাইহোক, পর্তুগিজ কিংবদন্তি তারকা রোনালদোকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। ফুটবলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সত্ত্বেও তার শারীরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

ফুটবল পণ্ডিতরা বলছেন, পর্তুগিজ টিমে একটি গোল্ডেন জেনারেশনের প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও দলটি কি একমাত্র তারকার ছায়ায় আটকে যাবে? প্রশ্ন হচ্ছে- এক অসাধারণ প্রতিভাবান স্কোয়াডকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে। স্প্যানিশ খেলার পত্রিকা মার্কা বলেছে, একজন কিংবদন্তি অধিনায়কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়াটা পর্তুগিজদের জন্য একটা বড় সমস্যা। রোনালদো এখন কী করবেন। তিনি কি আবার জ্বলে উঠবেন? সেটা কি সম্ভব? আমরা সবাই জানি, ফুটবল গোলের খেলা। গোল নেই, তারকাখ্যাতিও নেই। অন্তহীন সমালোচনার মধ্যে রোনালদো কীভাবে ঘুরে দাঁড়ান—সেটাই দেখার বিষয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন