’৯০ দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ডজন খানেক মন্ত্রী-এমপি-সচিবসহ হেলিকপ্টারযোগে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের হাতীকুড়া নামক স্থানে এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশাল জনসভা শেষে ‘তিস্তা-হাতীকুড়া-ভেটেশ্বরী প্রজেক্ট ক্যানেল’ পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন। দেশের বৃহত্তর সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের উজান থেকে শুরু হয়ে হাতীবান্ধা-কালীগঞ্জ-আদিতমারী উপজেলার কালমাটী-গোবরধন হয়ে আবার তিস্তা নদীর সঙ্গে মিলিত হবে। যার সঙ্গে সংযোগ হবে মৃতপ্রায় প্রাকৃতিক বিলসমূহ হাতীকুড়া, বকসুলারখাল, হাড়ীশ্বরবিল, ভেটেশ্বরীখাল, কালীরদোলা, বিন্নাগাড়ি দোলা, নান্নার বিল, কাঞ্চন বিল, বনচৌকির বিলসহ ১৫/১৬টির বেশি বিস্তীর্ণ জলমগ্ন এলাকা। এসব এলাকা যুক্ত হয়ে তিস্তা নদীর সঙ্গে বাড়তি পানি প্রবাহ মিলিত হবে। ফলে, লালমনিরহাট জেলার কয়েক লাখ হেক্টর জলাশয় অনাবাদি ভূমি সেচের আওতায় এনে ১০ লক্ষাধিক কৃষিনির্ভর মানুষকে যুক্ত করে কৃষি খাতে ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
জানা যায়, ৯০ দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার খাল খনন কর্মসূচির আওতায় আড়াই হাজার মে.টন চাল, গম ও ২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম ধাপে খাল খননের ফলে জলমগ্নতার আংশিক উন্নয়ন সাধিত হয়। নির্মাণ করা হয় বান্দেরকুড়া এবং ভেটেশ্বরী নদীতে পানি নিষ্কাশনের জন্য দু’টি ‘ট্রান্সফরমার রেগুলেটর। চূড়ান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড মৃতপ্রায় নদী দু’টির অপার সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় এনে তিস্তা প্রজেক্ট ক্যানেল সার্কেল-২ এর আওতায় তৎকালীন তত্ত্ব¡াবধায়ক প্রকৌশলী ‘ভেটেশ্বরী সেচ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প’ সারপত্র রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর সুপারিশ ক্রমে মুখ্য প্রকৌশলী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তন হলে, তা আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন তিমিরেই তলিয়ে যায়। অপার সম্ভাবনার ‘তিস্তা প্রজেক্ট ক্যানেল-২’ বাস্তবায়ন হলে লালমনিরহাট জেলার মৃতপ্রায় সতীনদীসহ হাতীকুড়া-ভেটেশ্বরী নদী পুনঃখননের মাধ্যমে একশ’ কি.মিটার মরা নদীর সঙ্গে তিস্তা ব্যারেজের সংযোগ স্থাপন করে জেলার ৪টি উপজেলার ২ লাখ হেক্টর ভূমি আবাদি জমিতে পরিণত করে জেলার ১০ লক্ষাধিক স্বল্প আয়ের কৃষিনির্ভর মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে! ফলে, খাস জমি উদ্ধারের মাধ্যমে বছরে শতকোটি টাকা পানি নিষ্কাশন ও রাজস্ব আয় যুক্ত হবে সরকারের ভাণ্ডারে। দেশের বৃহত্তর সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা ব্যারেজ’ লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত হলেও এই জেলাবাসীর মানুষ নামমাত্র মূল্যে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে যুগের পর যুগ যুগ ধরে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালীগঞ্জ-আদিতমারী এলাকা থেকে রোকন উদ্দিন বাবুল এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। দুর্যোগ, ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু এই জেলার যোগ্য নেতা। তাদের আন্তরিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সাবেক প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্নের খালকাটা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সূচিত হবে জেলাবাসীর তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের স্বপ্নময় সুফল। অবহেলিত লালমনিরহাট জেলাবাসীর দাবি তিস্তা ব্যারেজের পানি জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহের মাধ্যমে সেচ সুবিধার অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। স্বনির্ভর হয়ে উঠবে কৃষি নির্ভরশীল লালমনিরহাট জেলার ৮০ শতাংশ মানুষ।
৩ যুগেও বাস্তবায়িত হয়নি তিস্তা প্রজেক্ট ক্যানেল প্রকল্প
শেখ আবদুল আলিম, কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) থেকে
২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
