ডুমুরিয়া উপজেলায় মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে দেড় বছর ধরে চলছে পাঠদান। ১৯৯৭ সালে উপজেলার মাগুরখালী ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় কোড়াকাটা গুকুরমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ‘সোনার তরী’ করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকরা সকলেই চলে যাওয়ার পর ২০২৪ সালের ৩রা জুলাই সুজিত কুমার ভদ্র ও নীলা ঢালী ওই স্কুলে যোগদান করেন। আগস্ট মাসে দেশে পট পরিবর্তনের পর নীলা ঢালী উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ডেপুটেশনে চলে যান। সেই থেকে মাত্র একজন শিক্ষকেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম।
সরজমিন দেখা যায়, ভবনের বাইরে পতাকা উড়ছে, ভেতরে একটি কক্ষে শিক্ষক দাঁড়িয়ে দু’টি কন্যা শিশুকে পড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে বড়জন দ্বিতীয় শ্রেণির শ্রুতি রায়। অপরজন প্রাক-প্রাথমিকে পড়া অথৈ তার ছোটবোন। প্রথম শ্রেণিতে একজন অনুপস্থিত। দ্বিতীয় শ্রেণিতে দু’জনের মধ্যে একজন অনুপস্থিত। তৃতীয় শ্রেণিতে তিনজন শিক্ষার্থী। চতুর্থ শ্রেণিতে পাঁচজন ও পঞ্চম শ্রেণিতে চারজন। তারা আসবে দ্বিতীয় শিফটে। শিক্ষক সুজিত ভদ্র বলেন, একে শিক্ষক সংকট, তার ওপর যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব খারাপ। সর্বোপরি অভিভাবকরা যেখানে পড়ানোর মান ভালো, সেখানেই যাবে। এক শিক্ষক নেতা বলেন, উপজেলায় কয়েকটি স্কুলে ৮-১০ জন শিক্ষকও রয়েছেন। অফিস ইচ্ছা করলে তো সেখানে আরও একজন শিক্ষককে দিতে পারতো। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, ইতিপূর্বে একাধিক শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ’২৪ সালে দু’জন যোগদান করেন। নারী শিক্ষকের যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার চরম দুরবস্থা বিবেচনায় নিয়ে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
ডুমুরিয়ায় একজন শিক্ষক দিয়েই পাঠদান চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
